ইবি কর্মকর্তা সমিতি নির্বাচনে বিজয়ী বাবুল-তোজাম পরিষদ

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) কর্মকর্তা সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদ ২০২৬ নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছে সম্মিলিত কর্মকর্তা ঐক্য পরিষদ তথা মঈদ বাবুল ও তোজাম পরিষদ। এতে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিসের উপ পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আব্দুল মঈদ বাবুল ২৮৫টি ভোট পেয়ে সভাপতি পদে ও কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার অফিসের জুনিয়র লাইব্রেরিয়ান তোজাম্মেল হক তোজাম ৩২৬টি ভোট পেয়ে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন।

শনিবার (৪ এপ্রিল) রাত সাড়ে দশটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মমতাজ ভবন প্রাঙ্গণে ফলাফল ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশনের সদস্য ইছরাফুল হক।

এ মঈদ বাবুল-তোজাম পরিষদের অন্যান্য নির্বাচিত সদস্যরা হলেন- সহ-সভাপতি পদে মেডিক্যাল সেন্টারে উপ-রেজিস্ট্রার ইয়ারুল ইসলাম (২৯৭) ও এস্টেট অফিসের উপ-রেজিস্ট্রার ড. ওয়াহীদুজ্জামান (২২০)। যুগ্ম-সম্পাদক পদে ট্রেজারার অফিসের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ (২৫১), কোষাধ্যক্ষ পদে আল কুরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের উপ-রেজিস্ট্রার জাহিদুল ইসলাম (২৪৮), প্রচার ও দপ্তর সম্পাদক পদে পরিবহন অফিসের উপ-রেজিস্ট্রার আরিফ হোসেন তুহিন (২৩১), সাংস্কৃতিক সাহিত্য-পত্রিকা ও ক্রীড়া সম্পাদক পদে হিসাব বিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের জুনিয়র লাইব্রেরিয়ান আব্দুর রাজ্জাক (২৭৭) এবং মহিলা বিষয়ক সম্পাদক পদে অর্থ ও হিসাব বিভাগের উপ-পরিচালক সুলতানা পারভীন (২৭৭)। এছাড়া সদস্য পদে থাকছেন শহিদুল ইসলাম শহিদ (৩৩৩), আবু জাফর আদম (২০৮), জাহাঙ্গীর আলম (২৬৩), সাইদুর রহমান (২৫০), ও আমিরুল ইসলাম (২৬৫)। তবে, লতিফ-রিপু পরিষদের পরিবহন অফিসের শাখা কর্মকর্তা জাকির হোসেন ২২৫টি ভোট পেয়ে সদস্য পদে নির্বাচিত হয়েছেন।

ইবি কর্মকর্তা সমিতির নব-নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক তোজাম্মেল হক তোজাম বলেন, আজকে উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন আয়োজন-সহ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার পিছনে দায়িত্বশীল সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। আজকে ৪৮৩ জন কর্মকর্তাবৃন্দ যে দায়িত্বভার আমাদের কাঁধে তুলে দিয়েছেন তা অবশ্যই অক্ষরে অক্ষরে পালন করব। এই আমানত আমরা খেয়ানত করব না।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান প্রশাসনের কাছ থেকে আমাদের অনেক দাবি আছে। সেই ন্যায্য দাবি আদায়ের লক্ষ্যে কর্মকর্তাদের পাশে এই কর্মকর্তা সমিতি অবশ্যই থাকবে।

ইবি কর্মকর্তা সমিতির নব-নির্বাচিত সভাপতি মঈদ বাবুল বলেন, অনেকদিন কর্মকর্তা সমিতির নির্বাচন হয় নাই। কর্মকর্তারা তাদের অধিকার ও ন্যায্য দাবি থেকে বঞ্চিত ছিল। নব-নির্বাচিত কর্মকর্তা সমিতির সদস্যবৃন্দ তাদের অধিকার বাস্তবায়ন করবে। যারা আমাদেরকে এই দায়িত্ব দিয়েছে তাদের সকলের অর্থাৎ ৪৮৩ জন কর্মকর্তারা যে কোন সমস্যায় পড়লে কর্মকর্তা সমিতির বর্তমান নেতৃবৃন্দ অবশ্যই তাদের পাশে ঢাল হিসেবে দাঁড়াবে।

তিনি আরও বলেন, এই পরিষদ কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা দেবে, কর্মকর্তাদের মধ্যে কোন দলীয়করণ করবে না। দুর্নীতি দমনে সচেষ্ট থাকবে। এবং এই বিশ্ববিদ্যালয়ে দুর্নীতির পিছনে যারা থাকবে তাদের বিরুদ্ধে কর্মকর্তা সমিতি রুখে দাঁড়াবে।

উল্লেখ্য, এবার দুই প্যানেল নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। একটি সাধারণ সম্মিলিত কর্মকর্তা পরিষদের প্যানেল যা সম্মিলিত কর্মকর্তা ঐক্য পরিষদ নামে পরিচিত। অন্যটি জাতীয়তাবাদী বিএনপি ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী পরিষদের প্যানেল যা রিপু-লতিফ প্যানেল নামে ঘোষিত।

শেয়ার করুন:-
শেয়ার