বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর ড. হেলাল উদ্দিন বলেছেন, ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার জন্য ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্রের বিকল্প নেই। তিনি বলেন, সমাজের সর্বস্তরে যে বৈষম্য, বিচারহীনতা ও নৈতিক অবক্ষয় তৈরি হয়েছে, তা থেকে মুক্তি পেতে হলে ইসলামী সমাজব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
শনিবার (৭ মার্চ) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-র পল্টন থানার উদ্যোগে আয়োজিত ঐতিহাসিক বদর দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, নৈতিক অবজ্ঞার কারণেই জনগণের আমানত খেয়ানত করা হচ্ছে। নৈতিক অবক্ষয়ের একটি দৃষ্টান্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনে সারাদেশে মানুষ দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীদের ভোট দিলেও ফলাফলে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে ধানের শীষের প্রার্থীদের। তিনি অভিযোগ করেন, ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে জনগণের ভোট চুরি করা হয়েছে এটা নৈতিকতার অভাব এবং আদর্শ বিসর্জনের দৃষ্টান্ত। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক একজন নারী উপদেষ্টা ইতোমধ্যে মিডিয়ায় ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংযের স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।
এসময় তিনি সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, তাঁরা সংসদে বিরোধী দলে থাকলেও আমরা তাদেরকে মেইনস্ট্রিম হতে দিই নাই। ঐ সাবেক উপদেষ্টার বক্তব্যে প্রমাণ করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একটি অংশ এবং প্রশাসনের ভেতরে থাকা ডিপ স্টেট যৌথভাবে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে নিজেদের পছন্দের দলকে ক্ষমতায় বসিয়েছে। শুধু ক্ষমতায় বসায়নি বরং সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ আসন দিয়ে আবারও ফ্যাসিবাদ কায়েমের পথ তৈরি করে দিয়েছে। কারণ এই দুই-তৃতীয়াংশ আসনে ক্ষমতাসীন দল বিরোধীদলের মতামত উপেক্ষা করে নিজের মন-মতো আইন তৈরি করতে পারবে।
ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, বদর যুদ্ধের শিক্ষা হলো—সংখ্যা বা অস্ত্র নয়, বরং ঈমান, ধৈর্য ও আল্লাহর ওপর অটল বিশ্বাসই বিজয়ের মূল শক্তি। তিনি বলেন, মহানবী মুহাম্মদ (সা.)-এর নেতৃত্বে মাত্র ৩১৩ জন মুসলিম যোদ্ধা বদরের যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। অন্যদিকে আবু জাহেল-এর নেতৃত্বে কুরাইশদের সৈন্য ছিল সহস্রাধিক। তবুও মুসলমানরা বদর যুদ্ধে ঈমানী শক্তির বলে বিজয় অর্জন করেন।
ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় বদর যুদ্ধ থেকে শিক্ষা নিতে তিনি উপস্থিত সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ৫ আগস্ট ফ্যাসিবাদের পতনের মাধ্যমে প্রাথমিক বিজয় অর্জিত হলেও চূড়ান্ত বিজয় এখনো অর্জিত হয়নি। চূড়ান্ত বিজয়ের জন্য দেশপ্রেমিক ছাত্র-জনতাকে প্রস্তুত ও সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ড. আব্দুল মান্নান বলেন, বদরের শিক্ষা হলো অন্যায়ের বিরুদ্ধে জীবন উৎসর্গ করতে দ্বিধা না করা। তিনি বলেন, বদর যুদ্ধে অংশ নেওয়া ৩১৩ সাহাবি যেমন ঈমান ও দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হয়ে লড়াই করে বিজয় অর্জন করেছিলেন, তেমনি বর্তমান সময়েও অন্যায় ও জুলুমের বিরুদ্ধে লড়াই করে ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতে হবে।
মহানগরীর মজলিসে শুরা সদস্য ও পল্টন থানা আমীর এডভোকেট মারুফুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং মহানগরীর মজলিসে শুরা সদস্য ও পল্টন থানা সেক্রেটারি মঞ্জুরুল ইসলামের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পল্টন থানা সহকারী সেক্রেটারি এনামুল হক, থানা কর্মপরিষদ সদস্য যথাক্রমে মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম মজুমদার ও মোহাম্মাদ আল-আমীন রাসেল প্রমূখ।
ঢাকা মহানগরী মজলিসে শুরা সদস্য ও পল্টন থানা আমীর এডভোকেট মারুফুল ইসলাম-এর সভাপতিত্বে এবং পল্টন থানা সেক্রেটারি মঞ্জুরুল ইসলাম-এর পরিচালনায় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় সভায় উপস্থিত ছিলেন পল্টন থানা সহকারী সেক্রেটারি এনামুল হক এবং থানা কর্মপরিষদ সদস্য মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম মজুমদার ও মোহাম্মাদ আল-আমীন রাসেলসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
এমএন