রপ্তানি খাতে বৈশ্বিক ও দেশীয় অর্থনৈতিক টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ নিশ্চিতে বিশেষ ঋণ সুবিধা চালুর নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিআরপিডি পরিচালক মো. বায়েজীদ সরকার স্বাক্ষরিত সার্কুলারে ব্যাংক কোম্পানী আইন, ১৯৯১ এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ (বিআরপিডি) থেকে এসংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে ব্যবসায়িক পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি ধারাবাহিক নিম্নমুখী রপ্তানি, ক্রয়াদেশ পিছিয়ে যাওয়া, তারল্য সংকট ইত্যাদি কারণে রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানসমূহের উৎপাদন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
ফলশ্রুতিতে উক্ত প্রতিষ্ঠানসমূহের শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধের সক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে। এক্ষণে উৎপাদন সক্ষমতা বজায় রেখে রপ্তানির গতিধারা অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানসমূহকে অর্থায়ন সহায়তা প্রদানের আবশ্যকতা পরিলক্ষিত হচ্ছে।
এমতবস্থায় সচল রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক-কর্মচারীদের ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন-ভাতা যথাসময়ে পরিশোধ নিশ্চিতে ব্যাংকগুলোকে চলতি মূলধন ঋণসীমার বাইরে বিশেষ মেয়াদি ঋণ সুবিধা দেওয়া যেতে পারে।
এই ঋণ সুবিধার পরিমাণ ঋণগ্রহীতা শিল্প প্রতিষ্ঠানের বিগত তিন মাসের প্রদত্ত গড় বেতন/ভাতার অধিক হবে না বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে যে সকল শিল্প প্রতিষ্ঠান মোট উৎপাদনের ন্যূনতম ৮০ শতাংশ রপ্তানি করে তারা রপ্তানিমুখী শিল্প এবং যে সকল প্রতিষ্ঠান তাদের শ্রমিক-কর্মচারীদেরকে বিগত নভেম্বর ২০২৫ থেকে জানুয়ারি ২০২৬ মাসের বেতন পরিশোধ করেছে তারা সচল হিসেবে বিবেচিত হবে।
সচল ও রপ্তানিমুখী হওয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিত্বকারী বাণিজ্য সংগঠনের (বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ইত্যাদি) প্রত্যয়নপত্র দ্বারা সমর্থিত হতে হবে বলে সার্কুলারে উল্লেখ আছে। এই ঋণের বিপরীতে বাজারভিত্তিক প্রচলিত সুদহার প্রযোজ্য হবে।
এমএন