প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ‘করের হার না বাড়িয়ে করের আওতা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আগামী চার মাসের মধ্যে এর ফল দৃশ্যমান হবে। আমরা একটি ড্যাশবোর্ড চালু করেছি, যেখানে রিয়েল-টাইম ডেটা পাওয়া যাবে।’
তিনি বলেন, ‘এনবিআর এরই মধ্যে তিনটি টাস্কফোর্স গঠন করেছে, যারা দিন-রাত কাজ করছে।’
রবিবার (২৯ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভবনে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান। এ সময় এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন।
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ‘দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সর্বজনীন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এ ধরনের কর্মসূচি নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই অনেকের মধ্যে শঙ্কা ও উদ্বেগ রয়েছে, বিশেষ করে অর্থায়ন নিয়ে।
তবে সরকার দেশীয় পন্থায়, অভ্যন্তরীণ সম্পদ সংগ্রহের মাধ্যমে এই কর্মসূচির অর্থায়ন নিশ্চিত করবে।’
রাজনৈতিক বিবেচনায় ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এটি চালুর আগে বিভিন্ন পর্যায়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। প্রাপ্ত স্কোরের ভিত্তিতেই সুবিধাভোগী নির্বাচন করা হয়েছে এবং এখানে কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর সুযোগ ছিল না, যা অতীতের ভাতা ব্যবস্থায় দেখা গেছে।’
কর অব্যাহতি কমানো প্রসঙ্গে তিতুমীর বলেন, ‘দেশে দীর্ঘদিন ধরে এসআরওনির্ভর সুবিধা দেওয়ার একটি সংস্কৃতি ছিল, সেখান থেকে বেরিয়ে আসা গেছে।
রাজস্ব বাড়াতে তিনটি বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে—অপচয় ও অপ্রয়োজনীয় রিবেট কমানো, পারফরম্যান্সভিত্তিক প্রণোদনা চালু এবং কর ফাঁকি রোধ।’
তিনি আরো বলেন, ‘আগে বিভিন্নভাবে সুবিধা দেওয়ার সংস্কৃতি ছিল। এখন আমরা পারফরম্যান্স বেজড ইনসেনটিভে যাচ্ছি। এতে রাজস্ব আয় বাড়বে এবং অর্থনীতিতে শৃঙ্খলা আসবে।’
এনবিআরকে দুই ভাগ করার সিদ্ধান্তকে যৌক্তিক আখ্যা দিয়ে এ বিষয়ে আলোচনা করে সামনে এগোনো হবে বলে জানান রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
অন্তর্বর্তী সরকারের আগে একের পর এক তেল-গ্যাসের দাম বাড়ানো হলেও জনগণের সরকার মূল্যস্ফীতির চিন্তা করে এমনটা করবে না বলেও জানান তিনি।