ইরানে একটি বিশাল বিস্ফোরণের ভিডিও শেয়ার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ভোরে ইসফাহান শহরে ঘটেছে। ফুটেজে ধারাবাহিক বিস্ফোরণ দেখা যায়, যার পরপরই বিশাল অগ্নিকাণ্ডে ভোরের আকাশ কমলা আভায় আলোকিত হয়ে ওঠে।
ট্রাম্প ভিডিওটির কোনো প্রেক্ষাপট দেননি, তবে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে যে এটি ইসফাহানে একটি বড় অস্ত্রাগার লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার দৃশ্য। প্রায় ২৩ লাখ জনসংখ্যার এই শহরটি বদর সামরিক বিমানঘাঁটির জন্যও পরিচিত। তবে ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
মার্কিন এক কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ইসফাহানের ওই অস্ত্রাগারে প্রায় ২ হাজার পাউন্ড (প্রায় ৯০৭ কেজি) ওজনের ‘বাঙ্কার বাস্টার’ বোমা নিক্ষেপ করেছে।
তিনি বলেন, ‘এই হামলায় বিপুল পরিমাণ বাঙ্কার বাস্টার বা পেনিট্রেটর মিউনিশন ব্যবহার করা হয়েছে।’
প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলায় একাধিক শক্তিশালী সেকেন্ডারি বিস্ফোরণ ঘটে, যা বিশাল অগ্নিগোলক ও শকওয়েভ তৈরি করে। যুদ্ধ যখন দ্বিতীয় মাসে প্রবেশ করেছে, ঠিক সেই সময় এই হামলার কারণে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সময়ে পাকিস্তান, মিশর, সৌদি আরব ও তুরস্ক সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক সমাধান খুঁজতে বৈঠক করেছে।
সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরান প্রায় ৫৪০ কেজি উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ ইসফাহানের একটি ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় সরিয়ে থাকতে পারে। গত বছর ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’-এর আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলায়ও এই শহরটি লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল, যেখানে মূলত পারমাণবিক স্থাপনাগুলো টার্গেট করা হয়।
ট্রাম্পের হুমকির পরই এই হামলার খবর এলো। সোমবার (৩০ মার্চ) তিনি বলেন, যুদ্ধ বন্ধে দ্রুত কোনো চুক্তি না হলে ইরানের জ্বালানি সম্পদ, পারমাণবিক স্থাপনা ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থাসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস করে দেয়া হবে।
ট্রাম্প আরও বলেন, ইরান যদি আলোচনায় সমঝোতায় না পৌঁছায় এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে না দেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জ্বালানি স্থাপনাগুলো ধ্বংস করবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু অভিযোগ করে আসছেন যে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। তবে জাতিসংঘের পারমাণবিক তদারকি সংস্থা এই দাবি সমর্থন করেনি।
সূত্র: এনডিটিভি