জাতীয়
ভোট ডাকাতি আর যেন না ঘটে সেই ব্যবস্থা করতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা
প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আমরা ভোট ডাকাতির কথা শুনেছিলাম, কিছু কিছু জানতামও। কিন্তু এত নির্লজ্জভাবে পুরো প্রক্রিয়াকে বিকৃত করে, সিস্টেমকে দুমড়ে-মুচড়ে ফেলে নিজেদের মনের মতো একটা কাগজে রায় লিখে দেওয়া হয়েছে— এগুলো জাতির সামনে তুলে ধরা দরকার। এসবের পুরো রেকর্ড থাকা প্রয়োজন। নির্বাচন ডাকাতি যেন আর কখনো না ঘটতে পারে, সেই ব্যবস্থা করতে হবে।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে জাতীয় নির্বাচন (২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪) তদন্ত কমিশন। প্রতিবেদন গ্রহণকালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর তদন্তের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন কমিশনের সদস্যরা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কমিশন প্রধান সাবেক বিচারপতি শামীম হাসনাইন, সদস্য শামীম আল মামুন, কাজী মাহফুজুল হক সুপণ, ব্যারিস্টার তাজরিয়ান আকরাম হোসেন, ড. মো. আব্দুল আলীম। উপদেষ্টাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, তথ্য উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান, সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।
তদন্ত প্রতিবেদনে কমিশন জানায়, ২০১৪ সালে ১৫৩টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এবং অবিশষ্ট ১৪৭টিতে ‘প্রতিদ্বন্দ্বিতা’র নির্বাচন ছিল সম্পূর্ণ সাজানো ও সুপরিকল্পিত। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রাখতে এ বন্দোবস্ত করা হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালের নির্বাচন সারা বিশ্বে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার নির্বাচন হিসেবে সমালোচিত হওয়ায় শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ ২০১৮ সালের নির্বাচনকে ‘প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক’ করার মিশন গ্রহণ করে। বিএনপিসহ অন্যান্য বিরোধী দল তাদের এ সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা বুঝতে না পেরে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে।
প্রতিবেদন গ্রহণের পর প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা ভোট ডাকাতির কথা শুনেছিলাম, কিছু কিছু জানতাম। কিন্তু এত নির্লজ্জভাবে পুরো প্রক্রিয়াকে বিকৃত করে সিস্টেমকে দুমড়ে মুচড়ে ফেলে নিজেদের মনের মতো একটা কাগজে রায় লিখে দিয়েছে… এগুলো জাতির সামনে তুলে ধরা দরকার। পুরো রেকর্ড থাকা দরকার।’
প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘দেশের টাকা খরচ করে, মানুষের টাকায় নির্বাচন আয়োজন করে পুরো জাতিকেই শাস্তি দেওয়া হয়েছে। এ দেশের মানুষ সে সময় অসহায়ের মতো তাকিয়ে ছিল, কিছুই করতে পারেনি। এ দেশের জনগণ যেন কিছুটা হলেও স্বস্তি পায়, সেজন্য এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িতদের চেহারা জাতির সামনে নিয়ে আসতে হবে। কারা করল, কীভাবে করল— সেটা জনসমক্ষে আসা জরুরি। নির্বাচন ডাকাতি যেন আর কখনো না ঘটতে পারে, আমাদের সেই স্থায়ী ব্যবস্থা করতে হবে।’
তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৮ সালের নির্বাচনে ৮০ শতাংশ কেন্দ্রে রাতের বেলায় ব্যালট পেপারে সিল মেরে আওয়ামী লীগের বিজয় নিশ্চিত করে রাখা হয়েছিল। আওয়ামী লীগকে জেতাতে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যে এক ধরনের ‘অসৎ প্রতিদ্বন্দ্বিতা’ কাজ করেছিল। ফলে কোনো কোনো কেন্দ্রে ভোট প্রদানের হার ১০০ শতাংশও ছাড়িয়ে যায়। অন্যদিকে, ২০২৪ সালে বিএনপিসহ প্রধান বিরোধী দলগুলো নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় ‘ডামি’ প্রার্থী দাঁড় করিয়ে নির্বাচনকে ‘প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক’ দেখানোর অপকৌশল গ্রহণ করা হয়।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বিগত তিনটি নির্বাচনের এই অভিনব জালিয়াতির পরিকল্পনা রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্তে নেওয়া হয়। এটি বাস্তবায়নে প্রশাসন, পুলিশ, নির্বাচন কমিশন ও গোয়েন্দা সংস্থার একটি অংশকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। এমনকি কিছু কর্মকর্তার সমন্বয়ে একটি বিশেষ সেল গঠন করা হয়েছিল, যা ‘নির্বাচন সেল’ নামে পরিচিতি লাভ করে।
২০১৪-২০২৪ সাল পর্যন্ত সময়কালে নির্বাচন ব্যবস্থাকে নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে মূলত প্রশাসনের হাতে নিয়ে যাওয়া হয়। এই সময়ে কমিশনের পরিবর্তে প্রশাসনই হয়ে ওঠে নির্বাচন পরিচালনার মূল শক্তি।
জাতীয়
সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচনের প্রচারণা চলছে: প্রধান উপদেষ্টা
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ ও ইতিবাচক পরিবেশে নির্বাচনের প্রচারণা চলছে। কেউ কারো বিরুদ্ধে কটু কথা বলছেন না। কোনো অভদ্র আচরণও হচ্ছে না। আমাদের অভদ্র কথাও হচ্ছে না। আমাদের রাজনৈতিক ইতিহাস ও সংস্কৃতির জন্য এটি খুবই ইতিবাচক পরিবর্তন।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) যমুনায় সভা শেষে প্রধান উপদেষ্টার বরাত দিয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
প্রেস সচিব বলেন, প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা চলছে। এ নির্বাচনে প্রচারকালে কেউ কারও বিরুদ্ধে কটু কথা বলছেন না।
নির্বাচন সংক্রান্ত একটি হাই-প্রোফাইল সভা হয়েছে, সারা দেশের আইনশৃঙ্খলাসহ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ পর্যন্ত নির্বাচনের প্রস্তুতি সঠিকভাবে চলছে এবং এতে অন্তর্বর্তী সরকার সন্তুষ্ট বলে সভায় জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।
শফিকুল আলম বলেন, এদেশের নারী-পুরুষ উৎসবমুখর একটি পরিবেশে ভোট দেবেন এবং এবারের ভোট স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।
এরইমধ্যে নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ চালু করা হয়েছে। নির্বাচনে দেশের কোথাও কোন আইনশৃঙ্খলার অবনতি হলে এ অ্যাপের মাধ্যমে খুব দ্রুত নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে বার্তা চলে আসবে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, এবারে নির্বাচনে মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। ১২৪টি দেশে পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হয়েছিল। এ পর্যন্ত দেশের বাইরে থেকে ৪ লাখ ২২ হাজার ৯৬০টি ব্যালট বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে। বিদেশি পর্যবেক্ষক প্রায় ৪০০ জন এবং দেশীয় পর্যবেক্ষক ৫০ হাজার থাকবেন।
এসব পোস্টাল ব্যালটের ভোট কীভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে-সে বিষয়ে ভারত ও পাকিস্তানসহ বেশ কয়েকটি দেশ জানতে চেয়েছে বলেও অবগত করেন তিনি।
‘পাশা’ নামে যে পর্যবেক্ষক সংস্থাটির ব্যাপারে অভিযোগ উঠেছে তাদেরকে নির্বাচন পর্যবেক্ষক কার্ড দেয়া স্থগিত রেখেছে নির্বাচন কমিশন বলেও জানান শফিকুল।
