ক্যাটাগরি: জাতীয়

চীনে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন

চীনের বেইজিংয়ে অবস্থিত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের দূতাবাস মহান (২৬শে মার্চ) বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে উদযাপন করেছে।

দিবসটি উপলক্ষে দূতাবাস প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রদূত মো. নাজমুল ইসলাম, দূতাবাসের কূটনৈতিক কর্মকর্তা এবং অন্যান্য কর্মচারীরা। এরপর পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত এবং রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়।

রাষ্ট্রদূত নাজমুল ইসলাম তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন নিজেদের জীবন উৎসর্গকারী লক্ষ লক্ষ শহীদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। একই সাথে তিনি একটি সমৃদ্ধ ও মর্যাদাপূর্ণ জাতি গঠনে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

তিনি উল্লেখ করেন যে, জুলাই-আগস্ট ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান এবং চলতি বছরের ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পর, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। এই সরকার ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ বা ‘বাংলাদেশই প্রথম’—এই রূপকল্পের আওতায় ন্যায়বিচার, সুশাসন এবং আইনের শাসনের মাধ্যমে জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি জাতিসংঘের বহুপাক্ষিক শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের বিষয়টিও বিশেষভাবে তুলে ধরেন এবং জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদের জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রার্থিতার কথা উল্লেখ করেন।

সন্ধ্যায় বেইজিংয়ের স্থানীয় একটি হোটেলে একটি কূটনৈতিক সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। এতে চীনের ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা, বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশনের প্রধানগণ, চীনা ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং প্রবাসী বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে একটি সাংস্কৃতিক কর্মসূচিরও আয়োজন করা হয়। এতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা দেশাত্মবোধক গান, লোকসংগীত এবং নৃত্য পরিবেশন করে। পাশাপাশি বাংলাদেশের পর্যটন, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বিষয়ক ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করা হয়। যা দেশটির সমৃদ্ধ ঐতিহ্য এবং চীনের সাথে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধিষ্ণু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রতিফলন ঘটায়।

শেয়ার করুন:-
শেয়ার