ধর্ম ও জীবন
শবে মেরাজের ঘটনা থেকে চারটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা
রজব মাস মুসলমানদের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এই মাস তওবা ও আত্মশুদ্ধির মাস, একই সঙ্গে রমজানের প্রস্তুতির সূচনাকাল। এই মাসেই সংঘটিত হয়েছিল ইতিহাসের বিস্ময়কর ঘটনা ইসরা ও মেরাজ। সেই রাতে মহানবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কা থেকে জেরুজালেম হয়ে সপ্তম আসমানে গমন করে আল্লাহর সান্নিধ্যে পৌঁছান।
উম্মতের জন্য শ্রেষ্ঠ উপহার নামাজ
মেরাজের রাতে মহানবী (সা.) জেরুজালেমে পৌঁছে পূর্ববর্তী নবীদের নিয়ে নামাজের ইমামতি করেন। এরপর আসমানে আরোহণ করে আল্লাহর সঙ্গে কথোপকথনের সৌভাগ্য লাভ করেন।
সেখানেই মুসলিম উম্মতের জন্য মহামূল্যবান উপহার দেওয়া হয় পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ। তবে শুরুতে আল্লাহ প্রতিদিন ৫০ ওয়াক্ত নামাজের নির্দেশ দিয়েছিলেন। ফেরার পথে হজরত মুসা (আ.)-এর সঙ্গে দেখা হয় মহানবীর। তিনি নামাজের সংখ্যা জানতে চাইলে মহানবী জানান, ৫০ ওয়াক্ত।
উম্মত এত ভারী দায়িত্ব পালন করতে পারবে না জানিয় আশঙ্কা প্রকাশ করেন মুসা (আ.)। তিনি মহানবীকে বারবার আল্লাহর কাছে ফিরে গিয়ে নামাজের সংখ্যা কমানোর অনুরোধ করতে বলেন। এভাবে কয়েক দফা কমে শেষ পর্যন্ত তা পাচ ওয়াক্তে এসে দাঁড়ায়। এরপরও মুসা (আ.) আবার যেতে অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু মহানবী (সা.) আর যাননি।
কারণ হিসেবে তিনি বলেন, আল্লাহর সামনে বারবার ফিরে গিয়ে কমানোর আবেদন করতে তিনি লজ্জাবোধ করছেন।
শবে মেরাজ থেকে চারটি শিক্ষা
এই ঘটনা থেকে মুসলমানদের জন্য চারটি বড় শিক্ষা রয়েছে।
১. শোনা ও মানা
আল্লাহ যখন মহানবীকে ৫০ ওয়াক্ত নামাজের নির্দেশ দেন, তিনি কোনো প্রশ্ন বা আপত্তি না করে তা মেনে নেন। তিনি আল্লাহর আদেশ শোনেন এবং মানেন। এটি মুসলমানদের জন্য স্পষ্ট দিকনির্দেশনা—আল্লাহ ও তার রাসুল যা করতে বলেন, তা বিনা দ্বিধায় গ্রহণ করা।
২. উপদেশ গ্রহণের মানসিকতা
মুসা (আ.)-এর পরামর্শ না পেলে মহানবী নামাজ কমানোর আবেদন করতেন না। এতে বোঝা যায়, তিনি অন্যের কল্যাণকামী উপদেশ গ্রহণে সদা প্রস্তুত ছিলেন।
আমাদের জন্য শিক্ষাণীয় হলো, আমরা কি নিজের ভুল ধরিয়ে দেওয়ার উপদেশ সহজভাবে গ্রহণ করতে পারি?
৩. উম্মতের প্রতি গভীর মমতা
নামাজ কমানোর জন্য আল্লাহর কাছে বারবার ফিরে যাওয়া মহানবীর নিঃস্বার্থ ভালোবাসারই প্রমাণ। তিনি চাইলে নিজে ৫০ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতে পারতেন। কিন্তু তিনি ভেবেছেন উম্মতের কথা, তারা যেন কষ্টে না পড়ে, দ্বীনের পথে টিকে থাকতে পারে। এতে স্পষ্ট হয়, আমাদের জন্য তার ভালোবাসা কত গভীর ছিল।
আমাদের জন্য শিক্ষণীয় ও ভাবনার বিষয় হলো, আমরা আমাদের মুসলিম ভাই-বোনদের জন্য কী করছি? তাদের কষ্ট লাঘবে আমাদের ভূমিকা কী?
