দেশীয় জনপ্রিয় স্টার্টআপ প্ল্যাটফর্ম ‘সেবা এক্সওয়াইজেড’-এর চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার (সিইও) ও চেয়ারম্যান আদনান ইমতিয়াজ হালিমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। প্রতিষ্ঠানের সাবেক এক কর্মকর্তার দায়ের করা মামলায় ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন আদালত-৩ এর অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সেফাতুল্লাহ এই আদেশ দেন।
আদালত সূত্র জানায়, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি এই পরোয়ানা জারি করা হয়। ৩৬২/২৬ নম্বর সিআর মামলার পরিপ্রেক্ষিতে জারি করা এই পরোয়ানা তামিলের জন্য ডিএমপির মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালত সূত্র জানায়, সেবা এক্সওয়াইজেডের সিইওর বিরুদ্ধে মামলাটি করেছেন প্রতিষ্ঠানের সাবেক চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) রোনাল্ড মিকি গোমেজ। তার অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটিতে দায়িত্ব পালনকালে বেতনের বিপরীতে কেটে রাখা করের চালানের কপি তাকে দেওয়া হয়নি। এর ফলে বেতনের বিপরীতে ‘সেবা এক্সওয়াইজেডের’ কেটে রাখা প্রায় ১৮ লাখ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হয়নি বলে আশঙ্কা করছেন মিকি গোমেজ। ভুক্তভোগীর মোট বকেয়া ৪১ লাখ টাকা।
মামলার বিষয়ে মিকি গোমেজ জানান, পাঁচ মাসের বেতন বকেয়া রাখার পর গত বছরের অক্টোবরে তাকে ‘সেবা এক্সওয়াইজেড’ থেকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়। তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালের জুনে প্রতিষ্ঠানটিতে সিওও হিসেবে যোগ দেই। ওই বছরের জুলাই থেকে গত বছরের জুলাই পর্যন্ত আমার বেতনের বিপরীতে ১৩ লাখ এক হাজার ৭৯৮ টাকা আয়কর বাবদ কেটে রাখে সেবা। এরপর তাদের চাপে গেল বছরের অক্টোবরে রিজাইন দিয়ে ডিসেম্বর পর্যন্ত কাজ করি। কিন্তু আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত তারা আমাকে কোনো বেতন দেয়নি। উলটো পাঁচ মাসে কর বাবদ ৫ লাখ ১৮ হাজার ৪৮৫ টাকা আয়কর হিসেবে কেটে রেখেছে।’
মিকি গোমেজ তার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘কর হিসেবে ১৮ লাখ ২০ হাজার ২৮৩ টাকা কেটে রাখলেও সেবা আমাকে কোনো চালানের কপি দেয়নি। আয়কর রিটার্নের সঙ্গে তো আমাকে ওই কপি জমা দিতে হবে। নইলে আমাকে ১৮ লাখ টাকা কর আবারও পরিশোধ করতে হবে। আমার ভয় হচ্ছে—সেবার চেয়ারম্যান আদনান ইমতিয়াজ কর বাবদ কেটে রাখা টাকা হয়তো সরকারি কোষাগারে জমা দেননি।’
আদনান ইমতিয়াজের বিরুদ্ধে আদালতের জারি করা পরোয়ানা থেকে জানা যায়, ৩৬২/২৬ নম্বর সিআর মামলার পরিপ্রেক্ষিতে এ পরোয়ানা জারি করা হয়। পরোয়ানাভুক্ত আসামি আদনান ইমতিয়াজের বাসা মিরপুর ডিওএইচএস এলাকায় হওয়ায় ডিএমপির মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) পরোয়ানা তামিলের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে করের চালানের কপি না পাওয়ার পাশাপাশি পাঁচ মাসের বকেয়া বেতনের জন্য শ্রম আদালতে আরও একটি মামলা দায়ের করেছেন মিকি গোমেজ। তিনি বলেন, ‘সেবা এক্সওয়াইজেড আমার পাঁচ মাসের বেতন দেয়নি। এরপর শ্রম আদালতে মামলা করি। সেই মামলা প্রক্রিয়াধীন। মামলা অব্যাহত রাখলে কখনো বকেয়া বেতন দেওয়া হবে না সেবা ও আদনানের পক্ষ থেকে চাপ দেওয়া হচ্ছে।’
গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির বিষয়ে সেবাএক্সওয়াইজেডের সিইও আদনান ইমিতয়াজ বলেন, ‘এটি সাবেক এক কর্মীর সঙ্গে বকেয়া পাওনা সংক্রান্ত একটি বিরোধ, যা কোম্পানির অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে তৈরি হয়েছে। আমরা আদালতের প্রতি পূর্ণ সম্মান রেখে আইনগত প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করছি। আশা করি আদালতের মাধ্যমেই বিষয়টি পরিষ্কার হবে।’