প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন-আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ হচ্ছে নির্বাচনের ভোটটা যেন সুষ্ঠু করা হয় । নির্বাচনের সময়টা আসলে একটা কঠিন সময় পার করা হচ্ছে জানান প্রেস সচিব।
এমএন
জাতীয়
আজ মাঠে নামছে ১০৫১ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে আজ (রবিবার) মাঠে নামছেন থেকে ১ হাজার ৫১ জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট। ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তারা ভোটের মাঠে থাকবেন।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানান। একই সঙ্গে নির্বাচনের দায়িত্ব শুরু হচ্ছে সেনাবাহিনীর আরও সদস্যসহ অন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের।
ইসি মাছউদ বলেন, সেনাবাহিনী আগে থেকেই মাঠে আছে। রোববার থেকে আরও যুক্ত হবে। আনুষ্ঠানিকভাবে তারা ভোটের আগে-পরে সাত দিন থাকবে। আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক করেছি। তারা সবাই বলেছে যে মাঠের অবস্থা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভালো এবং নির্বাচনের জন্য সহায়ক আছে।
নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘সব ব্যালট বাক্স জেলায় জেলায় পাঠানো হয়েছে। রিটার্নিং অফিসাররা সেগুলা গ্রহণ করছে। এখন সবাই ভোটের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত।
এর আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক পরিপত্রে বলা হয়, নির্বাচন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষভাবে পরিচালনার জন্য শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখাতে পুলিশ, বিজিবি, আনসার-ভিডিপিসহ কোস্ট গার্ড মোতায়েন করা হবে এবং স্থানীয় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তায় ইন এইড টু সিভিল পাওয়ারের আওতায় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এবার বিভিন্ন বাহিনীর মোট ৯ লাখ ৭০ হাজারের বেশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (ভিডিপি) ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৪৮৩ জন, সেনাবাহিনী ১ লাখ ৩ হাজার, নৌবাহিনী ৫ হাজার, বিমানবাহিনী ৩ হাজার ৭৩০, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ৩৭ হাজার ৪৫৩, কোস্ট গার্ড ৩ হাজার ৫৮৫, পুলিশ ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩, র্যাব ৯ হাজার ৩৪৯ এবং চৌকিদার-দফাদার ৪৫ হাজার ৮২০ জন সদস্য মোতায়েন করা হবে।
পরিপত্রে আরও বলা হয়, নির্বাচনী এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য সশস্ত্র বাহিনী, বিজিবি, কোস্ট গার্ড, র্যাব, পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) এবং আনসার ব্যাটালিয়ন মোবাইল এবং স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করবে। বিজিবি, র্যাব, এপিবিএন এবং আনসার ব্যাটালিয়ন জেলা, উপজেলা ও থানাভিত্তিক কাজ করবে।
আর উপকূলীয় এলাকার জন্য কোস্ট গার্ড মোতায়েন থাকবে। সব বাহিনী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে রিপোর্ট করবে। এ ছাড়া তাঁর নির্দেশ এবং পরামর্শ অনুসারে সবার দায়িত্ব পালন করবে।
এমএন
জাতীয়
দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টানা ৫ দিনের ছুটি
দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চলতি ফেব্রুয়ারিতেই আসছে টানা পাঁচ দিনের ছুটি। ফেব্রুয়ারির প্রথম দিন থেকেই একের পর এক ছুটি মিলছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আবারও বন্ধ থাকবে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শ্রেণি কার্যক্রম।