৪. আল্লাহর সামনে লজ্জাবোধ
সবশেষে রয়েছে এক অনন্য শিক্ষা। আর তাহলো, আল্লাহর সামনে লজ্জাবোধ ও বিনয়।
মুসা (আ.)-এর অনুরোধে ৫০ ওয়াক্ত থেকে নামাজের সংখ্যা কমাতে কমাতে ৫ ওয়াক্ত পর্যন্ত নিয়ে আসা হয়। এরপর মহানবী আর নামাজ কমানোর আবেদন করেননি, কারণ তিনি তার প্রভুর সামনে লজ্জা অনুভব করেছিলেন।এই অনুভূতি আমাদের মাঝেও থাকা দরকার।
আমাদের ভাবা উচিত নামাজ কাজা হলে আমরাও কি কাজা নামাজের জন্য লজ্জাবোধ করি? অশালীন কিছু দেখার আগে কি আমাদের বিবেক বাধা দেয়?
মহানবী (সা.) আল্লাহকে জীবনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন। উম্মতের কথা ভেবেছেন, অন্য নবীর উপদেশ মেনেছেন, কিন্তু আল্লাহর সামনে বিনয় ও লজ্জার অনুভূতিকে কখনো উপেক্ষা করেননি। আমাদেরও তা বুঝে ও মেনে চলা উচিত।
এমকে
জাতীয়
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ‘না’ নিয়ে যা বললেন বায়তুল মোকাররমের খতিব
গণভোটে একাধিক বিষয়ের ওপর একসঙ্গে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ বলতে বাধ্য করায় জনগণকে এক ধরনের পেরেশানি ও যন্ত্রণার মধ্যে ফেলা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আবদুল মালেক।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) জুমার খুতবায় তিনি ভোটের অধিকারকে একটি পবিত্র ‘আমানত’ হিসেবে উল্লেখ করে দেশবাসীকে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
মুফতি আবদুল মালেক বলেন, গণভোটে পাঁচ থেকে আটটি বিষয়ে একসঙ্গে ভোট নেওয়া হচ্ছে। অথচ ভোটারদের প্রতিটি বিষয়ে আলাদাভাবে মত দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়নি। আলাদা আলাদা অপশন নাই কেন। আপনাদের সিলে কম পড়ছে, না কালিতে টান পড়ছে; কিসে কম পড়ছে। ‘হ্যাঁ’ বলতে হলে সব বিষয়ে ‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’ বলতে হলে সব বিষয়ে ‘না’ বলতে হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ পেরেশানিতে পড়েছে।
তিনি বলেন, একজন ভোটার কোনো কোনো বিষয়ের সঙ্গে একমত হতে পারেন, আবার কিছু বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করতে পারেন। আলাদা আলাদা প্রশ্ন থাকলে তিনি সেভাবেই উত্তর দিতে পারতেন। কিন্তু বর্তমান ব্যবস্থায় তা সম্ভব নয়। এ কারণে মানুষকে জোরপূর্বক একটি অবস্থান নিতে বাধ্য করা হচ্ছে।
খুতবায় তিনি ভোটকে একটি পবিত্র ‘আমানত’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ভয়, লোভ বা প্ররোচনায় পড়ে নয়, বরং আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে ও সচেতনভাবে ভোট দেওয়া উচিত। এ ক্ষেত্রে বিজ্ঞ ও সৎ ব্যক্তিদের সঙ্গে পরামর্শ করার কথাও বলেন তিনি।
জাতীয় মসজিদের খতিব বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’- দুটি বিকল্প থাকায় জনগণের যেকোনোটি বেছে নেওয়ার অধিকার রয়েছে। সরকার বা কোনো দল ‘হ্যাঁ’ ভোটে উৎসাহ দিলেও ‘না’ ভোট দেওয়া কোনো অপরাধ নয়। কাউকে কোনো একটি পক্ষ নিতে বাধ্য করা উচিত নয়।
ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে দলীয় নাম, প্রতীক বা স্লোগানে প্রভাবিত না হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। ইসলামের নাম ব্যবহার করলেই কোনো দল ইসলামসম্মত- এমন ধারণা ঠিক নয় বলেও মন্তব্য করেন মুফতি আবদুল মালেক। দলগুলোর আদর্শ, ইশতেহার ও কর্মকাণ্ড যাচাইয়ের ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।
