ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর খাতভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাস আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার দাবি জানিয়েছে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) ডিবিএ সভাপতি সাইফুল ইসলাম বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ দাবি জানান।
চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, ডিএসই বর্তমানে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে ২২টি খাতে শ্রেণিবদ্ধ করে—যার মধ্যে সরকারি ও কর্পোরেট বন্ড এবং মিউচুয়াল ফান্ডও রয়েছে। তবে এই শ্রেণিবিন্যাস কাঠামো বহু বছর ধরে অপরিবর্তিত থাকায় তা বর্তমান বৈশ্বিক পুঁজিবাজার বাস্তবতার সঙ্গে আর সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
ডিবিএ সভাপতি জানান, বিশ্বের অধিকাংশ পুঁজিবাজার এখন গ্লোবাল ইন্ডাস্ট্রি ক্লাসিফিকেশন স্ট্যান্ডার্ড (জিআইসিএস) অথবা ইন্ডাস্ট্রি ক্লাসিফিকেশন বেঞ্চমার্ক (আইসিবি) অনুসরণ করছে। এসব মানদণ্ড খাতভিত্তিক বাজার বিশ্লেষণকে আরও স্বচ্ছ, তুলনাযোগ্য ও কার্যকর করে তোলে।
চিঠিতে বিদ্যমান শ্রেণিবিন্যাসের অসংগতির কিছু উদাহরণও তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেড বর্তমানে ‘ফার্মাসিউটিক্যালস অ্যান্ড কেমিক্যালস’ খাতে এবং ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ ‘ফুড অ্যান্ড অ্যালাইড’ খাতে তালিকাভুক্ত। অথচ আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী উভয় প্রতিষ্ঠানই ‘কনজ্যুমার স্ট্যাপলস’ খাতে অন্তর্ভুক্ত হওয়া যুক্তিযুক্ত। একইভাবে ওয়ালটন, সিঙ্গার, বাটা ও এপেক্সের মতো কোম্পানিগুলোকে ‘কনজ্যুমার ডিসক্রিশনারি’ খাতে শ্রেণিবদ্ধ করলে তাদের প্রকৃত ব্যবসায়িক চরিত্র আরও সঠিকভাবে প্রতিফলিত হবে বলে মত দেয় ডিবিএ।
সংগঠনটির মতে, খাতভিত্তিক পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ অর্থনৈতিক প্রবণতা, ভোক্তা আচরণ এবং আয় বৃদ্ধির ধারা বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে পুরোনো ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ শ্রেণিবিন্যাস কাঠামো এই বিশ্লেষণকে দুর্বল করে।
ডিবিএ আরও জানায়, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত খাতভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাস গ্রহণ করা হলে বাজারের স্বচ্ছতা বাড়বে, বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে তুলনাযোগ্যতা তৈরি হবে এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি দেশের পুঁজিবাজার একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক সূচক হিসেবে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে ডিএসইর খাতভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাস সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য বিএসইসির প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ডিবিএ। সংগঠনটি আশা প্রকাশ করেছে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের পুঁজিবাজারে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ও বিশ্বাসযোগ্যতা আরও সুদৃঢ় হবে।