ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের ইব্রাহিম খালেদকে ডেকেছেন আপিল বিভাগ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২০-০২-১৬ ২১:১৪:১৭

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স সার্ভিস লিমিটেডের সর্বশেষ পরিস্থিতি জানতে চেয়েছেন আপিল বিভাগ। এ কোম্পানিতে আদালতের নির্দেশে নিযুক্ত চেয়ারম্যান ইব্রাহিম খালেদের বক্তব্য জানতে চেয়েছেন আদালত।

কোম্পানির আর্থিক অবস্থা, দুর্নীতির ব্যাপ্তি, অবসায়ন সম্ভব কিনা, সর্বোপরি সামগ্রিক বিষয়ে লিখিত বক্তব্য নিয়ে আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি সকাল ৯টায় তাকে আদালতে হাজির থাকতে বলা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালকের নিচে নয়, এমন পদমর্যাদার এক কর্মকর্তাকেও সেদিন লিখিত বক্তব্য নিয়ে আসতে বলেছেন আপিল বিভাগ। আদালত বলেছেন, আর্থিক খাতে এ ধরনের অনিয়মে আদালত চোখ বন্ধ করে বসে থাকবে না।

হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের করা এক আবেদনের শুনানি করে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার বিচারকের আপিল বেঞ্চ রোববার এ আদেশ দেন।

ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের পক্ষে আদালতে শুনানি করেন আইনজীবী আহসানুল করিম ও খায়রুল আলম চৌধুরী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা।

শুনানিতে আর্থিক খাতের অনিয়ম নিয়ে সর্বোচ্চ আদালত উষ্মা প্রকাশ করেছেন জানিয়ে আহসানুল করিম সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘আদালত বলেছেন, আর্থিক খাতে এ ধরনের অনিয়মে আদালত চোখ বন্ধ করে বসে থাকবে না।’

শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে জনগণের আমানত রাখা হয়। কিন্তু সেই আমানত যেভাবে লুটপাট হচ্ছে, তাতে ব্যাংক সংশ্লিষ্ট আর্থিক খাত ভয়ংকর পরিণতির দিকে যাচ্ছে। যারা এ টাকা লুটপাটের সঙ্গে জড়িত তাদের ব্যাপারে আদালত কঠোর ভূমিকা রাখতে পারে।

গত ২১ জানুয়ারি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স সার্ভিস লিমিটেড (আইএলএফএসএল) থেকে অপসারিত প্রশান্ত কুমার (পি কে) হালদারসহ কোম্পানির শীর্ষ ২০ কর্মকর্তার পাসপোর্ট জব্দের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

স্বরাষ্ট্র সচিবকে ওই নির্দেশ দিয়ে আদালত আদেশে বলেন, অগ্রধিকার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশ দেয়া হল, যাতে এ সব ব্যক্তি কোনোভাবেই দেশ ছাড়তে না পারে। এ নির্দেশ বাস্তবায়ন করে ১৫ দিনের মধ্যে আদালতকে জানাতে বলেছেন হাইকোর্ট।

সেই সঙ্গে বিচারাধীন মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই ২০ জনের নগদ অর্থ, গাড়ি, স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তর না করতেও নির্দেশ দেয়া হয়।

পি কে হালদার ছাড়া বাকিরা হলেন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. নুরুল আলম, পরিচালক জহিরুল আলম, নাসিম আনোয়ার, বাসুদেব ব্যানার্জী, পাপিয়া ব্যানার্জী, মোমতাজ বেগম, নওশেরুল ইসলাম, আনোয়ারুল কবির, প্রকৌশলী নূরুজ্জামান, আবুল হাশেম, মো. রাশেদুল হক, পি কে হালদারের মা লীলাবতী হালদার, স্ত্রী সুস্মিতা সাহা, ভাই প্রিতুষ কুমার হালদার, চাচাতো ভাই অমিতাভ অধিকারী, অভিজিৎ অধিকারী, ব্যাংক এশিয়ার সাবেক পরিচালক ইরফান উদ্দিন আহমেদ, পি কে হালদারের বন্ধু উজ্জ্বল কুমার নন্দী।

ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের সাত বিনিয়োগকারীর টাকা ফেরত চেয়ে করা মামলার শুনানি শেষে এ আদেশ এসেছিল হাইকোর্ট থেকে। ওইদিন আদেশে আদালত ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে পি কে হালদারকে অপসারণ করে কোম্পানি পরিচালনার জন্য স্বাধীন পরিচালক ও চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর ইব্রাহিম খালেদকে নিয়োগ দেন। সে আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করে আইএলএফএসএল। তার ওপর শুনানি করেই আপিল বিভাগ ইব্রাহিম খালেদের বক্তব্য জানতে চাইল।

দুদকের সহকারী পরিচালক মামুনুর রশীদ চৌধুরী ৮ জানুয়ারি এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রশান্ত কুমার হালদারের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। তাতে বলা হয়, প্রশান্ত কুমার অসৎ উদ্দেশ্যে বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসা ও অবৈধ কার্যক্রমের মাধ্যমে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ২৭৪ কোটি ৯১ লাখ ৫৫ হাজার ৩৫৫ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন।

লিপরো ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড ও পিঅ্যান্ডএল ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড ছাড়াও বিভিন্ন ‘কাগুজে কোম্পানিতে’ প্রশান্ত কুমার হালদারের ১২৩ কোটি ৬৪ লাখ টাকার সম্পত্তি রয়েছে, যা তিনি ‘অবৈধভাবে’ অর্জন করেছেন বলেও অভিযোগ করা হয় মামলায়।

আমরা সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।