আগামী ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের ছুটি, ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি যথাক্রমে শুক্র ও শনিবার।
এরই ঠিক পরদিন ১৫ ফেব্রুয়ারি শ্রী শ্রী শিবরাত্রি ব্রত উপলক্ষে বন্ধ থাকবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ছুটির তালিকা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বছরের প্রথম বড় ছুটি এটি। আর তালিকায় থাকা পঞ্চম ছুটি এটি।
এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
আর ১০ ফেব্রুয়ারি শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের জন্য সাধারণ ছুটি থাকবে বলে সিদ্ধান্ত রয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের দিন সাধারণ ছুটি থাকবে, যা আগেই ঘোষণা করা হয়।
জাতীয়
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ‘না’ নিয়ে যা বললেন বায়তুল মোকাররমের খতিব
গণভোটে একাধিক বিষয়ের ওপর একসঙ্গে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ বলতে বাধ্য করায় জনগণকে এক ধরনের পেরেশানি ও যন্ত্রণার মধ্যে ফেলা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আবদুল মালেক।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) জুমার খুতবায় তিনি ভোটের অধিকারকে একটি পবিত্র ‘আমানত’ হিসেবে উল্লেখ করে দেশবাসীকে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
মুফতি আবদুল মালেক বলেন, গণভোটে পাঁচ থেকে আটটি বিষয়ে একসঙ্গে ভোট নেওয়া হচ্ছে। অথচ ভোটারদের প্রতিটি বিষয়ে আলাদাভাবে মত দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়নি। আলাদা আলাদা অপশন নাই কেন। আপনাদের সিলে কম পড়ছে, না কালিতে টান পড়ছে; কিসে কম পড়ছে। ‘হ্যাঁ’ বলতে হলে সব বিষয়ে ‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’ বলতে হলে সব বিষয়ে ‘না’ বলতে হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ পেরেশানিতে পড়েছে।
তিনি বলেন, একজন ভোটার কোনো কোনো বিষয়ের সঙ্গে একমত হতে পারেন, আবার কিছু বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করতে পারেন। আলাদা আলাদা প্রশ্ন থাকলে তিনি সেভাবেই উত্তর দিতে পারতেন। কিন্তু বর্তমান ব্যবস্থায় তা সম্ভব নয়। এ কারণে মানুষকে জোরপূর্বক একটি অবস্থান নিতে বাধ্য করা হচ্ছে।
খুতবায় তিনি ভোটকে একটি পবিত্র ‘আমানত’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ভয়, লোভ বা প্ররোচনায় পড়ে নয়, বরং আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে ও সচেতনভাবে ভোট দেওয়া উচিত। এ ক্ষেত্রে বিজ্ঞ ও সৎ ব্যক্তিদের সঙ্গে পরামর্শ করার কথাও বলেন তিনি।
জাতীয় মসজিদের খতিব বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’- দুটি বিকল্প থাকায় জনগণের যেকোনোটি বেছে নেওয়ার অধিকার রয়েছে। সরকার বা কোনো দল ‘হ্যাঁ’ ভোটে উৎসাহ দিলেও ‘না’ ভোট দেওয়া কোনো অপরাধ নয়। কাউকে কোনো একটি পক্ষ নিতে বাধ্য করা উচিত নয়।
ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে দলীয় নাম, প্রতীক বা স্লোগানে প্রভাবিত না হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। ইসলামের নাম ব্যবহার করলেই কোনো দল ইসলামসম্মত- এমন ধারণা ঠিক নয় বলেও মন্তব্য করেন মুফতি আবদুল মালেক। দলগুলোর আদর্শ, ইশতেহার ও কর্মকাণ্ড যাচাইয়ের ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।
তিনি বলেন, অনেক দল ইসলামের নাম ব্যবহার করলেও বাস্তবে তাদের কর্মকাণ্ড সেকুলার ধারার মতো হতে পারে। তাই ভোট দেওয়ার আগে সঠিকভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
