ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার
‘র্যাবের গুলিতে পা হারানো’ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক লিমন এখন যৌন হয়রানিতে অভিযুক্ত
ঢাকার অদূরে সাভার অবস্থিত গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক মো. লিমন হোসেনের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন নিজ বিভাগের একাধিক নারী শিক্ষার্থী। তাদের অভিযোগ, ক্লাসে বিভিন্ন অশালীন কথা বলা ও ফেসবুকে আপত্তিকর বার্তা পাঠাতেন বিভাগের প্রভাষক লিমন। এ অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের কাছে পৃথক লিখিত অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগী নারী শিক্ষার্থীরা।
এদিকে, ৮ মাস আগের ঘটনায় গত ২ ডিসেম্বর করা মামলায় পিকনিকের কথা বলে আশুলিয়ায় নিয়ে গিয়ে একই বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থীকে সংঘবদ্ধ ‘ধর্ষণ’ ও ভিডিও ধারণের মামলার পর আন্দোলনে রয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এরই মধ্যে বিভাগের প্রভাষক লিমনের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ আসার পর দুটি ঘটনায় সম্পৃক্ত থাকায় তিনিসহ বিভাগের আরেকজন শিক্ষককে ছুটিতে পাঠিয়ে একটি তদন্ত কমিটি করেছে প্রশাসন।
প্রসঙ্গত, লিমনকে ১৬ বছর বয়সে ২০১১ সালের ২৩ মার্চ ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার সাতুরিয়া গ্রামে কুখ্যাত অপরাধী বিবেচনা করে বাম পায়ে গুলি করে র্যাব—৮ এর কয়েকজন সদস্য। পরে লিমনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং সেদিনই তার বিরুদ্ধে আলাদা দুটি মামলা করে র্যাব। এর ৪ দিন পর লিমনের বাম পা কেটে ফেলতে হয়। বর্তমানে তিনি কৃত্রিম পা দিয়ে চলাফেরা করছেন।
সেই সময় রাষ্ট্রযন্ত্রের নিষ্ঠুরতার শিকার তরুণ লিমন পিজিএস কাউখালী কারিগরি বহুমুখী স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ২০১০ সালে এসএসসি এবং ২০১৩ সালে এইচএসসি পাস করেন। ২০১৭ সালে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে অনার্স এবং ২০১৯ সালে কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। ২০২০ সালে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে যোগদানে লিমনের একাডেমিক যোগ্যতা কম ছিল। তবে তিনি ‘মানবিক’ বিবেচনায় সেই সময় শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেছিলেন। শিক্ষক হিসেবে যোগদান করার পর থেকে বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের পরোক্ষ শক্তিতে নানা অনিয়ম করতে থাকেন গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে। সর্বশেষ গত ৪ ডিসেম্বর নিজ বিভাগে ধর্ষণে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের পক্ষে থানায় গিয়ে তোপের মুখে পড়েন তিনি।
ভুক্তভোগী নারী শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে করা লিখিত অভিযোগে বলা হয়, প্রভাষক লিমন হোসেন বিভিন্নভাবে তাদের যৌন হয়রানি করছেন। তিনি তার কেবিনে নারী শিক্ষার্থীদের ডেকে নিয়ে বিভিন্ন অশালীন মন্তব্য করতেন। অনেক সময় তাদের বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন অশালীন বার্তা পাঠাতেন। যেমন, তার স্ত্রী তাকে সুখী করতে পারে না, সে যৌনতার ক্ষেত্রে অনেক একাকীত্বতায় ভোগেন, এছাড়াও অনেক আপত্তিকর কথা, যা প্রকাশ করার মতো নয়।
এছাড়াও অপর একটি লিখিত অভিযোগ করা হয় আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে। পাঁচটি দফা উল্লেখ করা ওই অভিযোগে বলা হয়, শিক্ষক লিমন হোসেন ধর্ষণে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের সশরীরে থানায় গিয়ে ছাড়ানোর চেষ্টা করেছেন। অপরাধীকে বাঁচানোর চেষ্টাও অপরাধের শামিল।
এছাড়া ক্লাসে পড়ানোর ছলে তিনি শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত জীবনে জোরপূর্বক প্রবেশ করে শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত বিষয় সকলের সামনে উপস্থাপন করে শিক্ষার্থীদের হেয় করেন।
একজন শিক্ষক হিসেবে তার পড়ানোর পদ্ধতি কোনো ভাবেই গবেষণা কেন্দ্রিক নয় উল্টা তিনি গলাদ্ধকরণ পদ্ধতিতে বিশ্বাস করেন। যা শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল মেধাকে বিনষ্ট করেন।
তিনি স্বজনপ্রীতি নীতি ব্যবহার করে, ব্রিটিশ পদ্ধতি Divide and Rule policy প্রয়োগ এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি করেন যা পরবর্তীতে বড় অপরাধের জন্ম দেয়।
