ক্যাটাগরি: জাতীয়

মন্ত্রীপরিষদের শপথ অনুষ্ঠানে আসছেন তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি মিনিস্টার

বাংলাদেশের নতুন সরকারের মন্ত্রীদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে তুরস্কের প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নিতে ঢাকায় আসছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি মিনিস্টার অ্যাম্বাসেডর এ বেরিস একিনজি। তুরস্ক সরকারের পক্ষ থেকে এ উচ্চপদস্থ কূটনীতিককে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে নিযুক্ত করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট, নির্ভরযোগ্য সূত্র।

সূত্র জানায়, আগামীকাল মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৫টায় টার্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তিনি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা তাকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানাবেন এবং প্রোটোকল অনুসরণ করা হবে।

অ্যাম্বাসেডর এ বেরিস একিনজি ১৯৬৬ সালের ১৭ মে আঙ্কারায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ২০১৬-২০২১ সাল পর্যন্ত তুরস্কের হাভানা দূতাবাসে অ্যাম্বাসেডর হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। পরে ২০২৪ সালের ১৭ মে থেকে তাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি মিনিস্টার করা হয়। তিনি তুরস্কের পররাষ্ট্র নীতিতে এনার্জি, পরিবেশ, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।

সূত্রমতে, অ্যাম্বাসেডর বেরিস একিনজি বিদায়ী প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এবং নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এই সাক্ষাতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। তুরস্ক ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে- বিশেষ করে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম (যেমন ড্রোন), অর্থনৈতিক সহযোগিতা, মানবিক সাহায্য এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েব এরদোয়ান বিএনপির বিজয়ে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং এই সফরের মাধ্যমে সম্পর্ক আরও মজবুত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এ শপথ অনুষ্ঠান জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ১০টায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে শপথ নেবেন। বিকেল ৪টায় রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন।

আমন্ত্রিত অন্যান্য দেশগুলো হলো চীন, ভারত, পাকিস্তান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), কাতার, মালয়েশিয়া, ব্রুনাই, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মালদ্বীপ এবং ভুটান। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আমন্ত্রিত হলেও তিনি উপস্থিত থাকবেন না; তার পরিবর্তে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এবং পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রী প্রতিনিধিত্ব করবেন। ভুটানের প্রধানমন্ত্রী তশেরিং তোবগে, মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ মুইজ্জু, পাকিস্তানের ফেডারেল মিনিস্টার আহসান ইকবাল, শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড. নলিন্দ জয়তিসাসহ অন্যান্য প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন বলে নিশ্চিত হয়েছে।

বিএনপির নীতি-নির্ধারকদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের আমন্ত্রণে তুরস্কসহ ১৩টি দেশের নেতা বা প্রতিনিধিদের এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করেছে। এই বিজয়কে গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধার হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিদেশি নেতাদের আমন্ত্রণ দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের প্রতি আস্থার প্রতিফলন। অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। হাজারখানেক অতিথি উপস্থিত থাকবেন। ঢাকায় অবস্থিত সকল মিশনের এম্বাসাডর ও তাদের প্রতিনিধিরা এ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।

এমএন

শেয়ার করুন:-
শেয়ার