রমজান মাস মুমিনের জন্য সংযম, আত্মশুদ্ধি ও তাকওয়া অর্জনের এক অনন্য সুযোগ। এ মাসে শুধু পানাহার থেকে বিরত থাকার নাম রোজা পালন নয়; বরং দৃষ্টি, জিহ্বা, কান ও চিন্তাকেও গোনাহ থেকে সংযত রাখার শিক্ষা দেয় ইসলাম। তাই শরিয়তের দৃষ্টিতে রোজার কিছু বিষয় রয়েছে, যেগুলো রোজা ভঙ্গ না করলেও এর সওয়াব কমিয়ে দেয় বা রোজাকে মাকরুহ করে তোলে।
অনেক সময় অজ্ঞতাবশত বা অসতর্কতার কারণে মানুষ এমন কিছু কাজ করে বসে, যা রোজার আদব ও মর্যাদার পরিপন্থী। তাই রোজার হুকুম-আহকাম জানার পাশাপাশি কোন কাজগুলো রোজাকে মাকরুহ করে তোলে—এ বিষয়ে সচেতন থাকা প্রতিটি মুসলমানের জন্য জরুরি।
নিচে অর্থসংবাদ পাঠকদের জন্য হাদিস ও ফিকহের আলোকে এমন কয়েকটি কারণ উল্লেখ করা হলো, যেগুলোর কারণে রোজা মাকরুহ হয়ে যায়।
এক : কুলি করার সময় গড়গড়া করা এবং নাকে পানি দেওয়ার সময় উপরের দিকে পানি পৌঁছানো মাকরুহ। হযরত লাকিত ইবনে সবিরা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,‘নাকে পানি দেওয়ার সময় ভালোভাবে নাকে পানি দাও, তবে রোজাদার হলে নয়। (জামে তিরমিজি : ৭৬৬, সুনানে আবু দাউদ : ১/৩২২, মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বা : ৯৮৪৪)
দুই : এমন কাজ করা মাকরুহ, যার দ্বারা রোজাদার নিতান্তই দুর্বল হয়ে পড়ে। যেমন শিঙ্গা লাগানো।
তিন: রোজা অবস্থায় শরীর থেকে রক্ত বের হলে বা ইনজেকশন ইত্যাদি দ্বারা রক্ত বের করলে রোজা ভাঙ্গবে না। তবে ইচ্ছাকৃতভাবে এ পরিমাণ রক্ত বের করা মাকরুহ, যার দ্বারা রোজাদার খুব দুর্বল হয়ে যায়। সাবেত আলবুনানী (রাহ.) বলেন, হজরত আনাসকে (রা.) জিজ্ঞাসা করা হলো, রোজার হালতে শিঙ্গা লাগানোকে কি আপনারা মাকরুহ মনে করতেন? তিনি বলেন, ‘না। তবে এ কারণে দুর্বল হয়ে পড়লে তা মাকরুহ হবে।’ (বোখারি : ১৯৪০)
চার: রোজার হালতে গিবত করলে, গালি-গালাজ করলে, টিভি-সিনেমা ইত্যাদি দেখলে, গান-বাদ্য শ্রবণ করলে এবং যে কোনো বড় ধরনের গোনাহে লিপ্ত হলে রোজা মাকরুহ হয়ে যায়। আর এ কাজগুলো যে সর্বাবস্থায় হারাম, তা তো বলাই বাহুল্য। হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,‘তোমাদের কেউ যখন রোজা রাখে, তখন সে যেন অশালীন কথাবার্তা না বলে ও হৈ চৈ না করে। (বোখারি: ১৯০৪)
সুনানে আবু দাউদের রেওয়ায়েতে এ শব্দ রয়েছে, ‘রোজাদার যেন কোনো অন্যায়-অপরাধে লিপ্ত না হয়’(হাদিস : ৩৩৬৩-১/৩২২)। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি মিথ্যা-প্রতারণা ও গোনাহর কাজ ত্যাগ করে না, আল্লাহ তায়ালার নিকট তার পানাহার থেকে বিরত থাকার কোনো মূল্য নেই।’(বোখারি : ১৯০৩, আবু দাউদ : ৩৩৬২-১/৩২২)
নাইম