রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় মোটরসাইকেলের সঙ্গে প্রাইভেটকারের ধাক্কা লাগাকে কেন্দ্র করে নাঈম কিবরিয়া (৩৫) নামের এক শিক্ষানবিশ আইনজীবীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গতকাল বুধবার রাত ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নাঈম পাবনা জেলা জজকোর্টের আইনজীবী ছিলেন।
নিহত নাঈম কিবরিয়ার খালাতো ভাই মো. রাকিবুল ইসলাম শামীমের অভিযোগ, মব সৃষ্টি করে নাঈমকে মারধর করা হয়েছে। তবে হামলাকারীদের পরিচয় তারা জানেন না।
নাঈমের বাড়ি পাবনা সদর উপজেলার চকজয়েনপুরে। ২০২৪ সালে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ঘটনায় নাঈমের নামে একটি মামলা হয় পাবনা থানায়। এরপর থেকে গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি গা ঢাকা দিয়েছিলেন বলেও জানান শামীম।
ভাটারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আরিফুল ইসলাম জানান, নাঈমের প্রাইভেটকারের সঙ্গে একটি মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ ঘটলে মোটরসাইকেল আরোহীরা তাকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে এলোপাতাড়ি মারধর করে। একপর্যায়ে আই ব্লক, ১০ নম্বর রোডে ওয়ালটন বাড়ির সামনে ফেলে যায়।
পুলিশ খবর পেয়ে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে বৃহস্পতিবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়।
নিহতের গলায়, হাত ও পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমের চিহ্ন রয়েছে। পুলিশ বিস্তারিত তদন্ত করছে।
শামীম জানান, বুধবার রাত ১০টার দিকে নাঈমের ফোনে কল আসে, কিন্তু তিনি কথা বলছিলেন না। শুধু হৈ-চৈ শোনা যাচ্ছিল। এরপর বারবার তার ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও পাওয়া যাচ্ছিল না।
পরে এক নিরাপত্তাকর্মীর ফোন ধরে জানান, নাঈমকে আই ব্লকে মারধর করে ফেলে রাখা হয়েছে। পরে নাঈমের খালাতো ভাই তাকে উদ্ধার করে বারিধারা এবং পরে কুর্মিটোলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।
শামীম জানান, নাঈমের বাবা গোলাম কিবরিয়া। মা আইরিন কিবরিয়া আওয়ামী লীগ সরকারের সময় পাবনা জেলা পরিষদের সাবেক প্যানেল চেয়ারম্যান ছিলেন।