ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লার ১১টি আসন থেকে ৮৩ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। তাদের মধ্যে ৫৭ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। জামানত টিকেছে ২৬ জনের। জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সব প্রার্থীর।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) কুমিল্লার রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
কুমিল্লা-১ আসনে নয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় করেন। তাদের মধ্যে জামানত বাজেয়াপ্ত হয় সাতজনের। জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়া প্রার্থীরা হলেন- স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু জায়েদ আল মাহমুদ, ওমর ফারুক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বশির আহমেদ, বাংলাদেশ জাসদের বড়ুয়া মনোজিত ধীমান, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির মোহাম্মদ আবুল কালাম, এবি পার্টির মো. সফিউল বাসার ও জাতীয় পার্টির সৈয়দ মো. ইফতেকার আহসান।
কুমিল্লা-২ আসনে ছয়জন প্রার্থীর মধ্যে তিনজনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। তারা হলেন- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ আশরাফুল আলম, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মো. আব্দুস সালাম ও জাতীয় পার্টির মো. আমির হোসেন। কুমিল্লা-৩ আসন থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন নয়জন। তাদের মধ্যে সাতজনের মনোনয়ন বাজেয়াপ্ত হয়।
ওই প্রার্থীরা হলেন- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আহমদ আবদুল কাইয়ুম, আমজনতার দলের চৌধুরী রকিবুল হক, গণঅধিকার পরিষদের মনিরুজ্জামান, বিআরপির মো. এমদাদুল হক, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মো. খোরশেদ আলম, ইনসানিয়াত বিপ্লবের মো. শরীফ উদ্দিন সরকার ও এনডিএমের রিয়াজ মো. শরীফ।
কুমিল্লা-৪ আসনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন পাঁচ প্রার্থী। এদের মধ্যে তিনজনের মনোনয়ন বাজেয়াপ্ত হয়। তারা হলেন-ইনসানিয়াত বিপ্লবের ইরফানুল হক সরকার, খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ মজিবুর রহমান ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আবদুল করিম।
কুমিল্লা-৫ আসনে ১০ প্রার্থীর মধ্যে আটজনেরই জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়া প্রার্থীরা হলেন- বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির আবদুল্লাহ আল ক্বাফী, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের আবুল কালাম ইদ্রিস, ইনসানিয়াত বিপ্লবের তানজিল আহমেদ, এনপিপির মো. আবুল বাসার, জাতীয় পার্টির মো. এমরানুল হক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. রাশেদুল ইসলাম, এবি পার্টির যোবায়ের আহমেদ ভূঁইয়া ও জেএসডির শিরিন আক্তার।
কুমিল্লা-৬ আসনে নয় প্রার্থীর মধ্যে সাতজনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। তারা হলেন- জেএসডির ওবায়দুল করিম মোহন, বাসদের কামরুন্নাহার সাথী, গণঅধিকার পরিষদের মোবারক হোসেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ হারুনুর রশীদ, মুক্তিজোটের মো. আমির হোসেন ফরায়েজী, বিএমএলের মো. ইয়াছিন ও বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মাসুমবিল্লাহ মিয়াজী।
কুমিল্লা-৭ আসনে পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে দুইজনের মনোনয়ন বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তারা হলেন- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. এহতেশামুল হক এবং মুক্তিজোটের সজল কুমার কর।
কুমিল্লা-৮ আসনে আটজন প্রার্থীর মধ্যে ছয় জনের মনোনয়ন বাজেয়াপ্ত হয়। তারা হলেন- ইসলামী ঐক্যজোটের আবদুল কাদের, জাতীয় পার্টির এইচ এম এম ইরফান, বিএসপির মোহাম্মদ গোলাম মোরশেদ, বাসদের মো. আলী আশ্রাফ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. গোলাম ছাদেক ও বিআরপির মফিজ উদ্দীন আহমেদ।
কুমিল্লা-৯ আসনে আট প্রার্থীর মধ্যে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে ছয়জনের। ওই প্রার্থীরা হলেন- ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের আবু বকর ছিদ্দিক, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আবুল কাশেম, জাতীয় পার্টির গোলাম মোস্তফা কামাল, মুক্তিজোটের মিজানুর রহমান চৌধুরী, স্বতন্ত্র প্রার্থী সামিরা আজিম ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সেলিম মাহমুদের।
কুমিল্লা-১০ আসনে সাতজন প্রার্থীর মধ্যে পাঁচজনের মনোনয়ন বাজেয়াপ্ত হয়। তারা হলেন- মুক্তিজোটের কাজী নুরে আলম ছিদ্দিকি, আমজনতার দলের আবদুল্লাহ আল নোমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. শামসুদ্দোহা, গণ অধিকার পরিষদের রমিজ বিন আরিফ ও বাংলাদেশ কংগ্রেসের হাছান আহমেদ।
কুমিল্লা-১১ আসনে সাতজনের মধ্যে পাঁচজনের মনোনয়ন বাজেয়াপ্ত হয়। তারা হলেন-বাংলাদেশ কংগ্রেসের আ ফ ম আবদুর রহিম, মুক্তিজোটের মোহাম্মদ ইউসুফ, গণফ্রন্টের মো. আলমগীর ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. মহিউদ্দিন।
ইসির জারি করা পরিপত্রে বলা হয়েছে, কোনো প্রার্থীকে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকায় প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট পেতে হবে। অন্যথায় জামানত বাবদ জমা দেওয়া ৫০ হাজার টাকা বাজেয়াপ্ত হবে। মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় প্রার্থীরা ৫০ হাজার টাকা জামানত বাবদ জমা দিতে হয়েছে।