বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঈদ উপলক্ষে একে অপরকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। গত শুক্রবার মোদিকে লেখা এক চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই পবিত্র উপলক্ষটি দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের বন্ধন এবং জনগণের মধ্যে সম্পর্ককে আরো শক্তিশালী করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চিঠিতে বলেন, ‘ঈদুল ফিতর একটি অত্যন্ত আনন্দের উৎসব। এই উৎসব মানুষকে সহানুভূতি, সংহতি ও সম্প্রীতির মতো চিরন্তন মূল্যবোধের কথা মনে করিয়ে দেয়।’
তিনি আরো বলেন, ‘এই উৎসব ভাগাভাগি ও উদারতার মাধ্যমে বিভিন্ন সম্প্রদায়কে একত্রিত করে। এই পবিত্র উপলক্ষ আমাদের জনগণ এবং বিশ্বজুড়ে সব মানুষের জন্য শান্তি, সমৃদ্ধি ও সুখ বয়ে আনুক।’ এর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঈদ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বাংলাদেশের মানুষকে শুভেচ্ছা জানান, এরপরই এই চিঠি পাঠানো হয়।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আরো একটি চিঠিতে বলেছেন, ‘পুরনো সমস্যাগুলো পেছনে ফেলে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।’
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, বিপুল ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৬ ফেব্রুয়ারির ওই চিঠিতে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন। প্রথমত, তিনি দুই দেশের ‘ঐতিহাসিক ও দীর্ঘস্থায়ী’ সম্পর্কের ওপর জোর দেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘অভিন্ন ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ভূগোলের কারণে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে বাংলাদেশ খুবই গুরুত্ব দেয়।’ তার মতে, ভারত ও বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে অনেক মিল রয়েছে এবং তাদের সম্পর্কও গভীর।
দ্বিতীয়ত, উভয় দেশের এমনভাবে বিষয়গুলোর সমাধান করা প্রয়োজন, যাতে সাধারণ মানুষের কল্যাণ হয়। তিনি চিঠিতে বলেন, “এর মাধ্যমে উভয় দেশ তাদের অভিন্ন স্বার্থে অনেক কিছু অর্জন করতে পারে। ঢাকা মর্যাদা, সমতা, পারস্পরিক বিশ্বাস ও শ্রদ্ধা এবং ‘সুবিধা-বণ্টনের’ ভিত্তিতে সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে আগ্রহী।”
তৃতীয়ত, প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে আরো ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ বাড়াতে শপথ নেওয়ার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই পাঠানো চিঠিতে তারেক রহমান বলেন, তিনি ভারতের ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’ রূপকল্প সম্পর্কে জানেন।
তিনি বলেন, ‘নেতাদের উচিত সহযোগিতামূলক সম্পর্ক জোরদার করা, যাতে দীর্ঘ সময় ধরে সবার জন্য শান্তি, সম্প্রীতি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা যায়। ’ তিনি ‘বিকশিত ভারত’-এর কথাও উল্লেখ করেন, যা গুরুত্বপূর্ণ।
কারণ, ভারত সরকার এই পরিকল্পনার মাধ্যমে মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে উন্নয়নমূলক অংশীদারিত্ব আরো বাড়াতে কাজ করছে এবং এটিকে তাদের পররাষ্ট্রনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত করছে।