ক্যাটাগরি: অর্থনীতি

২০২৬ সালে ৫% জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস এইচএসবিসির

বিগত কয়েক বছরের নানা বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ সত্বেও বাংলাদেশ তার অর্থনৈতিক দৃঢ়তা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। এইচএসবিসির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশ এবং পরবর্তী বছরে তা ৫.৫ শতাংশ হতে পারে। তবে ২০৪০ সালের মধ্যে ‘এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি’ হওয়ার যে স্বপ্ন বাংলাদেশ দেখছে, তা অর্জনে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে দেশের শক্তিশালী বেসরকারি খাত।

সোমবার (২মার্চ) এইচএসবিসি আয়োজিত ‘বাংলাদেশ অ্যান্ড দি ওয়ার্ল্ড: ইকোনমিক প্রস্পেক্টস্ ফর ২০২৬ অ্যান্ড বিয়ন্ড’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে এসব তথ্য ও সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে জুমের মাধ্যমে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এইচএসবিসি গ্লোবাল রিসার্চের চিফ এশিয়া ইকোনমিস্ট ও কো-হেড ফ্রেডরিক নিউম্যান।
অনুষ্ঠানটিতে বৈশ্বিক এবং এশিয়ার বাজারগুলোর সর্বশেষ খবর তুলে ধরার পাশাপাশি বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে আলোচনা করা হয়। এছাড়া এইচএসবিসি বাংলাদেশ-এর চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার জিগনেশ রূপারেল এইচএসবিসি গ্রুপের সর্বশেষ ফলাফল এবং বিশ্বজুড়ে ব্যাংকটির সক্ষমতা সম্পর্কে আলোচনা করেন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন দি ইনস্টিটিউট অফ কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অফ বাংলাদেশের (আইসিএমএবি) সভাপতি কাউসার আলম এবং এইচএসবিসি বাংলাদেশের সিইও মো: মাহবুব উর রহমান।

অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সিএফও, স্টেকহোল্ডার এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিনিয়োগ ও রপ্তানির পূর্বাভাসে ফ্রেডরিক নিউম্যান তাঁর বক্তব্যে বলেন, ২০২৬ ক্যালেন্ডার বছরে বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধি ৪.১ শতাংশ হতে পারে। আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে আস্থা বাড়ায় রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা মূল্যস্ফীতি প্রশমনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত ভোগব্যয়কে ত্বরান্বিত করবে। তবে বিনিয়োগের গতি অনেকাংশে নির্ভর করবে নতুন সরকার আইনশৃঙ্খলা জোরদার এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় কতটা সফল হয় তার ওপর।

এলডিসি উত্তরণ ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ ২০২৬ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের প্রসঙ্গে নিউম্যান বলেন, এই লক্ষ্য অর্জনে রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধি ও অবকাঠামো উন্নয়ন জরুরি। বিশেষ করে মার্কিন শুল্কনীতির কারণে বৈশ্বিক চাহিদা হ্রাসের ঝুঁকি থাকায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা ত্বরান্বিত করা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, “নতুন সরকারের সামনে এখন সংস্কার এগিয়ে নেওয়ার স্পষ্ট ম্যান্ডেট রয়েছে। তরুণ প্রজন্মের প্রত্যাশা পূরণে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে হবে।’

ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির স্বপ্ন অনুষ্ঠানে আইসিএমএবির প্রেসিডেন্ট ও সেভেন রিংস সিমেন্টের সিএফও কাউসার আলম (এফসিএমএ) বলেন, ‘অনুকূল ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড এবং শক্তিশালী বেসরকারি খাতের ওপর ভিত্তি করে ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরিত হওয়ার বিপুল সম্ভাবনা রাখে।’

এইচএসবিসি বাংলাদেশের সিইও মো. মাহবুব উর রহমান বলেন, বাংলাদেশ যখন সংস্কার ও প্রবৃদ্ধির নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করছে, তখন এইচএসবিসির ভূমিকা হলো স্থানীয় আকাঙ্খাকে বৈশ্বিক সুযোগের সঙ্গে সংযুক্ত করা। এইচএসবিসি বাংলাদেশের সিএফও জিগনেশ রূপারেল ব্যাংকটির বৈশ্বিক সক্ষমতা ও বার্ষিক ফলাফল তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সিএফও ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন:-
শেয়ার