আইন-আদালত
২২ জনকে হাইকোর্টের স্থায়ী বিচারপতি নিয়োগ
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর নিয়োগ পাওয়া হাইকোর্টের ২২ অতিরিক্ত বিচারপতিকে স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। তবে একই সঙ্গে নিয়োগ পাওয়া বিএনপি নেতা নিতাই রায় চৌধুরীর ছেলে বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীকে স্থায়ী করা হয়নি।
সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন ঢাকা পোস্টকে জানায়, বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর বয়স এখনও ৪৫ বছর পূর্ণ না হওয়ায় তাকে এ তালিকায় স্থায়ী করা হয়নি।
মঙ্গলবার রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে আইন মন্ত্রণালয় থেকে ২২ জনকে স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘মহামান্য রাষ্ট্রপতি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদ অনুসারে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতির সাথে পরামর্শক্রমে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট, হাইকোর্ট বিভাগের নিম্নবর্ণিত ২২ (বাইশ) জন অতিরিক্ত বিচারককে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারক হিসেবে নিয়োগদান করেছেন।
তারা হলেন, বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদার, বিচারপতি সৈয়দ এনায়েত হোসেন, বিচারপতি মো. মনসুর আলম, বিচারপতি সৈয়দ জাহেদ মনসুর, বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজা, বিচারপতি মো. যাবিদ হোসেন, বিচারপতি মুবিনা আসাফ, বিচারপতি কাজী ওয়ালিউল ইসলাম, বিচারপতি আইনুন নাহার সিদ্দিকা, বিচারপতি মো. আবদুল মান্নান, বিচারপতি তামান্না রহমান খালিদী, বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ, বিচারপতি মো. হামিদুর রহমান, বিচারপতি নাসরিন আক্তার, বিচারপতি সাথীকা হোসেন, বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তাজরুল হোসেন, বিচারপতি মো. তৌফিক ইনাম, বিচারপতি ইউসুফ আব্দুল্লাহ সুমন, বিচারপতি শেখ তাহসিন আলী, বিচারপতি ফয়েজ আহমেদ, বিচারপতি মো. সগীর হোসেন, বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজী।
এর আগে ২০২৪ সালের ৯ অক্টোবর ২৩ জনকে হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার। ২৩ জনের মধ্যে বিএনপি নেতা নিতাই রায় চৌধুরীর ছেলে দেবাশীষ রায় চৌধুরী ছিলেন।
আইন-আদালত
জোট করলেও নিজ নিজ প্রতীকে নির্বাচন, হাইকোর্টের রায়
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটবদ্ধ নির্বাচন করলেও নিজ নিজ দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের বিধানের বৈধতা প্রশ্নে জারি করা রুল খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। এর ফলে জোট করলেও সব দলকে নিজ নিজ প্রতীকে নির্বাচন করতে হবে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। দুপুর আড়াইটা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৫টা পর্যন্ত টানা রুল শুনানি শেষে আদালত এ রায় দেন।
আদালতে রিটের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম, ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম, ব্যারিস্টার রেশাদ ইমাম, ব্যারিস্টার সাহেদুল আজম। এনসিপির পক্ষে রিটের বিরোধিতা করে শুনানি করেন– অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেন লিপু, অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মূসা, অ্যাডভোকেট আজমল হোসেন, অ্যাডভোকেট নাজমুস সাকিব। কংগ্রেসের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট ইয়ারুল ইসলাম।
এর আগে, গত ১ ডিসেম্বর আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটবদ্ধ নির্বাচন করলেও নিজ নিজ দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের বিধান কেন অবৈধ হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট।
বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। ১০ দিনের মধ্যে নির্বাচন কমিশনকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়।
সেদিন আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম। সঙ্গে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার রেশাদ ইমাম, ব্যারিস্টার সাহেদুল আজম, ব্যারিস্টার মো. মোস্তাফিজুর রহমান। অ্যাডভোকেট জহুরুল ইসলাম মূসাসহ এনসিপির আইনজীবীরা শুনানিতে রুলের বিরোধিতা করেন।
গত ২৭ নভেম্বর আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটবদ্ধ নির্বাচন করলেও নিজ নিজ দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের বিধান চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়। নির্বাচনে নিবন্ধিত একাধিক দল জোটভুক্ত হলেও ভোট করতে হবে নিজ নিজ দলের প্রতীকে, এমন বিধান যুক্ত করে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) বাতিল চাওয়া হয়েছে রিটে।
