ক্যাটাগরি: আন্তর্জাতিক

ইয়েমেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী হলেন শায়া মোহসেন জিনদানি

ইয়েমেনের রাজনীতিতে বড় ধরনের পটপরিবর্তনের মধ্য দিয়ে দেশটির নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন শায়া মোহসেন জিনদানি। তিনি বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী সালেম বিন ব্রেইকের স্থলাভিষিক্ত হলেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের আগে শায়া মোহসেন জিনদানি ইয়েমেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছিলেন।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সৌদি সমর্থিত প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের (পিএলসি) কাছে সালেম বিন ব্রেইক তাঁর পদত্যাগপত্র জমা দিলে কাউন্সিল তা গ্রহণ করে। এর মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জিনদানির নাম ঘোষণা করা হয়। ইয়েমেনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ‘সাবা’ এক প্রতিবেদনে এই খবর নিশ্চিত করেছে।

ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পর এই পরিবর্তন এলো। উল্লেখ্য যে, ২০১৪ সালে ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠী রাজধানী সানা দখল করলে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আব্দ রাব্বু মনসুর আল হাদী দেশ ছেড়ে সৌদিতে আশ্রয় নেন।

হুথিদের দমন এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে পুনরায় ক্ষমতায় ফেরাতে ২০১৫ সাল থেকে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত প্রতিরক্ষা জোট হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে আসছে। প্রায় ১১ বছর ধরে চলা এই দীর্ঘ সংঘাতের ফলে বর্তমানে ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চল হুথিদের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও দক্ষিণাঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করছে সৌদি সমর্থিত প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিল।

সম্প্রতি দক্ষিণ ইয়েমেনের পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ মোড় আসার পরই প্রধানমন্ত্রী পদে এই রদবদল করা হলো। দীর্ঘ দিন ধরে সংযুক্ত আরব আমিরাত সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী ‘সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল’ (এসটিসি) এই অঞ্চলে নিজেদের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছিল। তবে সম্প্রতি সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের নতুন সামরিক কৌশলের মুখে এসটিসি’র তৎপরতা কার্যত স্তিমিত হয়ে পড়ে এবং দলটির প্রধান এইদারুস আল জুবাইদি সংযুক্ত আরব আমিরাতে আশ্রয় নেন। দক্ষিণাঞ্চলের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল হওয়ার এই সন্ধিক্ষণেই শায়া মোহসেন জিনদানিকে নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, জিনদানির এই নিয়োগ মূলত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করা এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংস্কারকে গতিশীল করার অংশ। ইয়েমেন বর্তমানে ভয়াবহ মানবিক ও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যা কাটিয়ে ওঠা নতুন প্রধানমন্ত্রীর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হবে।

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অনুষ্ঠিত পিএলসি’র উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে জিনদানিকে সাংবিধানিক বিধি মোতাবেক দ্রুত নতুন সরকার গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে ইয়েমেনে একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং শান্তি আলোচনার দিকে এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখছে।

এমকে

শেয়ার করুন:-
শেয়ার