ক্যাম্পাসে বিগত দিনে ঘটে যাওয়া প্রায় সকল অপরাধের সাথে জড়িত চক্রের সাথে এমনকি সম্প্রতি বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীদের সাথেও প্রভাষক লিমন হোসেনের একান্ত সম্পর্কে বিদ্যমান এবং তাদের প্রকাশ্য মদদদাতা তিনিই যা শিক্ষার্থী মনে ক্রমশ ভীতি সঞ্চারণ করে যাচ্ছে।
এর আগে রবিবার (৭ ডিসেম্বর) ক্যাম্পাসের একটি মিলনায়তনে শিক্ষার্থীরা প্রভাষক লিমন হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিস্তারিত তুলে ধরে বক্তব্য দেন। সেখানে তারা দ্রুত লিমন হোসেনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের প্রতি দাবি জানান।
একাধিক শিক্ষার্থী জানান, উনি মানুষের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আগ্রহী। যা আমাদের বিব্রত করে। এমনকি নিজের ব্যক্তিগত জীবনের প্রেম-বিচ্ছেদের গল্পও বারবার বলে বিব্রত করতে থাকেন। কে কার সাথে মিশবে না মিশবে সে ব্যাপারেও তিনি বারবার হস্তক্ষেপ করেন।
এসব অভিযোগের বিষয়ে শিক্ষক লিমন হোসেন বলেন, এ ধরনের অভিযোগের বিষয়ে আমি অবগত নই। আমি এ ধরনের কোনো কথা বলি নাই। এ ধরনের অভিযোগ ভিত্তিহীন।
তিনি আরও বলেন, আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্যে আমার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ তোলা হয়েছে।
যৌন নিপীড়ন বিরোধী সেলের প্রধান ড. ওয়াহিদা জামান লস্কর বলেন, যৌন নিপীড়ন বিরোধী সেলের সভাপতির দায়িত্বের বিষয়ে প্রশাসন থেকে চিঠি প্রদান করা হয়েছে। তবে উপাচার্যের কাছে প্রদানকৃত অভিযোগ পত্রের বিষয়ে তিনি এখনো অবগত নন।
এদিকে ধর্ষণের ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে গণ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে সাত দিন সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। তদন্ত চলাকালে আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. রফিকুল আলম ও প্রভাষক লিমন হোসেনকে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। এই সময়ে তারা একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকবেন।
তদন্ত কমিটিতে ভেটেরিনারি এন্ড এনিমেল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. জহিরুল ইসলাম খানকে সভাপতি ও বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. আবু রায়হানকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।
জানা যায়, ২০১১ সালের ২৩ মার্চ বিকেলে বাড়ির কাছের মাঠে গরু আনতে গিয়ে র্যাবের গুলিতে পা হারায় লিমন। ওই সময় সে উচ্চ মাধ্যমিক প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিল। রাজাপুর উপজেলার শীর্ষ সন্ত্রাসী দুই সহোদর মিজান ও মোর্শেদকে ধরতে গিয়ে সোর্সের ভুল তথ্যের কারণে ১৬ বছরের কিশোর লিমনের পায়ে গুলি করে র্যাব। পরে চিকিৎসকরা তার একটি পা কেটে ফেলতে বাধ্য হন।
২০১১ সালের ২৩ মার্চ রাতেই লিমনসহ ৯ জনের নামে রাজাপুর থানায় দুটি মামলা দায়ের করেন র্যাবের ডিএডি লুৎফর রহমান। একটি অস্ত্র আইনে এবং অপরটি সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে। দুটি মামলার এক নম্বর আসামি ছিলেন লিমন। ২৪ মার্চ লিমনকে রাজাপুর হাসপাতাল থেকে নেওয়া হয় বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে। ২৫ মার্চ লিমনকে গ্রেপ্তার করে পাঠানো হয় ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে। সেখানে ২৭ মার্চ চিকিৎসকরা লিমনের বাম পা হাঁটু থেকে কেটে ফেলেন।
এমকে
ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার
ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা
রাজধানীর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকে (ইউএপি) চলমান উত্তেজনার মধ্যে অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ক্লাস বন্ধ ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
গতকাল সোমবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের সই করা এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমান পরিস্থিতিতে নিয়মিত একাডেমিক কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়া অনুকূল নয়। বিষয়টি সমাধান ও দ্রুত স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরায় শুরুর লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্লাস স্থগিত থাকবে।
