ক্যাটাগরি: আন্তর্জাতিক

নতুন পথে হরমুজ প্রণালী পার হলো ভারতীয় জাহাজসহ ৪টি জাহাজ

বিশ্বজুড়ে জাহাজ চলাচলের চাপ কিছুটা কমতে পারে- এমন ইঙ্গিত মিলেছে। হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য একটি নতুন পথ ব্যবহারের তথ্য সামনে এসেছে। এটি প্রচলিত রুট নয়। ইরান সম্প্রতি যে পথ চালু করেছিল, সেটিও নয়।

এনডিটিভি ডেটাফাইয়ের বিশ্লেষণ করা এআইএস (অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম) ও রিমোট সেন্সিং ডেটায় দেখা গেছে, অন্তত চারটি বড় জাহাজ এই নতুন পথ ব্যবহার করেছে। এসব জাহাজে তেল, এলএনজি ও সাধারণ পণ্য ছিল। নতুন পথটি আন্তর্জাতিক জলসীমা এড়িয়ে ওমানের জলসীমার ভেতর দিয়ে গেছে। এমনটাই জানা গেছে এনডিটিভির প্রতিবেদনে।

মার্শাল আইল্যান্ডসের পতাকাবাহী হাবরুত ও ঢালকুট নামক বড় দুটি তেলবাহী জাহাজ এবং পানামার পতাকাবাহী সোহার এলএনজি জাহাজ প্রথমে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাস আল খাইমাহর কাছে ওমানের জলসীমায় প্রবেশ করে। পরে মুসান্দাম উপদ্বীপের কাছে গিয়ে তারা নিজেদের অবস্থান জানানোর সিগন্যাল বন্ধ করে দেয়। ৩ এপ্রিল এসব জাহাজকে মাস্কাট উপকূল থেকে প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার দূরে দেখা যায়।

সামুদ্রিক বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ট্যাঙ্কারট্র্যাকার্স জানিয়েছে, ঢালকুট ও হাবরুত জাহাজে যথাক্রমে ২০ লাখ ব্যারেল সৌদি ও আমিরাতি অপরিশোধিত তেল ছিল।

সোহার জাহাজটি ২১ মার্চ আল হামরিয়াহ বন্দর থেকে ছেড়েছিল। তবে এতে কোনো পণ্য ছিল কি না, তা নিশ্চিত নয়। এআইএস তথ্যে দেখা গেছে, জাহাজটি আংশিক বোঝাই ছিল।
এই তিনটি জাহাজের পেছনে ছিল ভারতের পতাকাবাহী একটি কার্গো জাহাজ। এআইএস তথ্যে এর নাম এমএসভি কিউবা এমএনভি ২১৮৩।

এটি ৩১ মার্চ দুবাই থেকে যাত্রা শুরু করে। সর্বশেষ অবস্থান পাওয়া গেছে ওমানের দিব্বা বন্দর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরের খোলা সাগরে। জাহাজটি বোঝাই ছিল কি না বা কোথায় যাচ্ছিল, তা জানা যায়নি।
বাধা ও ইরানের ‘টোল বুথ’

২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলার কয়েক দিনের মধ্যেই ইরান জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করে। বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ এই প্রণালী দিয়ে যায়। ফলে এই পরিস্থিতিতে ভারতসহ অনেক দেশের জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে।

এরপর তেহরান জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণে নতুন একটি দীর্ঘ পথ চালু করে। এই পথ ইরানের জলসীমার ভেতর দিয়ে যায়। কেশম ও লারাক দ্বীপের মাঝের সরু পথ ব্যবহার করা হয় এতে। খবরে বলা হয়েছে, ইরানের বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি) প্রতিটি জাহাজকে আলাদা করে অনুমতি দেয়। তারা দ্বীপের নৌঘাঁটি থেকে জাহাজের পরিচয় সরাসরি দেখে যাচাই করে।

আরও জানা গেছে, একটি জাহাজ যত ব্যারেল তেল বহন করে, প্রতি ব্যারেলে ১ ডলার করে টোল নেয় তেহরান।

এই জাহাজগুলো চলাচলের সময়ই কেশম দ্বীপে আইআরজিসির প্রধান নৌঘাঁটিতে বড় আগুন লাগে। বিশ্লেষকদের ধারণা, অন্তত চারটি গুদামে বিমান হামলার কারণেই এই আগুন লাগে।

শেয়ার করুন:-
শেয়ার