২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ভেন্যু পরিবর্তন নিয়ে আইসিসির সিদ্ধান্ত বদলাতে শেষ চেষ্টা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। নিরাপত্তা ইস্যুতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে নাম প্রত্যাহারের পরও আইসিসির ডিসপিউট রেজোলিউশন কমিটি বা ডিআরসিতে পুনরায় চিঠি পাঠিয়েছে বিসিবি। বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বে বোর্ড কার্যত কোণঠাসা হয়ে এই পথ বেছে নেয়।
বিসিবির একটি সূত্র ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে জানিয়েছে, ‘হ্যাঁ, বিসিবি ডিআরসির কাছে গেছে। তারা সব পথ ব্যবহার করতে চায়। ডিআরসি বিপক্ষে রায় দিলে তখন একমাত্র পথ হবে সুইজারল্যান্ডের কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্টস।’
ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল আগেই ঘোষণা দেন, ‘নিরাপত্তাজনিত কারণে’ দল ভারত সফর করবে না। এই অবস্থান আসে সিনিয়র পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে বিসিসিআইয়ের নির্দেশে কলকাতা নাইট রাইডার্সের স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়ার পর।
আইসিসির সংবিধান ও ডিআরসির কার্যপরিধি দেখলে স্পষ্ট হয়, আইসিসি বোর্ড অব ডিরেক্টরসের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল শোনার ক্ষমতা এই কমিটির নেই।
আইসিসি বোর্ড ১৪-২ ভোটে বাংলাদেশের ম্যাচ ভারতে রাখার পক্ষে সিদ্ধান্ত নেয়। স্বাধীন নিরাপত্তা মূল্যায়নে হুমকির মাত্রা ‘কম থেকে মাঝারি’ বলা হয়। এরপরও আসিফ নজরুল বলেন, এই সিদ্ধান্ত বিসিবির নয়, সরকারের।
ডিআরসির কার্যপরিধির ১.৩ ধারায় বলা আছে, ‘এই কমিটি আইসিসি বা আইসিসির অধীনে গঠিত কোনো সংস্থার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল শুনবে না।’
আইসিসি বোর্ডের এক সূত্র বলেছে, ‘বাংলাদেশ ডিআরসিতে যেতে পারে। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী এই মামলা শোনার সুযোগই নেই। কারণ এটি বোর্ডের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে।’
জানা গেছে, অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ উপলক্ষে নামিবিয়ায় থাকা আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ এখন দুবাইয়ে আছেন। শনিবারের মধ্যে বাংলাদেশের বদলি দল নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।
একটি সূত্র জানায়, ‘আইসিসি বোর্ডের সদস্যরা আমিনুল ইসলাম বুলবুলের ওপর খুবই ক্ষুব্ধ। আইসিসিকে না জানিয়ে কেন সংবাদ সম্মেলন করা হলো, সেটি নিয়ে প্রশ্ন আছে।
ডিআরসি ব্রিটিশ আইন অনুযায়ী কাজ করে। ২০১৮ সালে তারা পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের করা ৭ কোটি ডলারের ক্ষতিপূরণ দাবি খারিজ করেছিল। তখন ডিআরসি রায়ে বলে, দুই দেশের মধ্যে থাকা নথিটি ছিল শুধু ‘লেটার অব ইনটেন্ট’, বাধ্যতামূলক চুক্তি নয়।
ডিআরসি মূলত দেখে, আইসিসি বোর্ড নিয়ম মেনে সিদ্ধান্ত নিয়েছে কি না। এটি কোনো আপিল আদালত নয়।
এই কমিটিতে মাইকেল বেলফ ছাড়াও আছেন মাইক হেরন, বিচারপতি উইনস্টন অ্যান্ডারসন, ডিওন ভ্যান জিল, গ্যারি রবার্টস, গুও কাই, অ্যানাবেল বেনেট, জ্যঁ পলসন, পিটার নিকলসন, বিজয় মালহোত্রা ও স্যালি ক্লার্ক।
এমএন