অর্থনীতি
অপচয় ও ঝুঁকির পথে সিটি ব্যাংক, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ
পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারী ও আমানতকারীদের স্বার্থ বিবেচনা না করে বাজারমূল্যের চেয়ে দ্বিগুণ বেশি দামে জমি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিটি ব্যাংক। এই সিদ্ধান্তে বিপুল অপচয় ও দুর্নীতির গুঞ্জন উঠেছে। ব্যাংকটির গ্রাহকের আমানত থেকে খরচ করার কারণে আমানতের ঝুঁকি বাড়বে। ব্যাংকের পরিচালন ব্যয় বাড়বে। এতে ব্যাংকের মুনাফার অংশ কমে যাবে। এ নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে।
এই সিদ্ধান্তে ব্যাংকটির ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা কাঙ্ক্ষিত লভ্যাংশ পাওয়া থেকে বঞ্চিত হবেন। শুধু তা-ই নয়, অপচয়ের কারণে ব্যাংকটির মুনাফা কমে গিয়ে খরচ বেশি হওয়ার কারণে সরকারকে দেওয়া করের অংশও কমে যাবে। ফলে সরকার কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হবে। এমনই হটকারী সিদ্ধান্ত নিয়ে এগোচ্ছে ব্যাংকটির কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, সিটি ব্যাংক রাজধানীর গুলশানে ৪০ কাঠা জমির ওপর ২৮ তলা নিজস্ব ভবন তৈরি করার জন্য এরই মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিয়েছে। ভবন বানাতে গুলশান অ্যাভিনিউয়ে আগের ২০ কাঠার জমির সঙ্গে পার্শ্ববর্তী আরো ২০ কাঠা জমিও কেনা হচ্ছে। নতুন জমি কেনাসহ আনুষঙ্গিক অন্যান্য ব্যয় মিলিয়ে খরচ হবে ৩৪৫ কোটি টাকা। কিন্তু গুঞ্জন উঠেছে, বাজার মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দামে কেনা হচ্ছে এ জমি।
নতুন করে যে ২০ কাঠা জমি কিনতে যাচ্ছে ব্যাংকটি, তাতে কাঠাপ্রতি খরচ হচ্ছে প্রায় ১৭ থেকে ১৮ কোটি টাকা, যা অনেকটাই অপ্রত্যাশিত। স্থানীয়রা জানায়, এখানে যে জমির কথা বলা হয়েছে, তার দাম এত হওয়ার কথা নয়। জমি ক্রয়-বিক্রয় নিয়ে যাঁরা কাজ করেন, তাঁদের ধারণা এই উচ্চমূল্যে জমি কেনাবেচা হলে পার্শ্ববর্তী জমি ও ভবন মালিকদের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। কিন্তু এত দাম দিয়ে সিটি ব্যাংক কেন জমি কিনছে তা নিয়ে এরই মধ্যে সমালোচনা ও বির্তক শুরু হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গুলশান এভিনিউতে প্রতি কাঠা কমার্শিয়াল জমি এখন কম বেশি আট কোটি টাকায় কেনাবেচা হচ্ছে। কিন্তু সিটি ব্যাংক সেখানে জমি কিনছে প্রতি কাঠা ১৭ কোটি ২৫ লাখ টাকায়।
এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী আহসানুল করিম বলেন, ‘যদি বাজারমূল্যের চেয়ে বেশি দরে জমি কেনা হয় তাহলে সেখানে অবৈধ সুবিধা নেওয়ার চেষ্ট হয়েছে কি না সেটা দেখার অবকাশ থাকে। বিক্রেতা সেই টাকা পেয়েছি কি? সেই জমির দাম প্রকৃতপক্ষে কত হওয়া উচিত এবং কোনো দুর্নীতি হয়েছে কি না এসব বিষয়ে তদন্তের অবকাশ থাকে।’
এদিকে আগের ২০ কাঠা ও নতুন কেনা ২০ কাঠা মিলিয়ে মোট ৪০ কাঠা জমির ওপর নিজস্ব ২৮তলা ভবন নির্মাণে খরচ ধরা হয়েছে ৮৫৫ কোটি টাকা। তাতে জমি কেনা ও ভবন নির্মাণে আপাতত খরচ ধরা হয়েছে এক হাজার ২০০ কোটি টাকা। এরই মধ্যে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ও বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রয়োজনীয় অনুমোদনও পেয়েছে ব্যাংকটি।
সর্বশেষ গত বুধবার সিটি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় ব্যাংকের নিজস্ব ভবন নির্মাণ ও এ জন্য নতুন করে আরো ২০ কাঠা জমি কেনার সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়েছে। ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
১৯৮৩ সালে দেশের তৎকালীন ১২ জন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী মিলে ব্যাংকটি গড়ে তোলেন। ১৯৮৬ সালে ব্যাংকটি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। ব্যাংকটি প্রতিষ্ঠার পর প্রথম নিজস্ব ভবনে প্রধান কার্যালয়ের কার্যক্রম শুরু করে ২০০৯ সালে। গুলশান-২-সংলগ্ন গুলশান এভিনিউয়ে ২০ কাঠার জমির ওপর আটতলা ভবনে ছিল প্রধান কার্যালয়। কিন্তু সেখানে সব জনবলের জায়গা না হওয়ায় পুরনো ভবনটি ভেঙে ২৮তলা ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
সিটি ব্যাংক শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কম্পানি। সেই হিসাবে বিপুল অর্থ ব্যয়ে জমি কেনা ও ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্তের বিষয়টি মূল্য সংবেদনশীল। এ তথ্যটির কারণে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ ও পুঁজিবাজারে শেয়ারের দামে প্রভাব পড়তে পারে। যদিও ব্যাংকটি এ তথ্যটি শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের জানিয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে এ অপচয়ের কারণে ব্যাংকের মুনাফার অংশ কমে গেলে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে কি না।
