শরীয়তপুর সদর উপজেলায় ছাত্রদল ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় একাধিক হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ সময় আহত হয়েছেন অন্তত পাঁচজন।
সোমবার (২২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার চৌরঙ্গ মোড়ে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান সদর পালং মডেল থানার ওসি শাহ আলম।
আহতরা হলেন- ইসাহাক সরদার (৩৪), নাঈম ইসলাম (২৬), নিরব (১৯), আরমান দরর্জি (২৫) এবং মোহাম্মদ আলী (৩২)। এর মধ্যে নাঈমকে আশঙ্কাজনক অবস্থা ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বাকিরা শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তারা সবাই ছাত্রদলের কর্মী।
ওসি শাহ আলম বলেন, একজনের গায়ে মোটরসাইকেল লাগা নিয়ে প্রথমে হাতাহাতি হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় একটি পক্ষ হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটায়।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাজধানীতে গুলিতে নিহত শরীফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকারীদের বিচার দাবিতে বিকেলে শহরে মিছিল বের করেন এনসিপি নেতাকর্মীরা। মিছিলটি চৌরঙ্গী এলাকায় পৌঁছালে একটি মোটরসাইকেলকে সাইট দেওয়া নিয়ে ছাত্রদলের এক কর্মীর সঙ্গে এনসিপি কর্মীদের বাগবিতণ্ডা হয়।
তবে ছাত্রদলের অভিযোগ, ওই কর্মীকে মারধর করেছেন এনসিপির নেতাকর্মীরা। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষে মধ্যে ধাওয়া পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় হামবোমা বিস্ফোরণে পাঁচজন আহত হন।
প্রায় ৪০ মিনিট পর পরিস্থিতি শান্ত হয়। সংঘর্ষ থামলেও এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
আহতদের নিজেদের কর্মী দাবি করে শরীয়তপুর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, এনসিপি নামধারী কিছু লোক ছাত্রদলের ওপর হামলা করেছে। একজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
শরীয়তপুর জেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব সোহেল তালুকদার বলেন, রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় ছাত্রদলের এক কর্মীকে আটকে রাখেন এনসিপির নেতারা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলে তারা আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে এনসিপির শরীয়তপুর জেলা কমিটির সাবেক যুগ্ম সমন্বয়কারী সবুজ তালুকদার বলেন, ছাত্রদলের এক ছেলে মোটরসাইকেল নিয়ে আমাদের মিছিলে ঢুকে পড়ে। এ সময় ছাত্রদলের ওই কর্মী আমাদের একজনের ওপর হামলা চালায়। পরে আমরা তাকে আটকে রাখলে ছাত্রদলের সদস্যসচিব সোহেল ও তার লোকজন এসে আমাদের ওপর দেশি অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়।
ওসি শাহ আলম জানান, এ ঘটনায় অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এমকে