ববি হাজ্জাজের নেতৃত্বাধীন জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন এনডিএমের মহাসচিব মোমিনুল আমিন এ রিট দায়ের করেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের রিটে বিবাদী করা হয়েছে।
গত ৩ নভেম্বর নির্বাচনে নিবন্ধিত একাধিক দল জোটভুক্ত হলেও ভোট করতে হবে নিজ নিজ দলের প্রতীকে– এমন বিধান যুক্ত করে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধন অধ্যাদেশ জারি করে সরকার।
আগে কোনো দল জোটভুক্ত হয়ে নির্বাচনে অংশ নিলে তারা জোটের শরিক যেকোনো দলের প্রতীক নেওয়ার সুযোগ পেত। গত ২৩ অক্টোবর উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে আরপিও সংশোধন অধ্যাদেশের খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়।
জোট করলেও দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করার বিধান নিয়ে তখন আপত্তি জানিয়েছিল বিএনপি। দলটি নির্বাচন কমিশন ও আইন মন্ত্রণালয়কে লিখিতভাবে তাদের আপত্তির কথা জানায়। জোটভুক্ত হতে আগ্রহী কিছু ছোট দলের মধ্যেও সরকারের এই সিদ্ধান্তে অস্বস্তি তৈরি হয়েছিল।
এরপর সরকার বিষয়টি বাদ দেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এমন খবর জানতে পেরেছে উল্লেখ করে জামায়াতে ইসলামী এটি নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখায়। শেষ পর্যন্ত ওই বিধান রেখে অধ্যাদেশ জারি করা হয়।
আইন-আদালত
ট্রাইব্যুনালে সাদিক কায়েমসহ ডাকসুর তিন নেতা
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে সাক্ষ্য দিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (ডাকসুর) তিন নেতা। বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) সকাল ১১ টায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে সাক্ষ্য দেন তাঁরা।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে সাক্ষ্য দেওয়া তিন নেতা হলেন ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম, ছাত্র পরিবহন সম্পাদক ও সিনেট সদস্য আসিফ আব্দুল্লাহ এবং সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ।
এমকে
আইন-আদালত
বসুন্ধরা গ্রুপ ও ন্যাশনাল ব্যাংকের ১৬ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা
বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান এবং ন্যাশনাল ব্যাংকের ১৩ কর্মকর্তাসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাত ও পাচারের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
আজ বুধবার (১০ ডিসেম্বর) দুদক প্রধান কার্যালয়ে এক নিয়মিত মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন। উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন।
আসামীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন- বসুন্ধরা ইম্পোর্ট এক্সপোর্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাদাত সোবহান ও পরিচালক সাফিয়াত সোবহান। এছাড়া ন্যাশনাল ব্যাংকের পরিচালক মনোয়ারা শিকদার, পারভীন হক শিকদার, মোয়াজ্জেম হোসেন, রিক হক শিকদার, রন হক শিকদার, মোঃ আনোয়ার হোসেন ও একেএম এনামুল হক শামীম এবং একই ব্যাংকের গুলশান শাখার ম্যানেজার আরিফ মো. শহিদুল হকসহ আরও ছয় শীর্ষ কর্মকর্তার নাম আসামী তালিকায় রয়েছে।
দুদক জানায়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ন্যাশনাল ব্যাংক পিএলসির নিয়ম-কানুন ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা লঙ্ঘন করে বসুন্ধরা ইম্পোর্ট এক্সপোর্ট লিমিটেডের নামে মোট ১ হাজার ৩৫০ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন ও বিতরণ করেন। পর্যাপ্ত জামানত, স্টক রিপোর্ট, পরিদর্শন প্রতিবেদন, ক্রেডিট রেটিং ও গ্রাহকের প্রকৃত ঋণ পরিশোধ সক্ষমতার যাচাই ছাড়াই ভুয়া আর্থিক বিবরণীর ভিত্তিতে এ ঋণ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে গ্রাহকের ওপর অন্যান্য ব্যাংকে থাকা ৬২৯.১৬ কোটি টাকার দায়-দেনার বিষয়টিও ইচ্ছাকৃতভাবে উপেক্ষা করা হয়। বসুন্ধরা গ্রুপভুক্ত প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও গ্রাহককে আলাদা গ্রুপ দেখিয়ে একক ঋণগ্রহীতা ঋণসীমা অতিক্রম করে ঋণ অনুমোদনের মাধ্যমেও ব্যাংক কোম্পানি আইন ও অভ্যন্তরীণ নীতিমালা লঙ্ঘন করা হয়।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, ফান্ডেড ঋণের ৬০০ কোটি টাকা বৈধ উদ্দেশ্যে ব্যবহার না করে আসামিরা তা বিভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের হিসাবে স্থানান্তর ও নগদ উত্তোলনের মাধ্যমে আত্মসাৎ করেন এবং অর্থের উৎস ও মালিকানা গোপন করতে মানিলন্ডারিং কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকেন।
এসব অপরাধে তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০, ৪০৯ ও ১০৯ ধারা, দুর্নীতি দমন আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আইন-আদালত