সূত্র জানায়, গত ৬ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংক সিটি ব্যাংককে ভবন নির্মাণ ও জমি কেনার প্রয়োজনীয় অনুমোদন দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন পাওয়ার পর গত বুধবার ব্যাংকটির পর্ষদ সভায় এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়।
ব্যাংকসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাজউক থেকে ২৮তলা সুউচ্চ ভবন নির্মাণের অনুমোদনও এর মধ্যে হয়ে গেছে। এই ২৮তলা ভবনের মধ্যে পাঁচতলা বরাদ্দ থাকবে গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য। বাকি ২৩ তলাজুড়ে থাকবে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের কার্যক্রম। সেভাবেই পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এখন জমির পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় ভবনের উচ্চতা ও পরিসর বৃদ্ধির আরো সুযোগ তৈরি হয়েছে।
সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাসরুর আরেফিন গণমাধ্যমকে বলেন, পৃথিবীজুড়ে ব্যাংকের ভবন ও কার্যালয় খুবই নান্দনিক ও দৃষ্টিনন্দন হয়ে থাকে। আমরাও দেশের ব্যাংক খাতে সে রকম একটি উদাহরণ তৈরি করতে চাই। এ জন্য আমাদের পরিকল্পনা ও উদ্যোগে সম্মতি দেওয়ার জন্য ব্যাংক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতি কৃতজ্ঞ। খুব দ্রুততম সময়ে আমরা আমাদের নিজস্ব ভবন তৈরি ও সেখানে কার্যক্রম শুরুর চেষ্টা করব।
এমকে
অর্থনীতি
বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তিতে বড় চ্যালেঞ্জে ভারত
বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্টের বাণিজ্য চুক্তি ভারতের বস্ত্র ও তুলা খাতের জন্য নতুন প্রতিযোগিতা তৈরি করেছে। চুক্তিতে বাংলাদেশি কিছু পোশাক পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে শুল্ক ছাড়াই বিক্রি করা যাবে, যা ভারতীয় রপ্তানিকারকদের অবস্থান দুর্বল করতে পারে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম বলছে, চুক্তির আগে ভারতের বস্ত্র রপ্তানির ওপর শুল্ক ছিল ৫০ শতাংশ; এখন তা কমে ১৮ শতাংশে এসেছে। বাংলাদেশি পোশাকের জন্য যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক ছাড়ার কারণে মার্কিন বাজারে তারা ভারতের চেয়ে সস্তা অবস্থানে আসতে পারে।
বাংলাদেশের বস্ত্র খাত দেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৮০ শতাংশ। এছাড়া বাংলাদেশ বিশ্বের বড় তুলা আমদানিকারক এবং ভারতের তুলার সবচেয়ে বড় ক্রেতা। নতুন চুক্তিতে মার্কিন তুলা ব্যবহার করে পোশাক তৈরির সুবিধা বেড়ে যাওয়ায় ভারতীয় তুলা ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ বাড়ছে।
ইতোমধ্যে ভারতীয় বস্ত্র ও সুতা উৎপাদনকারী কোম্পানির শেয়ারে চাপ পড়েছে। বিরোধী কংগ্রেস দল ও রাজ্যসভার সদস্য প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী মোদি সরকারের সমালোচনা করেছেন। কংগ্রেস বলেছে, চুক্তির কারণে দেশীয় তুলাচাষি ও রপ্তানিকারকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
চূড়ান্ত যুক্তরাষ্ট্র-ভারত বাণিজ্য চুক্তি এখনো সই হয়নি। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভারতের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে শুল্ক ও বাণিজ্য আলোচনার মাধ্যমে সমাধান বের করার চেষ্টা হতে পারে।
এমএন
অর্থনীতি
ভোটের ছুটিতে টানা ৪ দিন বন্ধ ব্যাংক ও পুঁজিবাজার
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে টানা চার দিনের ছুটি থাকবে দেশের সকল ব্যাংক খাত ও পুঁজিবাজার। আগামীকাল বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) থেকে আগামী শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত দেশের সকল ব্যাংকিং কার্যক্রম এবং শেয়ারবাজারের লেনদেন বন্ধ থাকবে।
সূত্র মতে, জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি)। এ উপলক্ষে বুধবার ও বৃহস্পতিবার সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে এ দুই দিন পুঁজিবাজারেও লেনদেন বন্ধ থাকবে।
এর পর শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক সরকারি ছুটি থাকায় পুঁজিবাজারে টানা চার দিন, অর্থাৎ বুধবার থেকে শনিবার পর্যন্ত কোনো লেনদেন হবে না।
সূত্র জানায়, ছুটি শেষে আগামী রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) থেকে আগের নিয়মে ডিএসই ও সিএসইতে লেনদেন কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে।
এমএন
অর্থনীতি
আজ দেশে কত দামে বিক্রি হচ্ছে স্বর্ণ
