উৎসবকেন্দ্রিক কেনাকাটায় গ্রাহকদের আচরণে গত কয়েক বছরে বড় পরিবর্তন দৃশ্যমান হচ্ছে। সরাসরি মার্কেট কিংবা অনলাইনে কেনাকাটার ক্ষেত্রে এখন নগদ টাকার পরিবর্তে ডিজিটাল পেমেন্টের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে ঈদুল ফিতরের কেনাকাটায় ক্যাশলেস লেনদেন এখন অনেকের কাছে প্রয়োজনীয় ও সুবিধাজনক মাধ্যম হয়ে উঠেছে। লেনদেনের দ্রুততা, নিরাপত্তা এবং উৎসবভিত্তিক ক্যাশব্যাক ও ডিসকাউন্টের কারণে গ্রাহকরা এখন নগদ টাকার চেয়ে ডিজিটাল মাধ্যমেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন। আর এই ডিজিটাল রূপান্তরের অগ্রযাত্রায় আস্থার জায়গা থেকে বরাবরের মতোই শীর্ষে অবস্থান করছে বিকাশ।
প্রতি বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও পবিত্র রমজান ও আসন্ন ঈদুল ফিতরের কেনাকাটাকে আনন্দময় ও সাশ্রয়ী আকর্ষণীয় সব ডিসকাউন্ট ও ক্যাশব্যাক অফার নিয়ে এসেছে বিকাশ। এই ডিসকাউন্ট ও ক্যাশব্যাক পাওয়া যাচ্ছে সুপারস্টোর থেকে শুরু করে ব্র্যান্ডেড শপ, ফ্যাশন হাউস, জুতার দোকান, ইলেকট্রনিক্স, অনলাইন মার্কেটপ্লেস, রেস্টুরেন্ট, ক্যাফে, বেকারি এবং টিকিটিং প্ল্যাটফর্মসহ বিভিন্ন খাতে বিকাশ পেমেন্টে মিলছে সর্বমোট ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত ডিসকাউন্ট ও ক্যাশব্যাক।
পাড়ার ছোট মুদি দোকান থেকে শুরু ফ্ল্যাগশিপ স্টোর কিংবা অনলাইন শপ- কেনাকাটার প্রায় সবখানেই এখন বিকাশ পেমেন্টের সুবিধা রয়েছে। বর্তমানে সারাদেশে বিকাশের প্রায় ১০ লাখ মার্চেন্ট রয়েছে, যেখানে কিউআর কোড স্ক্যান, এনএফসি ট্যাপ, পেমেন্ট গেটওয়ে অথবা *২৪৭# ডায়াল করে খুব সহজেই লেনদেন করা সম্ভব।
উৎসবের কেনাকাটায় এই ডিজিটাল পেমেন্ট কতটা স্বস্তি এনেছে, তা নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে শায়লা ইসলাম বলেন, “ঈদের কেনাকাটায় ভিড়ের মাঝে ব্যাগে টাকা নিয়ে ঘোরা, খুচরা টাকার ঝামেলা সবসময়ই একটা বাড়তি চাপ তৈরি করে। তবে এখন স্মার্টফোনে ডিজিটাল পেমেন্ট করার সুবিধা কেনাকাটার অভিজ্ঞতাকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। মার্কেটে গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে টাকা গোনার বদলে বিকাশ অ্যাপ থেকে জাস্ট একটা স্ক্যান বা কয়েকটা ক্লিকেই পেমেন্ট সেরে ফেলা যায়। ব্যস্ত সময়ে এই সহজ ও আধুনিক পেমেন্ট ব্যবস্থা আমার জন্য এক দারুণ স্বস্তি।”
এই উৎসবের মৌসুমে যেসব অফার আছে বিকাশ পেমেন্টে-
পুরো রমজান জুড়ে উৎসবের কেনাকাটায় বিকাশ পেমেন্টে পাওয়া যাচ্ছে ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত ডিসকাউন্ট ও ক্যাশব্যাক। বিকাশ পেমেন্টে কেনাকাটার সব ক্যাম্পেইন দেখে নেয়া যাবে এই লিংকে — https://www.bkash.com/campaign/ramadan-offer-payment-hero-2026 ।