তিনি বলেন, অনেক দল ইসলামের নাম ব্যবহার করলেও বাস্তবে তাদের কর্মকাণ্ড সেকুলার ধারার মতো হতে পারে। তাই ভোট দেওয়ার আগে সঠিকভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
খুতবার মূল বক্তব্যে মুফতি আবদুল মালেক বলেন, ভোটাধিকার সচেতনভাবে প্রয়োগ করতে হবে। কোনো চাপ বা প্রলোভনে পড়ে নয়, বরং চরিত্র, তাকওয়া ও যোগ্যতাকে গুরুত্ব দিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
ধর্ম ও জীবন
দুনিয়ার মোহ থেকে মুক্তির নবী (সা.)-এর দৃষ্টিভঙ্গি
মানুষের জীবনে আরাম-আয়েশের আকাঙ্ক্ষা চিরন্তন। একটু স্বস্তি, একটু নরম বিছানা, কিছু আরামদায়ক উপকরণ; এসবকেই আমরা সুখের মাপকাঠি মনে করি। অথচ যিনি ছিলেন সমগ্র মানবজাতির নেতা, আল্লাহর প্রিয়তম রাসুল, তাঁর জীবন ছিল অবিশ্বাস্য সরলতা, সংযম ও দুনিয়াবিমুখতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাঁর জীবন আমাদের শেখায়, প্রকৃত মর্যাদা আরামের মধ্যে নয়; বরং আল্লাহমুখী হৃদয়, সংযমী জীবন ও আখিরাতমুখী দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যেই রয়েছে সত্যিকারের সফলতা।
নিচের হাদিসটি দেখুন-
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ نَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى حَصِيرٍ فَقَامَ وَقَدْ أَثَّرَ فِي جَنْبِهِ فَقُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ لَوِ اتَّخَذْنَا لَكَ وِطَاءً . فَقَالَ “ مَا لِي وَمَا لِلدُّنْيَا مَا أَنَا فِي الدُّنْيَا إِلاَّ كَرَاكِبٍ اسْتَظَلَّ تَحْتَ شَجَرَةٍ ثُمَّ رَاحَ وَتَرَكَهَا ” .
আবদুল্লাহ (রা.) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো একসময় খেজুর পাতার মাদুরে শুয়েছিলেন। তিনি ঘুম হতে জাগ্রত হয়ে দাঁড়ালে দেখা গেল তার গায়ে মাদুরের দাগ পড়ে গেছে। আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমরা আপনার জন্য যদি একটি নরম বিছানার (তোষক) ব্যবস্থা করতাম। তিনি বললেন, দুনিয়ার সঙ্গে আমার কি সম্পর্ক দুনিয়াতে আমি এমন একজন পথচারী মুসাফির ছাড়া তো আর কিছুই নই, যে একটি গাছের ছায়ায় আশ্রয় নিল, তারপর তা ছেড়ে দিয়ে গন্তব্যের দিকে চলে গেল।
(তিরমিজি, হাদিস : ২৩৭৭)
এই হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুনিয়ার প্রকৃত বাস্তবতা অত্যন্ত হৃদয়গ্রাহী উপমার মাধ্যমে তুলে ধরেছেন। দুনিয়া স্থায়ী আবাস নয়; এটি সাময়িক বিশ্রামস্থল মাত্র। যেমন পথিক দীর্ঘ সফরের মাঝে কিছুক্ষণ ছায়ায় বিশ্রাম নিয়ে আবার যাত্রা শুরু করে, তেমনি মানুষের প্রকৃত গন্তব্য আখিরাত। তাই দুনিয়ার আরাম-আয়েশ, ভোগ-বিলাস ও প্রাচুর্যের প্রতি অতিরিক্ত আসক্ত হওয়া একজন মুমিনের জন্য সমীচীন নয়।
এ হাদিস আমাদের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়। প্রথমত, সরল জীবনযাপন মানুষের মর্যাদা কমায় না; বরং তা হৃদয়কে পরিশুদ্ধ ও আল্লাহর নিকটবর্তী করে। দ্বিতীয়ত, দুনিয়ার সাময়িক কষ্ট বা অভাব নিয়ে অতিরিক্ত দুঃখিত হওয়ার কিছু নেই, কারণ এটি চিরস্থায়ী নয়। তৃতীয়ত, জীবনের মূল প্রস্তুতি হওয়া উচিত আখিরাতের জন্য, দুনিয়াকে লক্ষ্য নয়, বরং মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করা।
