ক্যাটাগরি: জাতীয়

পে স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে ৬ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা

দেশের ৬৪ জেলায় পে স্কেলের দাবিতে কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সমিতির আহবায়ক আবদুল মালেক এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান।

বুধবার (১ এপ্রিল) পে স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে আগামী ৫ থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত সারা দেশে কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

এদিন, বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আহবায়ক আব্দুল মালেক এবং সদস্যসচিব আশিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কর্মসূচি ঘোষণার কথা জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালে ৮ম পে স্কেল বাস্তবায়নের পর এখন পর্যন্ত নতুন কোনো পে স্কেল ঘোষণা করা হয়নি। এ সময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম, বাসাভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা, গ্যাস, পানি ও বিদ্যুতের খরচ অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে।

সংগঠনটির নেতারা মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দ্রুত ৯ম পে স্কেল বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। তারা আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এ খাতে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রেখে দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানান।

এদিকে, দাবি আদায়ে দেশব্যাপী কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে আছে আগামী ৫ এপ্রিল থেকে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের প্রতিটি জেলা শহরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান। এ ছাড়া ১০ এপ্রিল থেকে উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় শহরে শান্তিপূর্ণ আলোচনাসভা ও প্রতিনিধি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা আছে।

সংগঠনের আহবায়ক আব্দুল মালেক এবং সদস্যসচিব আশিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দ্রুত নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি কামনা করা হচ্ছে।

এদিকে, নবম পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ ও বাস্তবায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ চেয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি। একই সঙ্গে সংগঠনটি পে স্কেল বাস্তবায়নে ১০ দাবি উত্থাপন করেছে। রবিবার (২৯ মার্চ) ‍প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো এক চিঠি থেকে এ তথ্য জানা যায়।

সংগঠনটির উত্থাপিত ১০ দাবি হলো-

১. অবিলম্বে নবম পে স্কেল বাস্তবায়ন করা।
২. সার্ভিস বেনিফিটসহ টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহাল।
৩. ব্লক পোস্ট সমস্যা সমাধান করে পদোন্নতির পথ সুগম করা।
৪. কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পরিবারের স্বাস্থ্য ও আর্থিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি।
৫. কর্মকর্তা-কর্মচারীর দক্ষতা ও মানসিক কল্যাণ বৃদ্ধি।
৬. স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে অযাচিত পোস্টিং ও পদোন্নতির বাধা দূর করা।
৭. সমন্বিত অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা : সমস্যা সমাধানের জন্য দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা।
৮. নাগরিক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দৈনন্দিন জীবন ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
৯. প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন প্রগ্রাম : কর্মকর্তা-কর্মচারীর দক্ষতা ও মানসিক কল্যাণ বৃদ্ধি করা।
১০. স্থানান্তর ও পোস্টিং নীতি : স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে অযাচিত পোস্টিং ও পদোন্নতির বাধা দূর করা।

গত বছরের ২৭ জুলাই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়নের লক্ষ্যে ২১ সদস্য নিয়ে বেতন কমিশন গঠন করা হয়। সাবেক অর্থসচিব ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খানকে কমিশনের প্রধান করা হয়। কমিশনকে ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়।

শেয়ার করুন:-
শেয়ার