পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে গত ২২ ফেব্রুয়ারি নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়। চলমান এ সংঘর্ষ বন্ধে চীনের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের মধ্যে শান্তি আলোচনা চলছে। আলোচনায় অংশ নিতে দুই দেশের প্রতিনিধি দল বর্তমানে চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল শিনচিয়াংয়ের উরুমচিতে রয়েছে। শুক্রবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘পাকিস্তান ও আফগানিস্তান গুরুত্বের সঙ্গেই চীনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। এছাড়া দুই দেশের প্রতিনিধি দল আবার আলোচনায় বসার আগ্রহ জানিয়েছে, যা ইতিবাচক উন্নতি।’
এর আগে ফেব্রুয়ারিতে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে ইসলামাবাদ ও কাবুলে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য যোগাযোগ করা হয়। এছাড়া মার্চে দুই দেশেই বিশেষ প্রতিনিধি পাঠিয়েছিল চীন।
মাও নিং জানান, উপযোগী শর্তের ভিত্তিতে শান্তি প্রতিষ্ঠায় বেইজিং দুই পক্ষের সঙ্গে গভীর যোগাযোগ রাখছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আনদরাবি জানান, আফগানিস্তানের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে ইসলামাবাদ থেকে একটি প্রতিনিধি দল উরুমচিতে গিয়েছে।
ইসলামাবাদে মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, পাকিস্তান ‘স্থায়ী সমাধানের’ প্রত্যাশা করছে। আলোচনায় ইসলামাবাদের মৌলিক উদ্বেগের বিষয়ে জানানো হবে।
আনদরাবি বলেন, ‘শান্তি প্রতিষ্ঠার মূল প্রক্রিয়া আফগানিস্তানের ওপর নির্ভর করছে। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তাদের ভূমি ব্যবহার করে সন্ত্রাস চালানো গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও বিশ্বাসযোগ্য পদক্ষেপ নিতে হবে।’
অপরদিকে বৃহস্পতিবার কাবুলে আফগানিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আবদুল কাহহার বলখি এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, পাকিস্তানের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে চীনের অনুরোধে আফগান একটি প্রতিনিধি দল উরুমচিতে গিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ইসলামি আমিরাত (আফগানিস্তানের বর্তমান আনুষ্ঠানিক নাম) ভারসাম্য ও নৈতিকতার সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিচ্ছে। প্রতিবেশীসুলভ উত্তম আচরণই কাবুলের মূল লক্ষ্য।
বলখি বলেন, ‘ইসলামি আমিরাত এ বৈঠকে ভারসাম্য ও নৈতিকতাপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে অংশ নিচ্ছে। কাবুল প্রত্যাশা করছে অপরপক্ষও উত্তম প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের ভিত্তিতে বিস্তৃত ও দায়িত্বশীল আলোচনায় অংশ নেবে, যাতে উভয়পক্ষের বাণিজ্য সম্পর্ক দৃঢ় হয় এবং নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কার্যকর ব্যবস্থা চালু হয়।’
গত বছরের অক্টোবরে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সীমান্ত সংঘর্ষ হয়। পরে কাতার, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা হয়।
নতুন করে ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে আবার সংঘর্ষে জড়ায় ইসলামাবাদ ও কাবুল। ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে, আফগান ভূমি ব্যবহার করে পাকিস্তানে সন্ত্রাস চালানো গোষ্ঠীগুলোকে দমনে কাবুল কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। অপরদিকে কাবুলের পক্ষ থেকে এ অভিযোগ অস্বীকার করা হচ্ছে।