মোটকথা, একজন মুমিনের দৃষ্টিতে দুনিয়া হলো সফরের পথ, আর আখিরাত হলো স্থায়ী ঠিকানা। যে ব্যক্তি এ সত্য উপলব্ধি করতে পারে, তার জীবন হয়ে ওঠে সংযমী, সচেতন ও উদ্দেশ্যময়; আর সে দুনিয়ার মোহে নয়, বরং চিরস্থায়ী সফলতার পথেই এগিয়ে চলে।
এমএন
ধর্ম ও জীবন
মহানবী (সা.) শাবান মাসে যে দোয়া বেশি বেশি পড়তেন
যেকোনো বড় আয়োজন সফলতার সহিত সম্পাদনের জন্য যেমন প্রস্তুতি প্রয়োজন। রমজানের রোজা ও অন্যান্য ইবাদত উত্তম রূপে সম্পাদনের জন্য তেমনি অগ্রিম প্রস্তুতি প্রয়োজন। কারণ রমজান মুমিন জীবনের জন্য অনেক বড় এক পাওনা। সেই ক্ষেত্রে প্রথম প্রস্তুতি হচ্ছে রমজান পযর্ন্ত বেঁচে থাকার দোয়া করা।
রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রজব ও শাবান মাসব্যাপী বেশি বেশি বরকত হাসিলের দোয়া করতেন। রমজান মাসে ইবাদত করার সুযোগ চাইতেন। তিনি এ দোয়া বেশি বেশি পড়তেন। দোয়াটি হলো–
اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِي رَجَبٍ، وَشَعْبَانَ، وَبَلِّغْنَا رَمَضَانَ
উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফি রাজাব ওয়া শাবান, ওয়া বাল্লিগনা রমাদান।
অর্থ : হে আল্লাহ! রজব মাস ও শাবান মাস আমাদের জন্য বরকতময় করুন; রমজান আমাদের নসিব করুন। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ২৫৯)
এমএন
ধর্ম ও জীবন
জুমার দিন যেসব আমলে গুনাহ মাফ হয়
ইসলামে জুমার দিনটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পবিত্র কোরআনে জুমার দিন দ্রুত মসজিদে গমনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তা ছাড়া হাদিসে গুরুত্বপূর্ণ আমলের কথা বর্ণিত হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনরা! জুমার দিন নামাজের আজান হলে তোমরা আল্লাহর স্মরণে ধাবিত হও এবং বেচাবিক্রি বন্ধ কোরো, তা তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা বুঝো।
এরপর নামাজ শেষ হলে ভূপৃষ্ঠে ছড়িয়ে পড়ো এবং আল্লাহর অনুগ্রহ (জীবিকা) অনুসন্ধান করো এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করো, যাতে তোমরা সফলকাম হও।’ (সুরা : জুমা, আয়াত : ৯-১০)
জুমার দিনের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আমল সম্পর্কে নিম্নে আলোচনা করা হলো—
১. জুমার দিনের বিশেষ মর্যাদা
আবু লুবাবা বিন আবদুল মুনজির (রা.) থেকে বর্ণিত, হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) জুমার দিনের পাঁচটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করেছেন। সেগুলো হলো—এক. আল্লাহ তাআলা এই দিনে আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করেছেন। দুই. আল্লাহ তাআলা এই দিনে আদম (আ.)-কে জমিনে অবতরণ করিয়েছেন।
তিন. এই দিনে আদম (আ.)-কে মৃত্যু দিয়েছেন। চার. এই দিনে এমন একটি সময় আছে, যখন বান্দা আল্লাহর কাছে যা কিছুই প্রার্থনা করবে তিনি তা দেবেন। যতক্ষণ সে হারাম কিছু প্রার্থনা করবে না। পাঁচ. এই দিনে কিয়ামত সংঘটিত হবে।
’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৮৯৫)
২. জুমার নামাজ আদায়
সালমান ফারসি থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করল, সাধ্যমতো পবিত্র হলো, তেল ব্যবহার করল, ঘর থেকে সুগন্ধি ব্যবহার করল, অতঃপর মসজিদে এলো, সেখানে দুজন মুসল্লির মধ্যে ফাঁক করে সামনে এগিয়ে যায় না, নির্দিষ্ট পরিমাণ নামাজ পড়ল, অতঃপর ইমাম কথা শুরু করলে চুপ থাকল; তাহলে আল্লাহ তাআলা তাঁর দুই জুমার মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহ মাফ করবেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৮৮৩)
