ক্যাটাগরি: আন্তর্জাতিক

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ১০৮ ইসরায়েলি আহত

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন কেবল আগুনের লেলিহান শিখা আর সতর্ক সংকেতের (সাইরেন) শব্দে প্রকম্পিত। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র ত্রিমুখী সংঘাত এখন এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।

ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, গত মাত্র ২৪ ঘণ্টায় ইরানের পালটা হামলার জেরে অন্তত ১০৮ জন ইসরায়েলি নাগরিক আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সংঘাত শুরুর পর থেকে এটি ইসরায়েলের অভ্যন্তরে সাধারণ নাগরিকদের ওপর অন্যতম বড় মানসিক ও শারীরিক আঘাতের ঘটনা।

ইসরায়েলের প্রভাবশালী পত্রিকা দ্য টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে আহতদের তালিকা দেওয়া হলেও ঠিক কী কারণে তাঁরা আহত হয়েছেন, তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। তবে প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে, ইরানের ছোড়া ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সময় সাইরেন শুনে তড়িঘড়ি করে শেল্টার বা আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার সময় হুড়োহুড়িতে অনেকেই মারাত্মক আঘাত পেয়েছেন। এছাড়া রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষের আঘাতেও বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যমতে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে আজ ১৫ মার্চ সকাল পর্যন্ত মোট ৩ হাজার ১৯৫ জন ইসরায়েলিকে হাসপাতালে নিতে হয়েছে। বর্তমানে তাঁদের মধ্যে ৮১ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং তাঁরা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।

সংঘাতের উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে ইরানের ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ডস কর্পস (আইআরজিসি)-এর একটি বিশেষ বিবৃতি। তারা সরাসরি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে হত্যার হুমকি প্রদান করেছে। তেহরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গত কয়েকদিনের হামলার যোগ্য জবাব হিসেবে তারা ‘শীর্ষ নেতৃত্বকে’ লক্ষ্যবস্তু করার কৌশল নিয়েছে। এর ফলে ইসরায়েলি কমান্ড ও কন্ট্রোল সেন্টারে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

পাল্টা হামলার অংশ হিসেবে আজ সকালেই ইরানের গুরুত্বপূর্ণ শহর ইসফাহানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথ বিমান হামলা চালিয়েছে। এতে অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানও চুপ বসে নেই। তারা দাবি করেছে, ইরাক ও কুয়েতে অবস্থিত তিনটি বড় মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে তারা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে সফলভাবে আঘাত হেনেছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আজ এক চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, রাশিয়া এখন সরাসরি ইরানকে ড্রোন সরবরাহ করছে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হচ্ছে। জেলেনস্কির মতে, রাশিয়া এই যুদ্ধের মাধ্যমে পশ্চিমাদের নজর ইউক্রেন থেকে সরিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে আবদ্ধ রাখতে চাইছে।

এদিকে, আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথ ও জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করতে ব্রিটেন একটি বড় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছে। লন্ডনের সূত্র অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের মাইন স্থাপন ও ড্রোন তৎপরতা মোকাবিলায় ব্রিটেন নিজস্ব ড্রোন বহর পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। এটি যুদ্ধের ব্যাপ্তিকে ইউরোপীয় শক্তির দিকেও টেনে নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

১৫ মার্চের এই চিত্র প্রমাণ করছে যে, সংঘাত প্রশমনের কোনো লক্ষণ তো নেই-ই, বরং এটি এখন ‘সর্বাত্মক যুদ্ধের’ দিকে মোড় নিচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের দেওয়া এক সপ্তাহের সময়সীমার মধ্যে ইসরায়েল এই সংঘাত বন্ধ করবে নাকি প্রতিশোধের নেশায় পুরো অঞ্চলকে দীর্ঘস্থায়ী অন্ধকারে ঠেলে দেবে, তা-ই এখন দেখার বিষয়।

এমএন

শেয়ার করুন:-
শেয়ার