দেশের বাজারে আবারও বেড়েছে স্বর্ণের দাম। সব রেকর্ড ভেঙে প্রথমবারের মতো ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৬১ হাজার টাকা ছাড়িয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) থেকে এই নতুন দাম কার্যকর হয়েছে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই দাম বৃদ্ধির ঘোষণা দেয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৯ হাজার ১৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৩ হাজার ৫৬৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৭৪ হাজার ৭৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এদিকে, বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস আরও জানায়, স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে আবশ্যিকভাবে সরকার-নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ৬ শতাংশ যুক্ত করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরির তারতম্য হতে পারে।
দেশে কত দামে স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে আজ
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি স্বাক্ষর, কমেছে পাল্টা শুল্ক
এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ২৮ বার সমন্বয় করা হয়েছে স্বর্ণের দাম। যেখানে দাম ১৮ দফা বাড়ানো হয়েছে; কমানো হয়েছে ১০ দফা। আর গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল; যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৯ বার।
অর্থনীতি
৮ দিনে রেমিট্যান্স এলো ১০৩ কোটি ডলার
ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম ৮ দিনেই দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১০৩ কোটি ২০ লাখ বা ১.০৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই হিসাবে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে ১২ কোটি ৯০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।
সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, চলতি ফেব্রুয়ারির প্রথম ৮ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১০৩ কোটি ২০ লাখ ডলার। আর গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ৬৭ কোটি ১০ লাখ ডলার। অর্থাৎ বছর ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে।
চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে এসেছে ২ হাজার ৪৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। বছর ব্যবধানে যা বেড়েছে ২৩ শতাংশ।
এর আগে জানুয়ারি মাসে দেশে এসেছে ইতিহাসে কোনো এক মাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ ও চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স।
আর গত ডিসেম্বরে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার। যা ছিল দেশের ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ও চলতি অর্থবছরের কোনো এক মাসে আসা সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়। গত নভেম্বরে দেশে এসেছিল ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স।
এছাড়া গত অক্টোবর ও সেপ্টেম্বরে দেশে এসেছিল যথাক্রমে ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার ও ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। আর গত আগস্ট ও জুলাইয়ে যথাক্রমে দেশে এসেছিল ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার ও ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।
এদিকে, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছর জুড়ে দেশে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন বা ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা দেশের ইতিহাসে কোনো নির্দিষ্ট অর্থবছরে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের রেকর্ড।
অর্থনীতি
সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে রমজানে নিত্যপণ্যের দাম বাড়বে না: এফবিসিসিআই
আসন্ন রমজান উপলক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি, মজুদ ও মূল্য পরিস্থিতি নিয়ে ব্যবসায়ী ও অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছে দেশের শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠন দি ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) মতিঝিলে এফবিসিসিআই কার্যালয়ে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন এফবিসিসিআই’র প্রশাসক আবদুর রহিম খান।
অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে খুচরা ও পাইকারি পর্যায়ের বিভিন্ন বাজার সমিতির নেতৃবৃন্দ জানান, ভোজ্যতেল, চিনি, পিয়াজ, ডালসহ অন্যান্য নিত্যপণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে দেশে। সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে এবারের রমজানে এসব পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির সুযোগ নেই। তবে বাজার স্থিতিশীল রাখাতে সরবরাহ ব্যবস্থার বিভিন্ন ধাপে চাঁদাবাজী রোধ করতে কর্তৃপক্ষকে কঠোর হওয়ার আহ্বান জানান তারা। পাশাপাশি, সাধারণ ভোক্তাদের প্রতি অনুরোধ জানান- প্রয়োজনের তুলনায় বেশি পণ্য ক্রয় করে বাজারে বাড়তি চাপ সৃষ্টি না করার।