অন্য হাদিসে এসেছে, আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা, এক রমজান থেকে পরবর্তী রমজান মধ্যবর্তী সময়ের পাপ মোচন করে; যদি সেই ব্যক্তি সব ধরনের কবিরা গুনাহ থেকে বিরত থাকে।’ (মুসলিম, হাদিস : ২৩৩)
৩. জুমার দিন গোসল করা
জুমার দিন গোসল করা ও আগে আগে মসজিদে যাওয়া অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। আউস বিন আউস সাকাফি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন ভালো করে গোসল করল, দ্রুততর সময়ে মসজিদে গেল ও (ইমামের) কাছাকাছি বসে মনোযোগসহ (খুতবা) শুনল, তাঁর জন্য প্রতি কদমের বদলে এক বছরের রোজা ও নামাজের সওয়াব থাকবে।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৩৪৫)
৪. মসজিদে প্রথমে প্রবেশ করা
জুমার দিন মসজিদে আগে প্রবেশ করা ও মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনার বিশেষ গুরুত্ব আছে।
রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করল, অতঃপর প্রথমে মসজিদে গেল সে যেন একটি উট কোরবানি করল। যে এরপর মসজিদে গেল, সে যেন একটি গরু কোরবানি করল। আর যে এরপর ঢুকল, সে যেন ছাগল কোরবানি করল, এরপর যে ঢুকল সে যেন মুরগি কোরবানি করল, আর যে এরপর ঢুকল সে ডিম সদকা করল। অতঃপর ইমাম খুতবার জন্য এলে ফেরেশতারা আলোচনা শোনা শুরু করে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৮৪১)
৫. দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্ত
জুমার দিন দোয়া কবুল হয় জুমার দিন একটি সময় আছে, যখন মানুষ আল্লাহর কাছে কোনো দোয়া করলে আল্লাহ তা কবুল করেন। জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘জুমার দিন কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে ভালো কিছুর দোয়া করলে আল্লাহ তাকে তা দেন। তোমরা সময়টি আসরের পর অনুসন্ধান কোরো।’ (আবু দাউদ, হাদিস নম্বর : ১০৪৮)
জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘জুমার দিনের বারো ঘণ্টার মধ্যে এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে যদি কোনো মুসলিম এ সময় আল্লাহর কাছে কিছু প্রার্থনা করে, তাহলে মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহ তাকে দান করেন। এই মুহূর্তটি তোমরা আছরের শেষ সময়ে অনুসন্ধান কোরো। (আবু দাউদ, হাদিস : ১০৪৮)
৬. সুরা কাহাফ পাঠ
জুমার অন্যতম আমল সুরা কাহাফ পাঠ করা। আবু সাইদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন সুরা কাহাফ পড়বে তা দুই জুমার মধ্যবর্তী সময়ে তার জন্য আলোকিত হয়ে থাকবে। আর যে ব্যক্তি এই সুরার শেষ ১০ আয়াত পাঠ করবে অতঃপর দাজ্জাল বের হলে তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।’ (সহিহ তারগিব, হাদিস : ১৪৭৩, আল মুসতাদরাক : ২/৩৯৯)
৭. গুনাহ মাফ হয়
সালমান ফারসি থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করল, সাধ্যমতো পবিত্র হলো, তেল ব্যবহার করল, ঘর থেকে সুগন্ধি ব্যবহার করল, অতঃপর মসজিদে এলো, সেখানে দুজন মুসল্লির মধ্যে ফাঁক করে সামনে এগিয়ে যায় না, নির্দিষ্ট পরিমাণ নামাজ পড়ল, অতঃপর ইমাম কথা শুরু করলে চুপ থাকল; তাহলে আল্লাহ তাআলা তাঁর দুই জুমার মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহ মাফ করেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৮৮৩)
