মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার তীব্র সমালোচনা করে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে সৌদি আরব। রিয়াদ বলেছে, উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর ওপর হামলা অব্যাহত থাকলে এর সবচেয়ে বড় ক্ষতিগ্রস্ত হবে ইরান নিজেই।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা সোমবার (৯ মার্চ) এক প্রতিবেদনে জানায়, সৌদি আরবের বিশাল শায়বাহ তেলক্ষেত্র লক্ষ্য করে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে অন্তত চারটি ড্রোন হামলার পর তেহরানকে এ সতর্কবার্তা দেয় রিয়াদ।
এর আগে শনিবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান দাবি করেন, ইরান উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর ওপর শর্ত সাপেক্ষে হামলা বন্ধ করতে পারে। তবে তার এ বক্তব্য সরাসরি নাকচ করেছে সৌদি আরব।
এক বিবৃতিতে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘ইরানের প্রেসিডেন্টের বক্তব্য বাস্তবে কার্যকর হয়নি। তার ভাষণের সময়ও নয়, পরেও নয়।’
সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশটিতে এবং অন্যান্য উপসাগরীয়, আরব এবং ইসলামী দেশগুলোতে ইরানের ‘জঘন্য’ হামলার নিন্দা জানিয়েছে।
মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘বিমানবন্দর, তেল স্থাপনাসহ বেসামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলা ‘নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার হুমকি ছাড়া আর কিছুই নির্দেশ করে না। এটি আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন।’
হামলার বিষয়ে ইরানের দেয়া যুক্তিগুলোকে প্রত্যাখ্যান করেছে সৌদি আরব জানায়, তেহরান দাবি করেছে যুদ্ধে সৌদি আরবের ভূখণ্ড থেকে যুদ্ধবিমান ও জ্বালানি ভরার বিমান পরিচালনার অনুমতি দিয়েছে—যা ভিত্তিহীন ও মিথ্যা।
সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট বিমানগুলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা থেকে সৌদি আরব ও জিসিসি (গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল) দেশের আকাশসীমা রক্ষার জন্য আকাশ টহল দিচ্ছিল।
সৌদি আরব সতর্ক করে বলেছে, উপসাগরীয় দেশে ইরানের এসব হামলা উত্তেজনা আরও বাড়াবে এবং এর ফলে বর্তমান ও ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্কের ওপর গুরুতর প্রভাব পড়বে।
এদিকে রোববার (৮ মার্চ) স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় সৌদি আরবের একটি আবাসিক ভবনে মিসাইলের আঘাতে অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি, অপরজন ভারতীয়।
সংস্থাটি এক্সে দেওয়া এক বার্তায় জানায়, প্রজেক্টাইলটি রিয়াদ প্রদেশের আল-খারজ প্রশাসনিক এলাকার একটি আবাসিক কম্পাউন্ডে আঘাত হানে। এতে দুজন নিহত এবং অন্তত ১২ জন আহত হন। নিহতদের একজন ভারতীয় এবং অন্যজন বাংলাদেশি নাগরিক।
এর আগে ইরানের ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড করপস (আইআরজিসি) জানিয়েছিল, তারা সৌদি আরবের কয়েকটি স্থানে হামলা চালিয়েছে। এরমধ্যে আল-খারজ এর রাডার সিস্টেমকে টার্গেট করা হয়েছে।
নিহতের ঘটনাটি সেখানেই ঘটেছে বলে জানানো হয়েছে। তবে এই মিসাইল ইরানেরই কিনা তা এখনো নিশ্চিত করেনি সৌদি কিংবা ইরানি কর্তৃপক্ষ।
এমএন