তবে রমজানকে কেন্দ্র করে বাজার তদারকির নামে খুচরা ব্যবসায়ীদের হয়রানি বন্ধে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং এফবিসিসিআই‘র মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানান ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের পক্ষে বাজার অস্থিতিশীল করা সম্ভব নয়। আমদানিকারক ও কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিত্যপণ্যের সরবরাহ সচল রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
বাংলাদেশ চিনি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবুল হাশেম বলেন, মিল মালিকরা ঠিকমত যোগান দিতে পারলে বাজারে চিনির সংকট হবে না। কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সরকারি উদ্যোগে দেশে চিনি আমদানি করা গেলে ব্যবসায়ীরা প্রতিযোগিতামূলক দামে চিনি বিক্রয় করতে পারবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
দ্রব্য মূল্য স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে শুধু খুচরা পর্যায়ে বাজার তদারকি না করে, বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী ও আমদানিকারক পর্যায়ে সরকারের নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানান বাংলাদেশ পাইকারি ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি গোলাম মাওলা।
এসময় মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের ডেপুটি জেনারেন ম্যানেজার তসলিম শাহরিয়ার জানান, রমজানের বাড়তি চাপ সামাল দেওয়ার জন্য ভোজ্যতেল ও চিনির পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে দেশে। তবে নির্বাচন কেন্দ্রিক ছুটির কারণে বন্দরে পণ্য খালাস, পরিবহন ও কাস্টমস কিছুটা বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এছাড়া সাপ্লাই-চেইনে অন্য কোন সংকট নেই।
এদিকে, রমজানে শাক-সবজিসহ অন্যান্য কাঁচাপণ্যের বাজারও ভোক্তাদের নাগালে থাকার ইঙ্গিত দিয়েছেন কাঁচাবাজার বণিক সমিতির নেতৃবৃন্দ। তারা জানান, লেবু ব্যতিত এই মুহূর্তে সকল কাঁচা সবজির দাম স্বাভাবিক রয়েছে।
সভার শুরুতে, নিত্যপণ্যের চাহিদা, মজুদ, সরবরাহ এবং বাজার পরিস্থিতির বর্তমান চিত্র তুলে ধরেন এফবিসিসিআই’র প্রশাসক আবদুর রহিম খান। এসময় তিনি বলেন, এবারের রোজা অন্যান্য বছরের তুলনায় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের কয়েক দিন পরই রোজা শুরু। সুতরাং সাধারণ ভোক্তাদের কথা বিবেচনায় রেখে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ও বণিক সংগঠনগুলোকে আরও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে হবে।
এ বছর নিত্যপণ্যের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে ব্যবসায়ীরা ইতিবাচক ইঙ্গিত দিলেও, বাজার নিয়ে শঙ্কার কথা জানান বাজার বিশ্লেষক এবং কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির ভূঁইয়া। তিনি বলেন, এ বছর জ্বালানি সংকট দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রমজানে এই সংকট আরও বাড়তে পারে। এছাড়া রোজা শুরুর অল্প কিছুদিন পূর্বেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এসময় নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করবে। এই ’ট্রানজিশন পিরিয়ডে’ হয়তো জোরালোভাবে বাজার তদারকি করাও সম্ভব হবে না। কিছু অসাধু লোক এই সুযোগ নিতে পারে।
এফবিসিসিআই’র প্রশাসক আবদুর রহিম খান বলেন, বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীগুলোর কাছে আমাদের অনুরোধ বাজারে সরবরাহ যেন বিঘ্নিত না হয়। বাজার তদারকি যেন ব্যবসায়ীদের উৎপাতের কারণ না হয় সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি। মতবিনিময় সভায় আলোচ্য বিষয়সমূহ এফবিসিসিআই’র পক্ষ থেকে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরা হবে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআই’র সাবেক পরিচালক গিয়াসউদ্দিন চৌধুরী (খোকন), খন্দকার রুহুল আমিন, আবুল হাশেম, এফবিসিসিআই’র মহাসচিব মো. আলমগীর, এফবিসিসিআই সেইফটি কাউন্সিলের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) আবু নাঈম মো. শাহিদউল্লাহ, এফবিসিসিআই’র সাধারণ পরিষদের সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন বণিক সমিতির নেতৃবৃন্দ, বাংলাদেশ ব্যাংক, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, প্রতিযোগিতা কমিশন, টিসিবি, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, কৃষি বিপণন অধিদপ্তর, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন শিল্পগোষ্ঠীর প্রতিনিধিবৃন্দ।
এমএন