৮. দরুদ পাঠ
জুমার দিন নবীজি (সা.)-এর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা কর্তব্য। আউস বিন আবি আউস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের দিনগুলোর মধ্যে জুমার দিন সর্বোত্তম। এই দিনে আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে। এই দিনে তিনি ইন্তেকাল করেছেন। এই দিনে শিঙায় ফুঁ দেওয়া হবে এবং এই দিনে সবাইকে বেহুঁশ করা হবে। অতএব, তোমরা এই দিনে আমার ওপর বেশি পরিমাণ দরুদ পড়ো। কারণ জুমার দিনে তোমাদের দরুদ আমার কাছে পেশ করা হয়।’ সাহাবারা বললেন, আমাদের দরুদ আপনার কাছে কিভাবে পেশ করা হবে, অথচ আপনার দেহ একসময় নিঃশেষ হয়ে যাবে? তিনি বলেন, ‘আল্লাহ জমিনের জন্য আমার দেহের ভক্ষণ নিষিদ্ধ করেছেন।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ১০৪৭)
এমএন
ধর্ম ও জীবন
আজ পবিত্র শবে বরাত
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) পবিত্র শবেবরাত। হিজরি সনের শাবান মাসের ১৪ তারিখের মুসলমানদের কাছে‘সৌভাগ্যের রাত’ হিসেবে পরিচিত। ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের বিশ্বাস, এ রাতে মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য অশেষ রহমতের দরজা খুলে দেন।
‘শবেবরাত’ ফারসি শব্দ। এখানে ‘শব’ অর্থ রাত এবং ‘বরাত’ অর্থ মুক্তি, শান্তি ও সৌভাগ্য। আরবি ভাষায় এ রাতকে বলা হয় ‘লাইলাতুল বরাত’। হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী, এ মহিমান্বিত রাতে আল্লাহ তায়ালা তাঁর অসংখ্য বান্দার গুনাহ মাফ করেন এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করেন।
পবিত্র এ রাতে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা নফল নামাজ আদায়, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-আজকার এবং দোয়ায় মগ্ন থাকেন। অতীত জীবনের ভুলত্রুটির জন্য ক্ষমা প্রার্থনার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ জীবনের কল্যাণ কামনায় মোনাজাত করেন তারা। একই সঙ্গে মা-বাবা, আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী, সমাজ, রাষ্ট্র ও সমগ্র বিশ্বের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে দোয়া করা হয়।
হাদিসে এ রাতের বিশেষ মর্যাদার কথা উল্লেখ করে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মহান আল্লাহ মধ্য শাবানের রাতে তাঁর সৃষ্টির প্রতি রহমতের দৃষ্টি দেন এবং শিরিককারী ও হিংসুক ব্যক্তি ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন। (ইবনে হিব্বান, হাদিস: ৫৬৬৫)
শবেবরাতের আগের দিন বা পরের দিন রোজা রাখা সুন্নত। এ কারণে অনেক মুসলমান দুই দিন নফল রোজা পালন করেন।
পবিত্র শবেবরাত উপলক্ষে বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে এদিন দেশের সব সরকারি অফিস, আদালত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।
উল্লেখ্য, শবেবরাত মুসলমানদের কাছে পবিত্র রমজানের আগমনী বার্তাও বহন করে। শাবান মাসের পরই শুরু হয় মাহে রমজান। তাই এ রাত থেকেই কার্যত রমজানের প্রস্তুতি শুরু করেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।
এমএন



