ক্যাটাগরি: পুঁজিবাজার

কমার্স ব্যাংক সিকিউরিটিজের সিইও আরিফুলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ দুদকে

কমার্স ব্যাংক সিকিউরিটিজ অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে জালিয়াতি, কোটি কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম এবং দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও নিজের ব্যক্তিগত স্বার্থে প্রতিষ্ঠানের পর্ষদের সিদ্ধান্ত অমান্য করে ডিলার কোডে শেয়ার পার্কিংয়ের (গ্যাম্বলারদের সাথে আঁতাত করে আর্থিক সুবিধার মাধ্যমে উচ্চমূল্যে দুর্বল প্রতিষ্ঠানে শেয়ার ক্রয় করে) মাধ্যমে প্রায় ১০ কোটি টাকার ক্ষতিসাধনের তথ্য সামনে এসেছে।

গত মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড কমিশনে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে।

দুদক সূত্র জানায়, কমার্স ব্যাংক সিকিউরিটিজে সিইও পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে মো. আরিফুল ইসলাম নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি আগের প্রতিষ্ঠান (বিনিময় সিকিউরিটিজ) এ কর্মরত থাকার বিষয়টি ঘোষণা করলেও, কোনো প্রকার ছাড়পত্র ছাড়াই বর্তমান প্রতিষ্ঠানে চুক্তিভিত্তিক সিইও হিসেবে নিয়োগ পান। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মে সঙ্গে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে দুদকে। এছাড়াও তাঁর অনৈতিক ও স্বেচারিতার প্রতিবাদ করলেই কর্মকর্তারা হয়রানির শিকার হচ্ছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

‎বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, সিইও আরিফুল ইসলাম ডিলার অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে শেয়ার লেনদেনে অনিয়ম এবং মার্জিন অ্যাকাউন্টে ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ করেছেন। বহুল আলোচিত লাভেলো শেয়ারে ব্যক্তিগত আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে বিনিয়োগ করে প্রতিষ্ঠানের কোটি কোটি টাকার লোকসান করলেও নিজে ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ইতিমধ্যেই আলোচিত লাভেলো শেয়ার নিয়ে বিএসইসি একাধিক তদন্ত ও জরিমানা করেছে।

এছাড়া বোর্ডের সিদ্ধান্ত তোয়াক্কা না ১০ কোটি টাকার শেয়ার পার্কিংয়ের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানকে বড় ধরনের আর্থিক বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিয়েছেন তিনি।

বিএসইসি সূত্র জানায়, অভিযোগ পাওয়া গেছে, মো. আরিফুল ইসলাম নিজে অথরাইজড ট্রেডার না হওয়া সত্ত্বেও সিকিউরিটিজ আইন অমান্য করে দপ্তরের দরজা বন্ধ করে গোপনে ট্রেড পরিচালনার করেন। এছাড়া মার্জিন আইনের তোয়াক্কা না করে নগদ সুবিধার বিনিময়ে নির্দিষ্ট পোর্টফোলিওধারীদের অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে কর্পোরেট গভর্ন্যান্সের চরম অবনতি ঘটেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। মানবসম্পদ বিভাগের মাধ্যমে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, মতের অমিল হলেই বদলি বা বরখাস্তসহ অমানবিক আচরণের অভিযোগও উঠেছে সিইও’র বিরুদ্ধে। এমনকি নতুন বিনিয়োগকারীদের প্ররোচিত করে বিনিয়োগ থেকে বিরত রাখছেন, যা একটি ব্রোকারেজ হাউজের জন্য আত্মঘাতী বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ভুক্তভোগী কর্মকর্তা ও বিনিয়োগকারীরা এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে মো. আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে দ্রুত কার্যকর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন দুদক ও বিএসইতে দেওয়া লিখিত অভিযোগে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মো. আরিফুল ইসলাম অর্থসংবাদকে বলেন, বিনিয়োগ করার ক্ষেত্রে বোর্ডের অনুমতি দরকার নেই, কমিটি অনুমোদন দেয়। আর্থিক সুবিধা নিয়ে লাভেলোর শেয়ার পার্কিংয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে বিষয়টি কৌশলে এড়িয়ে গিয়ে বলেন, সল্প সময়ের জন্য বিনিয়োগ গিয়ে লাভেলোতে লংটার্ম বিনিয়োগ হয়ে গেছে এবং ১০-১২% লোকসানে আছি।এছাড়াও আমাদের কোম্পানির নামে সোনালী লাইফের একটা মামলা আছে, এসব বিষয়ে একটা স্পেশাল অডিট হয়েছে এখানে যোগদানের পর আমি এমপ্লয়ীদের সহযোগিতা পাইনি।আমি কি একা স্বেচ্ছারিতা করতে পারি? আমার উপরে বোর্ড আছে!

এমএন

শেয়ার করুন:-
শেয়ার