পিলখানায় বিডিআর (তৎকালীন) সদর দপ্তরে সংঘটিত নৃশংস হত্যাযজ্ঞের ঘটনা তদন্তে গঠিত জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন আজ অন্তর্বর্তী সরকার প্রধানের কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। রোববার (৩০ নভেম্বর) কমিশনের মেয়াদের শেষ দিনে তারা একটি সংবাদ সম্মেলনও করার কথা জানিয়েছে।
শনিবার কমিশনের প্রধান মেজর জেনারেল (অব.) আ ল ম ফজলুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, রোববার (আজ) সন্ধ্যা ৬টায় রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবরেটরির বিআরআইসিএম ভবনে সংবাদ সম্মেলনে কমিশনের তদন্ত সম্পর্কে জানানো হবে।
বিডিআরের সাবেক মহাপরিচালক এ এল এম ফজলুর রহমানকে সভাপতি করে গঠিত সাত সদস্যের এই কমিশন এর আগে গত ২৫ জুন এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিল, পিলখানায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ড দীর্ঘমেয়াদি ষড়যন্ত্রের ফল হিসেবে প্রতীয়মান হচ্ছে।
কমিশন জানায়, এই ঘটনায় তৎকালীন রাজনৈতিক নেতাদের বিভিন্নভাবে সংশ্লিষ্টতার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা ও আলামত ধ্বংস করার প্রয়াস প্রতীয়মান হয়েছে এবং এর পেছনে দায়ী ব্যক্তি ও সংস্থাগুলোকে চিহ্নিত করা হচ্ছে।
কমিশনের প্রতিবেদন জমা দেওয়া নিয়ে আগামী সোমবার সকাল পৌনে ১১টায় পিলখানায় শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের পরিবারবর্গ প্রতিক্রিয়া জানাতে সংবাদ সম্মেলন করতে যাচ্ছেন। রাওয়া ক্লাবের ঈগল হলে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত বছর ১৯ ডিসেম্বর পিলখানা ট্র্যাজেডির ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক সেনাপ্রধান মঈন উ আহমেদসহ ৫৮ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটিতে) অভিযোগ করেন নিহত সেনা কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যরা। ৫৮ জনের তালিকায় আওয়ামী লীগ নেতা শেখ সেলিম, শেখ ফজলে নূর তাপস, মির্জা আজম, জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং সাবেক কয়েকজন সেনাকর্মকর্তাও রয়েছেন।
গত বছর ২৩ ডিসেম্বর এই স্বাধীন জাতীয় কমিশন গঠন করা হয়। এর আগে গত ১৫ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, দুটি মামলা চলমান থাকায় কমিশন গঠন আদালতের আদেশের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। কিন্তু বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ বিভিন্ন পক্ষের ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার মুখে সরকার পরে কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়।
এমকে