জয়কে ট্রাইব্যুনালে হাজিরে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ
জুলাই-আগস্টে ইন্টারনেট বন্ধ করে গণহত্যার দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাপুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়কে হাজিরে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এ মামলায় অপর আসামি সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক।
বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অন্য সদস্যরা হলেন- বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ।
এদিন ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। জয়ের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির অগ্রগতি নিয়ে জানান তিনি। এ সময় পলাতক আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজিরের জন্য দুটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের অনুমতি চান। পরে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির অনুমতিসহ পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১৭ ডিসেম্বর দিন নির্ধারণ করেন ট্রাইব্যুনাল।
এ সময় পলকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী লিটন আহমেদ। তিনি বলেন, সপ্তাহে একদিন পলককে পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে দিচ্ছেন না জেল কর্তৃপক্ষ। একইসঙ্গে ১৫ দিনে একবার স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। এজন্য ট্রাইব্যুনালের অনুমতি চান এই আইনজীবী।
এর আগে, ৪ ডিসেম্বর এই দুজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে জয়ের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে শুনানির জন্য আজকের দিন ধার্য করা হয়।
একই দিন সকালে ইন্টারনেট বন্ধ করে গণহত্যার দায়ে জয় ও পলকের বিরুদ্ধে ফরমাল চার্জ (আনুষ্ঠানিক অভিযোগ) জমা দেয় প্রসিকিউশন।
এমকে
আইন-আদালত
ইসির সিদ্ধান্ত অবৈধ, বাগেরহাটে চারটি আসন পুনর্বহাল
বাগেরহাটের চারটি আসন থেকে একটি কমিয়ে তিনটি আসন করে নির্বাচন কমিশনের গেজেট অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায় বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। বাগেরহাটের সংসদীয় আসন চারটি ও গাজীপুর পাঁচটি আসন থাকবে বলে রায় দেওয়া হয়েছে। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) আদালত এ রায় দেন।
এর আগে গেল ১০ নভেম্বর বাগেরহাটের সংসদীয় আসন চারটি থেকে কমিয়ে তিনটি এবং গাজীপুরের পাঁচটি থেকে বাড়িয়ে ছয়টি নির্ধারণ করে জারি হওয়া নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রজ্ঞাপনকে অবৈধ বলে ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। এ সংক্রান্ত রিটের রায়ে আদালত একইসঙ্গে আগের সীমানা অনুযায়ী বাগেরহাটে চারটি এবং গাজীপুরে পাঁচটি আসন বহাল রাখতে ইসিকে নির্দেশ দিয়েছেন।
তখন হাইকোর্টের রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি দেখে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এ প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ বলেছিলেন, ‘আমরা হাইকোর্টের রায়ের বিষয়টি জেনেছি। এ বিষয়ে ইসির সিদ্ধান্ত কী হবে, সেটি পরে জানিয়ে দেয়া হবে।’
এর আগে গত ১৬ সেপ্টেম্বর বাগেরহাটের চারটি সংসদীয় আসন বহাল করতে কেন নির্দেশনা দেয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রতি রুল জারি করেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে বাগেরহাটের চারটি আসন থেকে একটি কমিয়ে তিনটি করে নির্বাচন কমিশনের গেজেট কেন অবৈধ হবে না, রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়। নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্টদের ১০ দিনের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। সেদিন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।
১৯৬৯ সাল থেকে বাগেরহাটে চারটি সংসদীয় আসনে নির্বাচন হয়ে আসছিল। সে অনুযায়ী বাগেরহাট-১ ছিল চিতলমারী-মোল্লাহাট-ফকিরহাট; বাগেরহাট-২ ছিল বাগেরহাট সদর-কচুয়া; বাগেরহাট-৩ ছিল রামপাল-মোংলা এবং বাগেরহাট-৪ ছিল মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গত ৩০ জুলাই তিনশ’ আসনের সীমানা নির্ধারণের খসড়া প্রকাশ করে ইসি। যেখানে ৩৯টি আসনে ছোটখাটো পরিবর্তন ছাড়াও ভোটার ও জনসংখ্যার সামঞ্জস্য আনতে বাগেরহাটের একটি আসন কমিয়ে তিনটি এবং গাজীপুরে একটি বাড়িয়ে ছয়টি নির্ধারণ করা হয়। এরপর দাবি-আপত্তির শুনানি শেষে ৪ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত সীমানা নির্ধারণ করে গেজেট প্রকাশ করে। সেখানেও বাগেরহাটে তিনটি এবং গাজীপুরে ছয়টি আসন করার আগের সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়। এছাড়া ১৪টি আসনে ৪২টি আসনে পরিবর্তন আনা হয়।
এমকে




