ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা ঘিরে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে বৈঠকে বসেছে চার প্রভাবশালী মুসলিম দেশ।
রোববার (২৯ মার্চ) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের প্রেক্ষাপটে আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে। এর অংশ হিসেবে পাকিস্তান একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আয়োজন করে। এই বৈঠকে তুরস্ক, সৌদি আরব এবং মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা অংশ নেন। আলোচনার মূল লক্ষ্য ছিল চলমান উত্তেজনা প্রশমিত করা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।
চলমান সংঘাতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান। দেশটি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যমে পরোক্ষ আলোচনা এগিয়ে নিচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় তুরস্ক ও মিশরও সহায়তা করছে।
পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চলছে। এমনকি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যেও সরাসরি যোগাযোগ হয়েছে বলে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে।
এদিকে, পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রস্তাব ইরানের কাছে পৌঁছে দিলেও তা প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। ইরান জানিয়েছে, তারা নিজেদের শর্ত ও সময় অনুযায়ীই যুদ্ধের অবসান চায়। যুদ্ধ বন্ধের জন্য ইরান পাঁচটি শর্ত দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আগ্রাসন বন্ধ, ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা এবং হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।
অন্যদিকে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ শনিবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে ফোনে কথা বলেন। গত পাঁচ দিনের মধ্যে এটি তাদের দ্বিতীয় আলোচনা, যেখানে উত্তেজনা প্রশমিত করা ও সংলাপ বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
ফোনালাপে পাকিস্তান ইরানের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে এবং চলমান ইসরায়েলি হামলার নিন্দা জানায়। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রসহ উপসাগরীয় ও মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়ে সংলাপ ও উত্তেজনা হ্রাসের প্রচেষ্টা চালানোর কথাও জানানো হয়েছে।
ইরানের প্রেসিডেন্টও আলোচনার জন্য পারস্পরিক আস্থা তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।