এবার দেখে নেয়া যাক উল্ল্যেখযোগ্য অফারগুলো–
সুপারস্টোর: রমজান মাস জুড়ে এবং ঈদ-উল-ফিতরকে সামনে রেখে গ্রাহকরা বিকাশ অ্যাপে ‘D2’ কুপন ব্যবহার করে আগোরা, মীনা বাজার, ইউনিমার্ট, প্রিন্স বাজার, বেঙ্গল মিট, হোলসেল ক্লাব, খুলশি মার্ট, উৎসব সুপার মার্কেটসহ আরও বেশকিছু সুপারস্টোর ৫০০ টাকা পর্যন্ত ডিসকাউন্ট পাওয়া যাচ্ছে। পাশপাশি, ‘D3’ কুপন ব্যবহার করে দেশজুড়ে সুপারস্টোর চেইন স্বপ্ন ও ডেইলি শপিং-এ বিকাশ পেমেন্টে ৩০০ টাকা পর্যন্ত ডিসকাউন্ট পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এছাড়াও, অনলাইনে চালডাল, ডেইলি শপিং, মীনা বাজার, ও প্যারাগন থেকে গ্রোসারি অর্ডারে মিলছে ২০০ টাকা পর্যন্ত ক্যাশব্যাক।
লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড: বিকাশ অ্যাপে ‘S3’ কুপন ব্যবহার করে ফ্যাশন ব্র্যান্ড সেইলর-এ ৩০০ এবং সারা লাইফস্টাইল-এ ২০০ টাকা ডিসকাউন্ট। ‘D1’ কুপন ব্যবহার করে মি. ডিআইওয়াই, আর্টিসান,কান্ট্রি বয়, দর্জি বাড়ি, এক্সটেসি, ফ্যাব্রিলাইফ, ফ্রিল্যান্ড, ইয়েলো, ইলিয়েন, কে ক্রাফট, বিশ্বরঙ, অঞ্জনস, র নেশন, শৈল্পিক, স্মার্টেক্স, টেক্সমার্ট, হুর, গয়না বাক্স, সানভিস সহ আরও বেশ কিছু ব্র্যান্ডে রমজানজুড়ে পাওয়া যাবে ১০০০ টাকা পর্যন্ত ডিসকাউন্ট। ‘D5’ কুপনে ২০০ টাকা ডিসকাউন্ট মিলবে তাকদুম, মিনিসো বাংলাদেশ সহ বেশকিছু মার্চেন্টে। কুপন কোড ‘D8’ব্যবহার করে ৩০০ টাকা ডিসকাউন্ট মিলছে ইজি ফ্যাশন, জেন্টেল পার্ক, ইনফিনিটি মেগা মল, লুবনান, রিচম্যান, টপ টেন ফেব্রিক্স অ্যান্ড টেইলার্সসহ আরও বেশ কিছু আউটলেটে। পাশাপাশি, লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড আড়ং-এ বিকাশ পেমেন্টে গ্রাহকরা পেতে পারেন ২০০ টাকা পর্যন্ত ক্যাশব্যাক।
অনলাইন মার্কেটপ্লেস: অনলাইন মার্কেটপ্লেস দারাজ-এ বিকাশ পেমেন্টে ৬০ টাকার ডিসকাউন্টভাউচার রয়েছে গ্রাহকদের জন্য। এছাড়াও, স্টার টেক-অনলাইন, অথবা, রবিশপ, লুবনান,অ্যারোমেটিকা সহ বিভিন্ন অনলাইন শপে ১০% এবং ২০% হারে ৩০০ টাকা পর্যন্ত ক্যাশব্যাক পাওয়া যাবে। এদিকে, আমার পেট, পেট ফুড বিডি এবং পেট মামা থেকে পোষা প্রাণীর যত্নের জিনিসপত্র অর্ডার করার ক্ষেত্রেও এই ক্যাশব্যাক প্রযোজ্য।
রেস্টুরেন্ট: সারা দেশে ছড়িয়ে থাকা দুই হাজারেরও বেশি রেস্তোরাঁয় ‘D4’ কুপন ব্যবহার করে গ্রাহকরা ৭৫০ টাকা পর্যন্ত ডিসকাউন্ট পেতে পারেন। ঢাকায় গ্যালিটো’স, বার্গার কিং, সিপি ফাইভ স্টার, চিলিস রেস্তোরাঁ, দিল্লি দরবার সহ ইত্যাদি বিভিন্ন আউটলেটে ছাড় উপভোগ করা যাবে। এদিকে, চট্টগ্রামে পিৎজা লাউঞ্জ, সিক্রেট রেসিপি, বে লিফ রেস্তোরাঁ, কুটুম বাড়ি, পাপা চিনোস ইত্যাদি বিভিন্ন আউটলেটে পাওয়া যাবে এই ডিসকাউন্ট।
