অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বর্তমান সরকার ব্যাংকিং খাতের চলমান সংস্কারকাজ অব্যাহত রাখবে। গত সোমবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত একান্ত বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরকে এমন আশ্বাস দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।
মন্ত্রীর সঙ্গে একান্ত বৈঠকে গভর্নর গত কয়েক মাসে ব্যাংক খাতের জন্য নেওয়া বিভিন্ন সংস্কার উদ্যোগের অগ্রগতি তুলে ধরেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা কী কী সংস্কার করছি, তার একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেছি।
এসব কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার ওপর তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি এ ব্যাপারে খুবই ইতিবাচক।’
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে জানতে চাইলে গভর্নর বলেন, এটা বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। মূল্যস্ফীতি তো কমাতেই হবে। এ ব্যাপারে কোনো দ্বিমত নেই।
খেলাপি ঋণ কমানো নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে গভর্নর বলেন, ‘বড় খেলাপিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা জোরদার করা, ঋণ পুনর্গঠন নীতিমালা কঠোর করা, ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের চিহ্নিত এবং ব্যাংকগুলোর শ্রেণীকরণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
গভর্নর বলেন, ব্যাংকারদের সঙ্গে আমাদের নিয়মিত আলোচনা হচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন যে পদক্ষেপগুলো কাজ করতে শুরু করেছে। অর্থনীতিতে ঋণপ্রবাহ সচল রাখতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান গভর্নর।
এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, গ্লোবাল ইসলামী ও ইউনিয়ন ব্যাংক—এই পাঁচ ব্যাংক একীভূত হয়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠিত হয়েছে। ব্যাংকটির অনুমোদিত মূলধন ৪০ হাজার কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার ২০ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে। বৈঠকে এই সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
গভর্নর বলেন, এ ব্যাংককে স্থিতিশীল রাখা প্রধান লক্ষ্য। পাঁচ ব্যাংকের পুরনো আমানতকারীরা ধীরে ধীরে টাকা পাচ্ছেন। আসছে নতুন আমানতও।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগের সিদ্ধান্ত হলেও তিনি যোগ দেননি। এ বিষয়ে সর্বশেষ তথ্য জানতে চাইলে গভর্নর বলেন, তিনি অসুস্থ। নতুন এমডি খুঁজতে হবে। এমডি নিয়োগ না দেওয়া পর্যন্ত প্রশাসক ও পরিচালনা পর্ষদ সংস্কার কার্যক্রম চালিয়ে যাবে। প্রয়োজনে বোর্ডের মেয়াদ ও পর্ষদ সদস্য বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
এমএন