ভারতের বিলিয়নিয়ার মুকেশ আম্বানির বিনোদনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান জিওস্টার বাংলাদেশে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) সম্প্রচারের চুক্তি বাতিল করেছে। এই সম্পর্কিত এক নথির বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির স্থানীয় অংশীদার নির্ধারিত সময়মতো অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গত জানুয়ারিতে ভারতের ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআই’র নির্দেশনা অনুযায়ী আইপিএলের ফ্র্যাঞ্চাইজি কলকাতা নাইট রাইডার্স বাংলাদেশি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে দল থেকে বাদ দেয়। যার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ আইপিএল সম্প্রচার নিষিদ্ধ করে। সেই সময় বাংলাদেশে এক হিন্দু ব্যক্তির হত্যাকাণ্ড ঘিরে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছিল।
যদিও বাংলাদেশ সরকার এখন এই নিষেধাজ্ঞা পর্যালোচনা করছে এবং শনিবার (২৮ মার্চ) জানিয়েছে ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের মতামতের ওপর নির্ভর করবে, তবে জিওস্টারের এই চুক্তি বাতিলের ফলে অবস্থান পরিবর্তন হলেও চলতি মৌসুমে আইপিএলের কোনো স্থানীয় সম্প্রচারকারী থাকবে না।
১৭ ফেব্রুয়ারির এক চিঠিতে জিওস্টার জানায়, ‘চুক্তিটি তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল করা হলো।’ এই চিঠি পাঠানো হয় বাংলাদেশের সম্প্রচারকারী টিস্পোর্টসকে, যারা ২০২৩ থেকে ২০২৭ মৌসুম পর্যন্ত আইপিএলের সম্প্রচার অধিকার সাবলাইসেন্স নিয়েছিল।
চুক্তি বাতিলের কারণ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি উল্লেখ করেছে—অংশীদারের ‘চুক্তিতে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী অর্থ পরিশোধে ধারাবাহিক ব্যর্থতা।’
রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ ও দ্য ওয়াল্ট ডিজনি কোম্পানির যৌথ উদ্যোগ জিওস্টার এ বিষয়ে রয়টার্সের প্রশ্নের জবাব দেয়নি। একইভাবে টি-স্পোর্টস ও বাংলাদেশের ক্রীড়া ও তথ্য মন্ত্রণালয়ও কোনো মন্তব্য করেনি।
১৮.৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যমানের আইপিএল বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ক্রিকেট লিগ, যা বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যেও অত্যন্ত জনপ্রিয়। গত ২৮ মার্চ আইপিএলের নতুন মৌসুম শুরু হয়েছে।
২০২৪ সালের আগস্টে ঢাকায় রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক কিছুটা টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণঅভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে নয়াদিল্লীতে চলে যান, যা দুই দেশের পূর্বের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে প্রভাব ফেলে।
তবে সম্পর্ক উন্নতির ইঙ্গিতও দেখা যাচ্ছে। নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফেব্রুয়ারিতে বলেছেন, পারস্পরিক সম্মান ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে প্রতিবেশীদের সঙ্গে বাংলাদেশ সম্পর্ক বজায় রাখবে।
এছাড়া, জিওস্টারের ১৭ ফেব্রুয়ারির আরেকটি চিঠিতে দেখা গেছে, একই ধরনের অর্থ পরিশোধে ব্যর্থতার কারণে তারা বাংলাদেশে ওমেন’স প্রিমিয়ার লিগের সম্প্রচার চুক্তিও বাতিল করেছে।