ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। ট্রেনের জন্য প্লাটফর্মজুড়ে হাজারো মানুষ অপেক্ষা করছেন, যার বড় একটি কারণ বগুড়ার সান্তাহারে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের দুর্ঘটনা।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকালে স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি প্লাটফর্মে যাত্রীদের দীর্ঘ সারি। কেউ বেঞ্চে বসে, কেউ দাঁড়িয়ে, আবার কেউ ব্যাগপত্রে ভর দিয়ে সময় পার করছেন। অনেকেই সময় কাটাতে বন্ধুদের সঙ্গে খোশগল্পে মেতেছেন, আবার অনেকে অনিশ্চয়তায় দুশ্চিন্তায় সময় গুনছেন। সবার চোখে একটাই প্রত্যাশা, কখন আসবে তাদের কাঙ্ক্ষিত ট্রেন। সেই ট্রেনে চড়ে ফিরবেন বাড়ি।
অপেক্ষমাণ যাত্রীদের মধ্যে কেউ বিলম্বিত ট্রেনের যাত্রী, আবার কেউ নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই এসে অবস্থান নিয়েছেন প্লাটফর্মে, যেন কোনোভাবেই ট্রেন মিস না হয়। ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভিড় আরও বাড়ছে।
এদিকে প্লাটফর্মে বিপুল সংখ্যক যাত্রী থাকলেও তুলনামূলকভাবে অনেকেই ট্রেনে উঠতে পারছেন স্বাচ্ছন্দ্যে। প্লাটফর্মে থাকা বেশিরভাগ যাত্রীই নীলসাগর এক্সপ্রেস ও একতা এক্সপ্রেসের। এ ছাড়া অন্যান্য ট্রেনের যাত্রীরাও রয়েছেন, তবে তাদের সংখ্যাও কম নয়।
স্টেশনে থাকা অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রী জাহিদুল ইসলাম বলেন, ভিড় এড়াতে আমরা বেলা ১১টার দিকে প্লাটফর্মে এসেছি। আমাদের ট্রেন সাড়ে এগারটায় ছাড়ার কথা। কিন্তু এসে দেখি অসংখ্য মানুষ। শুনলাম নীলসাগর ও একতা এক্সপ্রেস দেরি করছে, তাই যাত্রীসংখ্যা আরও বেড়ে গেছে।
একতা এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রী ফরিদুর রহমান বলেন, আমি সাড়ে নয়টার দিকে স্টেশনে এসেছি। আমাদের ট্রেন তো ছিল সকাল ১০টা ১০ মিনিটে। এখন শুনছি সেটা বিকেলে যাবে। এত লম্বা সময় কীভাবে থাকবো বুঝতেছি না। স্টেশনে এসে দেখি হাজার হাজার মানুষ ট্রেনের অপেক্ষায়।
এদিকে ৬ নম্বর প্লাটফর্মে দাঁড়িয়ে থাকা অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস ট্রেনের ছাদে প্লাটফর্ম থেকেই যাত্রীদের উঠতে দেখা গেছে। শুধু এই ট্রেনই নয়, আরও কয়েকটি ট্রেন ছাদেও যাত্রী নিয়ে ঢাকা ছেড়ে গেছে।
এমএন