শরীয়তপুরের সখিপুরের উত্তর তারাবুনিয়া ইউনিয়নের ৭নম্বর ওয়ার্ডের বেপারী কান্দিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে উত্তর তারাবুনিয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা রহমান বেপারীর বসতবাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, বিদ্যুৎ মিটারের শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে ঘরের পাশে থাকা গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত (ব্লাস্ট) হলে আগুন দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ভয়াবহ রূপ ধারণ করে।
মহিলাদের কান্না ও চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। আগুনের তীব্রতা বেশি হওয়ায় বসতবাড়ির দুটি বড় ঘর সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করা হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হলেও রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে তাদের পৌঁছাতে দেরি হয়। এর আগেই দুটি ঘর সম্পূর্ণ ছাই হয়ে যায়।
এ ঘটনায় ঘরের ভেতরে থাকা দুটি শিশু গুরুতরভাবে আহত হয়। প্রথমে তাদের চাঁদপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে রেফার করা হয়। বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
অন্যদিকে বাড়ির মালিক রহমান বেপারীর মুখের কিছু অংশ পুড়ে যায় এবং দুটি দাঁত ভেঙে যায়। তিনি জানান, আগুনে ঘরের ভেতরে থাকা প্রায় ১২ লাখ ৬৫ হাজার টাকা নগদ অর্থ এবং ৮ ভরি স্বর্ণালংকার পুড়ে নষ্ট হয়ে গেছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আক্তার হোসেন আসামি বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সরকারিভাবে সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা বলেন, “আমরা ২৪ ঘণ্টা মানুষের সেবায় প্রস্তুত আছি। তবে এলাকার রাস্তা-ঘাট অত্যন্ত সংকীর্ণ ও ভাঙাচোরা হওয়ায় ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে সময় লেগেছে।
তিনি আরও জানান, ফায়ার সার্ভিস পৌঁছানোর আগেই অধিকাংশ ক্ষয়ক্ষতি হয়ে যায়। প্যানেল চেয়ারম্যান আক্তার হোসেন আসামি ও ভুক্তভোগী রহমান বেপারী জানান, এলাকাবাসীর সহযোগিতা না পেলে পুরো গ্রামই আগুনে পুড়ে যেতে পারত।
এমকে