ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) সাবেক প্রশাসকের দায়িত্ব হস্তান্তরের সময় করপোরেশনের ব্যাংক হিসাবে ১ হাজার ২৬০ কোটি টাকা থাকার দাবিকে সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর ও অসত্য হিসেবে অভিহিত করেছেন বর্তমান প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।
জনমনে সৃষ্ট বিভ্রান্তি দূর করার লক্ষ্যে শুক্রবার (৬ মার্চ) এক বিবৃতিতে তিনি ডিএনসিসির প্রকৃত আর্থিক চিত্র তুলে ধরেন।
ডিএনসিসি প্রশাসক জানান, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি তিনি যখন দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তখন করপোরেশনের দৈনন্দিন ব্যয় নির্বাহের মূল উৎস ‘সাধারণ তহবিলে’ ক্যাশ স্থিতি ছিল মাত্র ২৫ কোটি টাকা, যা ডিএনসিসির ইতিহাসে সর্বনিম্ন।
এ ছাড়া বিভিন্ন আপৎকালীন ও স্থায়ী তহবিলে (পেনশন, জিপিএফ, জামানত ইত্যাদি) সংরক্ষিত ফিক্সড ডিপোজিট হিসেবে ছিল ৮২৫ কোটি টাকা, যা আইনত সাধারণ খরচ বা উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় করার সুযোগ নেই।
সাবেক প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ এই সংরক্ষিত ফিক্সড ডিপোজিট এবং বিভিন্ন নির্দিষ্ট তহবিলের সঞ্চয় মিলিয়ে মোট ১ হাজার ২৬০ কোটি টাকার একটি হিসাব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করে বর্তমান প্রশাসনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চালিয়েছেন বলে বর্তমান প্রশাসক উল্লেখ করেন।
বিবৃতিতে জানানো হয়, ১ জুলাই ২০২৪ থেকে ৩০ জুন ২০২৫ পর্যন্ত ডিএনসিসির মোট ক্যাশ ব্যালেন্স ছিল ১ হাজার ৭৭৫ কোটি টাকা। সাবেক প্রশাসক দায়িত্ব গ্রহণের পর উচ্চাভিলাষী ও অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণ করে ওই অর্থবছরে ১ হাজার ৪৩৯ কোটি টাকা ব্যয় করেন। পরবর্তী সময়ে ১ জুলাই ২০২৫ থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর মধ্যে তিনি আরও ১ হাজার ১৩১ কোটি টাকা খরচ করেন।
বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয় যে, সাবেক প্রশাসক তার শেষ কর্মদিবসে (১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই তাড়াহুড়ো করে ৩৬টি বিলের নথি অনুমোদন করে গেছেন, যার অর্থমূল্য প্রায় ৪২ কোটি টাকা। এই নথিগুলো বর্তমানে অধিকতর যাচাইয়ের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘সাবেক প্রশাসক তঞ্চকতার আশ্রয় নিয়ে সাধারণ তহবিল ও সংরক্ষিত তহবিলকে একত্রে মিলিয়ে নগরবাসীকে বিভ্রান্ত করার অপপ্রয়াস চালিয়েছেন।’ ডিএনসিসির আর্থিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং সঠিক তথ্য জনসম্মুখে তুলে ধরতেই এই ব্যাখ্যা প্রদান করা হলো বলে তিনি জানান।
এমএন