খুতবার মূল বক্তব্যে মুফতি আবদুল মালেক বলেন, ভোটাধিকার সচেতনভাবে প্রয়োগ করতে হবে। কোনো চাপ বা প্রলোভনে পড়ে নয়, বরং চরিত্র, তাকওয়া ও যোগ্যতাকে গুরুত্ব দিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
জাতীয়
হজের ভিসা দেওয়া শুরু ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে
২০২৬ সালের (১৪৪৭ হিজরি) হজ মৌসুমের জন্য আগামীকাল ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ভিসা ইস্যু শুরু করবে সৌদি আরব। দেশটির হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় এ ঘোষণা দিয়েছে।
হজ কার্যালয়গুলোর জন্য তৈরি করা বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মূলত হজযাত্রীদের সৌদি আরবে পৌঁছানোর কয়েক মাস আগেই সেবার মান নিশ্চিত করা ও প্রস্তুতি কার্যক্রম গুছিয়ে নিতেই মন্ত্রণালয়ের এ উদ্যোগ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের হজের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে অনেক আগেই—২০২৫ সালের ৮ জুন থেকে। তারিখটি হিজরি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী ১৪৪৬ সালের ১২ জিলহজের সঙ্গে মিলে যায়। ওই সময় বিশ্বজুড়ে হজের কার্যক্রম তদারককারী দপ্তরগুলোর কাছে প্রাথমিক পরিকল্পনার নথিপত্র পাঠায় সৌদি মন্ত্রণালয়।
এ ছাড়া পবিত্র সফর মাসের শুরুতে ‘নুসুক মাসার’ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে হজ দপ্তরগুলোকে পবিত্র স্থানগুলোর তাঁবু সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়। এতে তারা পরিকল্পনা, পর্যালোচনা ও সমন্বয়ের জন্য পর্যাপ্ত সময় পায়।
ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, আবাসন ও মূল সেবাসংক্রান্ত প্রস্তুতিমূলক চুক্তি শুরু হয় ১৪৪৭ হিজরি সালের ১ রবিউল আউয়াল (২০২৫ সালের আগস্টের শেষ দিক) থেকে।
সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা বাড়াতে একটি হজ প্রদর্শনীও আয়োজন করা হবে।
২০২৬ সালের শুরুতেই পবিত্র হজ পালনের প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে। পবিত্র মক্কা ও মদিনায় আবাসন এবং পরিবহনসহ অন্যান্য চুক্তি গত জানুয়ারির মধ্যে শেষ করা হয়। ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ভিসা ইস্যু শুরু হবে এবং মার্চে ভিসার কাজ শেষ করে হজযাত্রীদের আগমনের প্রস্তুতিমূলক তথ্য জমা দেওয়া হবে।
মন্ত্রণালয় বলছে, আগামী ১৮ এপ্রিল (১ জিলকদ) থেকে হজযাত্রীদের প্রথম দল সৌদি আরবে পৌঁছাবে। এর মাধ্যমেই হজ মৌসুমের চূড়ান্ত পর্যায়ের কার্যক্রম শুরু হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিকাঠামো ও সব সেবা নিশ্চিত করতে নির্ধারিত সূচি কঠোরভাবে মেনে চলার ওপর জোর দিয়েছে মন্ত্রণালয়।
ইতোমধ্যে, হজ প্রস্তুতির ক্ষেত্রে বড় অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। বিদেশি হজযাত্রীদের জন্য সব পরিষেবা ও পবিত্র মক্কার আবাসনের চুক্তি ‘নুসুক’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৭ লাখ হজযাত্রী নিবন্ধন করেছেন। তাদের মধ্যে ৩০ হাজার জন সরাসরি নিজ দেশ থেকে প্যাকেজ বুক করেছেন।
আন্তর্জাতিক হজযাত্রীদের জন্য পবিত্র স্থানগুলোতে আনুমানিক ৪৮৫টি তাঁবু বরাদ্দ করা হয়েছে এবং ৭৩টি হজ কার্যালয় তাদের প্রাথমিক চুক্তির কাজ শেষ করেছে।
হজযাত্রীদের নিরাপদ ও সম্মানজনকভাবে পবিত্র হজ পালন নিশ্চিত করতে হজ কার্যালয় ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্ধারিত সূচি পুরোপুরি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে সৌদি আরব।



