ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনের তিনটি ইউনিয়নের ২৫টি ভোটকেন্দ্রে ধানের শীষ প্রতীকের কোনো এজেন্ট দেখা যায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পর সরেজমিনে আলকরা ও গুণবতী ইউনিয়নের প্রায় ১৯টি কেন্দ্র এবং জগন্নাথদিঘী ইউনিয়নের ৫টি কেন্দ্রে ধানের শীষের কোনো এজেন্ট পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চাইলে তারা জানান, আগের রাতে ধানের শীষের এজেন্টদের তালিকা জমা দেওয়া হলেও সকালে কোনো এজেন্ট কেন্দ্রে উপস্থিত হননি। প্রার্থীর পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি বলে তারা জানান।
গুণবতী ইউনিয়নের বুধড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র ও গুণবতী বহুমুখী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট বুথগুলোতে ধানের শীষ প্রতীকের কোনো এজেন্ট নেই। তবে বাংলাদেশ কংগ্রেসের ডাব প্রতীক, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীক এবং মুক্তিজোটের ছড়ি প্রতীকের এজেন্টদের উপস্থিতি দেখা গেছে।
বুধড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ সেলিম বলেন, ‘সকাল থেকে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর কোনো এজেন্ট যোগাযোগ করেননি। প্রার্থীর পক্ষ থেকেও কোনো বার্তা পাইনি। একই ধরনের বক্তব্য দেন গুণবতী বহুমুখী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রিজাইডিং কর্মকর্তাও।
এদিকে জগন্নাথ ইউনিয়নের আতাকরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সকালে দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর অনুসারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন বিএনপির প্রার্থী।
এছাড়া জগন্নাথদিঘী ইউনিয়নের পায়েলখোলা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে ধানের শীষ প্রতীকের এক এজেন্টকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
একই সঙ্গে আলকরা ও গুণবতী ইউনিয়নের কয়েকটি কেন্দ্রে ধানের শীষের সমর্থকদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন বিএনপি প্রার্থী মো. কামরুল হুদা।
কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনের বিএনপি প্রার্থী কামরুল হুদা বলেন, গুণবতী ও আলকরা ইউনিয়নের সব কেন্দ্র এবং জগন্নাথদিঘী ইউনিয়নের অধিকাংশ কেন্দ্র থেকে আমার এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে। ধানের শীষের সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। কেউ ধানের শীষে ভোট দিতে চাইলে জোর করে ব্যালটে অন্য প্রতীকে সিল দিয়ে বের করে দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বারবার প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়েছি।
এ বিষয়ে জানতে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নুরুল আমিনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এমএন