মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত এবং মার্কিন ডলারের দর পতনের প্রভাবে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম আবারও রেকর্ড উচ্চতার দিকে ছুটছে। মাত্র এক দিনের ব্যবধানে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবান এই ধাতুর দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, যার প্রভাব সরাসরি পড়তে পারে বাংলাদেশের বাজারেও।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বিশ্ববাজারে স্পট গোল্ডের দাম শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৫ হাজার ১৭৬ দশমিক ৬৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, আগামী এপ্রিলে সরবরাহের জন্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার ১ শতাংশ বেড়ে ৫ হাজার ১৮৬ দশমিক ৩০ ডলারে পৌঁছেছে। বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
মার্কিন ডলারের মূল্য কমায় অন্যান্য মুদ্রার ধারকদের জন্য গ্রিনব্যাক-মূল্যের স্বর্ণের দামও সমর্থিত হয়েছে। এদিকে, সংঘাতের পটভূমিতে, বুধবার মার্কিন সাবমেরিন শ্রীলঙ্কার উপকূলে একটি ইরানি যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দেয়, এতে কমপক্ষে ৮০ জন নিহত হন। একই সময়ে ন্যাটো বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী তুরস্কের দিকে ছোড়া একটি ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করে।
এ ঘটনার পর মার্কিন-ইরান যুদ্ধ আরও তীব্র হয়ে ওঠে। ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতার শক্তিশালী পুত্র তার উত্তরসূরি হিসেবে এগিয়ে আসায় উত্তেজনা আরও বাড়ে, যা ইঙ্গিত দেয় যে তেহরান চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না। সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পাঁচ দিন পরই এই সংঘাত বিশ্ব বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে।
ঐতিহ্যগতভাবে নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে বিবেচিত স্বর্ণের দাম এই বছর এখনও প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে। বিশ্বব্যাপী রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে এটি ধারাবাহিকভাবে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রাক্তন ফেডারেল রিজার্ভ গভর্নর কেভিন ওয়ার্শকে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরবর্তী চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনীত করেছেন। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এর ফলে রাষ্ট্রপতি সুদের হার কমানোর জন্য উপযুক্ত ফেড প্রধান নিয়োগে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেছেন।
সিএমই গ্রুপের ফেডওয়াচ টুল অনুযায়ী, বাজার এখন আশা করছে ১৮ মার্চের দুই দিনের বৈঠকের পর ফেড সুদের হার স্থিতিশীল রাখা হবে। বিনিয়োগকারীরা অপেক্ষা করছেন সাপ্তাহিক মার্কিন বেকার দাবির তথ্য এবং শুক্রবার প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি মাসের মার্কিন কর্মসংস্থান প্রতিবেদনের জন্য।
এছাড়া, স্পট সিলভারের দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্সে ৮৪ দশমিক ৪৩ ডলার, স্পট প্লাটিনামের দাম ২ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ১৯৩ দশমিক ৬৫ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৬৮৩ ডলার হয়েছে।
এদিকে, বিশ্ববাজারে দাম বাড়ায় দেশের বাজারেও বাড়তে পারে স্বর্ণের দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববাজারে দাম বাড়লে এর প্রভাব পড়ে দেশের বাজারেও। তাই যে কোনো সময় দেশের বাজারেও দাম বাড়ানো হতে পারে।
এর আগে সবশেষ গত ৪ মার্চ সকালে দেয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে দেশে স্বর্ণের দাম কমিয়েছিল বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন। সেদিন ভরিতে মূল্যবান এই ধাতুটির দাম ৯ হাজার ২১৪ টাকা কমানো হয়েছে। নতুন দাম কার্যকর হয়েছিল সেদিন সকাল ১০টা থেকেই।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৬৮ হাজার ২১৪ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৫৬ হাজার ২৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৯ হাজার ৪৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৭৯ হাজার ১৫৯ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।
এমএন