এর আগে গত রোববার শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের বেসিক সায়েন্স অ্যান্ড হিউম্যানিটিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক লায়েকা বশীরকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে কর্তৃপক্ষ। হিজাব ও নিকাব নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য, মুসলিম শিক্ষার্থীদের হেনস্তা এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।
একইসঙ্গে আওয়ামী রাজনৈতিক পক্ষপাতমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ওই বিভাগের প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ড. এ. এস. এম. মহসিনকেও বহিষ্কার করা হয়। দুই শিক্ষককে বহিষ্কারের পরও বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।
গত ১৮ জানুয়ারি দুই শিক্ষককে বহিষ্কারের আগে এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা জানান, হিজাব ও নিকাব পরার কারণে মুসলিম নারী শিক্ষার্থীদের ক্লাসে প্রকাশ্যে অপমান, বৈষম্যমূলক আচরণ, ইসলামের বিধান নিয়ে কটূক্তি এবং মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে লায়েকা বশীরের বিরুদ্ধে। এছাড়া ক্লাস চলাকালে নামাজে বাধা দেওয়া, নিকাব খুলতে চাপ সৃষ্টি এবং পরীক্ষায় বৈষম্যমূলক গ্রেডিংয়ের ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন তারা। এসব কর্মকাণ্ডের ভিডিও প্রমাণ শিক্ষার্থীদের কাছে রয়েছে বলেও জানান তারা।
এমকে
ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার
ইবি শিক্ষার্থী সাজিদ হত্যার বিচারের দাবিতে ফের মানববন্ধন
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থী সাজিদ আবদুল্লাহ্ হত্যার বিচারের দাবিতে ফের মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে শিক্ষার্থীরা। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা।
এসময় তাদের হাতে “জাস্টিস ফর সাজিদ; হত্যার ১৮৬তম দিন আজ আর কত অপেক্ষা? সাজিদ ভাই কবরে খুনি কেন বাহিরে? প্রশাসনের হেলাফেলা মানিনা মানবো না; কার ভয়ে প্রশাসন চুপ?” ইত্যাদি প্ল্যার্কাড দেখা যায়।
কর্মসূচি শেষে শিক্ষার্থীরা উপাচার্য কার্যালয়ে গিয়ে হত্যাকাণ্ডের তদন্তের অগ্রগতি এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনা করেন।
এসময় উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিদের নিয়ে সাজিদ হত্যা মামলার অগ্রগতির বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের কথা বলবেন বলে আশ্বস্ত করেন।
অর্থসংবাদ/এমকে/সাকিব
ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশ চূড়ান্ত: শিক্ষা মন্ত্রণালয়
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রণীত অধ্যাদেশ চূড়ান্ত করা হয়েছে। দ্রুততম সময়ে অধ্যাদেশ যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পাবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ পর্যায়ের সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে চূড়ান্ত খসড়া রোববার (১৮ জানুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এতথ্য জানায়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ চূড়ান্তকরণের আগে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগকে সম্পৃক্ত মন্ত্রণালয়/বিভাগের মতামত সংগ্রহ, ওয়েবসাইটে প্রকাশের মাধ্যমে সর্বসাধারণের মতামত গ্রহণ, শিক্ষক-শিক্ষাথী-সুশীল সমাজের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠান, বিশেষজ্ঞদের অভিমত গ্রহণ এর মত বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ অতিক্রম করতে হয়েছে।
অধ্যাদেশের খসড়া চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে সকলের যৌক্তিক প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটিয়ে এবং উদ্বেগসমূহকে বিবেচনায় নিয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করার উপযোগী কাঠোমা নির্ধারণ করাই ছিল মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ এর মূল লক্ষ্য। সকলের ধৈর্যশীল সহযোগিতা এবং গঠনমূলক ভূমিকার কারণেই শিক্ষা মন্ত্রণালয় জটিল এ প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ সময়ে সময়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ধারাবাহিক অগ্রগতির তথ্য সর্বসাধারণকে অবহিত করেছে।