এদিকে, ডিসেন্ট পেস্ট্রি শপ, স্টার বেকারি, স্টার হোটেল অ্যান্ড রেস্তোরাঁর বিভিন্ন আউটলেটে গ্রাহকরা ইফতার কেনার উপর রমজানজুড়ে মোট ১,০০০ টাকা ডিসকাউন্ট উপভোগ করতে পারবেন। এছাড়াও, ২৫০ টিরও বেশি অন্যান্য খাবারের দোকান এবং বেকারিতে ইফতার অর্ডার করে মিলতে পারে আরও ৫০০ টাকা ডিসকাউন্ট। এছাড়াও, কেএফসির সেলফ-চেকআউটে কমপক্ষে ৬০০ টাকা বিকাশ পেমেন্ট করলে ৫০ টাকা ক্যাশব্যাক মিলবে।
ইলেকট্রনিকস ও ফার্নিচার: ‘D6’ কোড ব্যবহার করে গ্রাহকরা সারাদেশে ওয়ালটন প্লাজা, হায়ার, সিঙ্গার, ভিশন এম্পোরিয়াম, অ্যাপল মার্ট বিডি এবং গ্যাজেট অ্যান্ড গিয়ারের ১২শর বেশি আউটলেটে ২০০ টাকার ছাড় পেতে পারেন। এদিকে, আখতার ফার্নিচার, ব্রাদার্স ফার্নিচার, হাতিল, হাই-টেক ফার্নিচার, নাদিয়া ফার্নিচার, নাভানা ফার্নিচার, অটোবি, তানিন বাংলাদেশ-এর মতো ফার্নিচার ব্র্যান্ডগুলোতে ৬০০ টাকা পর্যন্ত পাওয়া যাবে।
টিকেটিং এবং হোটেল বুকিং: ঈদের ছুটির আগে বিকাশ পেমেন্টে ইম্পেরিয়াল এক্সপ্রেস, সেবা গ্রিন লাইন, শ্যামলী পরিবহন সহ বেশকিছু বাসের টিকিটে ২০০ টাকা ক্যাশব্যাক পাচ্ছেন গ্রাহকরা। এদিকে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ইউএস বাংলা, এয়ার অ্যাস্ট্রা এবং নভো এয়ারে বিকাশ পেমেন্টের মাধ্যমে টিকিট বুক করে পাওয়া যাচ্ছে ১,০০০ টাকা পর্যন্ত ক্যাশব্যাক। এছাড়াও, গ্রাহকরা সারা দেশে নির্বাচিত হোটেল এবং রিসোর্ট বুকিং করে পেতে পারেন ৬০০ টাকা ক্যাশব্যাক।
এদিকে, কেনাকাটার সময় অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত টাকা না থাকলে ব্যাংক অথবা বাংলাদেশে ইস্যুকৃত ভিসা, অ্যামেক্স বা মাস্টারকার্ড থেকে অ্যাড মানি করে প্রয়োজনীয় কেনাকাটা সারতে পারছেন বিকাশ-এর ৮ কোটি ২০ লাখ গ্রাহক। এদিকে, বিকাশ ও সিটি ব্যাংকের যৌথ উদ্যোগে চালু হওয়া ‘পে-লেটার’ সেবার মাধ্যমে অ্যাকাউন্টে ব্যালেন্স না থাকলেও নির্দিষ্ট গ্রাহকরা ৫০০ থেকে ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত লোন নিয়ে দরকারি কেনাকাটা সারতে পারছেন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গ্রাহকদের কেনাকাটার অভ্যাসে যে দ্রুত পরিবর্তন ঘটেছে, তার কেন্দ্রে রয়েছে ডিজিটাল পেমেন্টের প্রতি গ্রাহকদের আস্থা। কেবলমাত্র ক্যাশব্যাক বা ডিসকাউন্টের আকর্ষণে নয়, বরং আধুনিক ও নিরাপদ জীবনযাত্রার অংশ হিসেবেই মানুষ এখন ক্যাশলেস লেনদেনে অভ্যস্ত হয়ে উঠছে। নিরাপদ, দ্রুত ও ঝামেলামুক্ত লেনদেনের সুবিধার কারণে বিকাশ পেমেন্ট প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে কোটি গ্রাহকের দৈনন্দিন জীবনে।
এমএন