দুর্ঘটনার পরও থামেনি স্বপ্ন, ইবিতে বিশেষ বিবেচনায় পরীক্ষা দিলেন হৃদয়

সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়েও নিজের স্বপ্নকে থামতে দেননি হৃদয় সাহা। অদম্য মনোবল নিয়ে তিনি বিশেষ বিবেচনায় ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের গুচ্ছভুক্ত (GST) স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। শুক্রবার (২৭ মার্চ) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) কেন্দ্রে ‘সি’ ইউনিটের পরীক্ষায় অংশ নিতে উপস্থিত হন এই ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ ভবনে সকাল ১১টা থেকে শুরু হওয়া এই পরীক্ষা বেলা ১২টা পর্যন্ত চলে। তবে সড়ক দুর্ঘটনার কারণে ওই পরিক্ষার্থীর আনুমানিক ২০ মিনিট দেরি হয় বলে জানা গেছে। এসময় বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল নিয়ে যেতে চাইলে তিনি পরীক্ষা দিবেন বলে জানান। পরবর্তীতে বিশেষ বিবেচনায় তাকে পরীক্ষা দিতে দেওয়া হয়।

দায়িত্বরত বিএনসিসি ক্যাডেটগণ জানান, পরিক্ষার্থীকে অতিমাত্রায় কাঁপতে দেখা যায়। এবং তার পায়ে ইনজুরির কারণে হাঁটতে পারছিল না। পরবর্তীতে আমরা কাঁধে ভর করে পরীক্ষা কক্ষে পৌঁছে দিয়ে আসি। পরীক্ষা শেষে তাকে নিরাপদে পৌঁছে দিয়ে আসি।

বিলম্বে উপস্থিত পরীক্ষার্থীর বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, “ঘটনাটা হলো তাকে অবশ্যই শুরুতে আসতে হবে। এরপরে নিয়ম হলো সে ঢুকতে পারবে না। কিন্তু কনসিডারেশনের সুযোগ আছে। সেই কনসিডারেশনের তো একটা নিয়ম আমরা দিয়েছি।

বিশেষ প্রেক্ষাপটে, দেখা গেল আনঅ্যাভয়েডেবল কোনো সারকামস্ট্যান্স যদি উদ্ভব হয়, যা আসলে কোনোভাবেই এড়ানোর সুযোগ ছিল না—সেক্ষেত্রে আমরা তাকে পরীক্ষার সুযোগ দিয়েছি। আর স্বেচ্ছায় আসলে তো সেটা আমরা কখনো অ্যালাও করবো না।”

উল্লেখ্য, সি ইউনিট পরীক্ষায় কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহসহ পার্শ্ববর্তী চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও রাজবাড়ী জেলা থেকে ভর্তিচ্ছু পরীক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলী এবং ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হকসহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দ পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।

এমএন/এমএসএ

শেয়ার করুন:-
শেয়ার