টেকসই ও বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে মৌলিক ও উপরিকাঠামোগত সংস্কারের কাজগুলো সুশৃঙ্খলভাবে ধাপে ধাপে এবং যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে হয়। যে কোন পর্যায়ে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি বা বিশৃঙ্খলা পুরো উদ্যোগকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অধ্যাদেশটি যেহেতু এখন সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে, সেহেতু জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয় বা স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হয় এমন কোনো কর্মসূচি বা কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে আহ্বান করা যাচ্ছে। যেকোনো আবেগপ্রসূত বা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি দীর্ঘদিনের এই অর্জন ও শ্রমকে নসাৎ করে দিতে পারে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিশ্বাস করে, দীর্ঘদিনের ধৈর্য্য ও পারস্পরিক সহযোগিতার এই ধারা অব্যাহত রেখে আমরা অতি দ্রুত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা নিশ্চিত করতে পারব, যা বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার প্রসারে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশের দাবিতে দীর্ঘ দিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা।
অধ্যাদেশ জারির এক দফা দাবিতে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাজধানীর সায়েন্সল্যাব মোড়ে বিশাল গণজমায়েতের আয়োজন করেছে সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। সেখানে অধ্যাদেশ মঞ্চ স্থাপন করা হবে বলে শুক্রবার সাত কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তর আন্দোলনের প্রতিনিধি ও ঢাকা কলেজের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. নাঈম হাওলাদার পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এতথ্য জানানো হয়েছে।
এমকে
ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার
হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে ঢাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের বিক্ষোভ
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) বিক্ষোভ মিছিল ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেছে ইনকিলাব মঞ্চ।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) জুম্মার নামাজের পর ঢাবির কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়।
মিছিলটি কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে যাত্রা করে টিএসসি হয়ে শাহবাগ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় টিএসসির সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে বিক্ষুব্ধ ছাত্রজনতা অবস্থান নেয় এবং বিভিন্ন স্লোগানে প্রাঙ্গণ মুখরিত করে তোলে।
এ সময় বিক্ষোভকারীরা “আমার হত্যার বিচার চাই”, “বইলা গেছে হাদি ভাই”, “ভারত না বাংলাদেশ? বাংলাদেশ বাংলাদেশ”, “আমরা সবাই হাদি হবো”, “যুগে যুগে লড়ে যাবো” এমন নানা স্লোগান দেন।
সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, সরকার তরুণ প্রজন্মকে অবহেলা করে কখনোই দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটাতে পারবে না।
তিনি বলেন, তরুণদের ন্যায্য দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে এবং তারা ঘরে ফিরে যাবে না।
তিনি বলেন, কেউ কেউ মনে করেছিল শহীদ ওসমান হাদিকে হত্যা করে স্বাধীনতার প্রশ্ন, সীমান্ত সুরক্ষা কিংবা আন্দোলন দমিয়ে রাখা যাবে। কিন্তু বাস্তবে তরুণ প্রজন্ম এখন আগের চেয়েও বেশি ঐক্যবদ্ধ ও সচেতন।
হত্যাকারীদের বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ইনকিলাব মঞ্চের এই লড়াই চলবে বলে জানান তিনি।
এমকে
ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার
এসএসসি পরীক্ষা শুরু ২১ এপ্রিল, রুটিন প্রকাশ
চলতি বছরের (২০২৬) এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ করেছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেলে বোর্ডের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সূচি প্রকাশ করা হয়। সূচি অনুযায়ী- এ বছর এসএসসি পরীক্ষা শুরু হবে আগামী ২১ এপ্রিল।
প্রথমদিনে বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। লিখিত পরীক্ষা শেষ হবে ২০ মে। ৭ জুন থেকে শুরু হবে ব্যবহারিক পরীক্ষা, যা চলবে ১৪ জুন পর্যন্ত।
গত বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়েছিল ১০ এপ্রিল। সেই হিসাবে এবার পরীক্ষা ১১ দিন পিছিয়ে শুরু করার হবে।পাশাপাশি মাঝে ছুটি পড়ায় ব্যবহারিক পরীক্ষা দেরিতে অনুষ্ঠিত হবে।
এসএসসির রুটিন দেখতে এখানে ক্লিক করুন।



