ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার
ইসলামের দৃষ্টিতে মানবাধিকার আল্লাহ প্রদত্ত, মানুষ প্রদত্ত নয়: মাশায়েখি রাদ
ইরানের আল-মুস্তাফা আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি হুজ্জাতুল ইসলাম শাহাবুদ্দিন মাশায়েখি রাদ বলেছেন, ইসলামের দৃষ্টিতে যে মানবাধিকার কথা বলা হয়েছে সেটা মানুষ প্রদত্ত নয়, সেটা আল্লাহ প্রদত্ত। সেটা হচ্ছে আল্লাহর হুকুম আর আল্লাহর হুকুম বাস্তবায়ন করা মানে আল্লাহর অধিকার প্রদান করা।
তিনি বলেন, আজকের প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে ইসলাম ও মানবাধিকার। মানবাধিকার এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যদিও জাতিসংঘ কর্তৃক বিশ্বের মানুষদের জন্য মানবাধিকার এই মর্মে আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা গুলোর পক্ষ থেকে এই মানবাধিকার বিষয়টি খুব হাইলাইট করা হয়ে থাকে এবং সেখানে খুব গভীরভাবে এটা পর্যালোচনা করা হয়ে থাকে। তবে আইন প্রণয়ন করা হয় কোনো বিশেষ কিছু দেশের স্বার্থ উদ্ধার করার জন্য এবং আইনগুলো সেই দেশের চিন্তা চেতনা অনুযায়ী হয়ে থাকে।
রোববার (৯ নভেম্বর) দুপুর ১২টায় কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মতত্ত্ব অনুষদ ভবনের ৪০১ নং কক্ষে ‘মানবতা ও ইসলাম’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক এক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন। ইনস্টিটিউট অব ইসলামিক এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ (আইআইইআর) এবং ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স ডিভিশিন (আইএডি)-এর যৌথ আয়োজনে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
মাশায়েখি রাদ বলেন, বিশ্বের যে বড় বড় সংস্থাগুলো মানুষের মানবাধিকার নিয়ে কাজ করে থাকে; ইউনেস্কো, ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা আরো এ জাতীয় যে বড় বড় সংস্থাগুলো রয়েছে যদিও বলছি না যে মানুষের জন্য কিঞ্চিত হলেও কাজ হবে না, কিন্তু বড় বড় দেশের বিশাল স্বার্থ চরিতার্থ করার নিমিত্তে এই সংস্থাগুলো আইন প্রণয়ন করা হয়েছে বা সংস্থাগুলো সৃষ্টিই করা হয়েছে।
এই দৃষ্টিকোণ থেকে যখন এই বড় বড় সংস্থাগুলোর কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে তখন তাদের আমল বা আচরণের ক্ষেত্রে মানবাধিকার বিষয়টা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যায়। যদিও সেই প্রশ্নবিদ্ধটা খ্রিস্টান দ্বীনের পক্ষ থেকে, হিন্দুদের ক্ষেত্রে বা অন্যান্য দিনের পক্ষ হতে হয়ে থাকুক, বিশেষ করে ইসলামের পক্ষ থেকে যখন মানবাধিকার তুলে ধরতে চাই তখন তাদের চিন্তা চেতনার সাথে খুব বড় ধরনের একটা ফারাক রয়ে যায়।
মাশায়েখি রাদ বলেন, ইসলামে কেসাস পড়ে থাকি, কেসাসের বিধান ইসলামে প্রণীত হয়েছে কিন্তু মানবাধিকারের ওই বড় বড় সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে প্রণীত আইন সেখানে কেসাস বলে কোন শব্দ তাদের ওখানে দেখবেন না, সেই আইনও প্রণীত হয়নি। বিশ্বের বড় বড় মানবাধিকার সংস্থা গুলো যেখানে মানবাধিকার নিয়ে কথা বলা হয়েছে সেই মানবাধিকারের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমান অধিকার তুলে ধরা হয়েছে এবং সম-অধিকার সেখানে বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু ইসলামের নারী পুরুষের সম অধিকারের বিষয়টি এখানে উপস্থাপিত হয়নি।
আর এই নারী পুরুষের সম অধিকার বন্টন করার পরিপ্রেক্ষিতে যে সমস্যাটা সৃষ্টি করেছে তারা। নারী পরিবারের ব্যবস্থাপক হিসেবে পাঁচজন বাচ্চা লালন পালন করার বাচ্চাদেরকে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে মেধা, সময় সেখানে ব্যয় করবে। নারী ছিল বাড়ির রানী, রানীর মর্যাদায় যে ভূষিত ছিল সেই নারী ওই সম মর্যাদার কারণে এখন নেমে এসেছে রাস্তায় এবং ট্রাফিকের দায়িত্ব পালন করছে, বাঁশি দিয়ে বলছে কোন গাড়ি কোন দিকে যাবে, কোন রাস্তা বন্ধ হবে সেই কাজে এখন ব্যস্ত হয়েছে তারা।
নারীর এই রাস্তায় নেমে আসার মাধ্যমে তারা বলতে চাচ্ছে পুরুষের মত আমরা নারীকে সমমর্যাদা দিয়েছি কিন্তু আসলে এই নারীর রাস্তায় চলে আসা এবং পুরুষের কাজে শরিক হওয়া, পুরুষের দায়িত্বটা পালন করার মাধ্যমে তাদের মর্যাদা বাড়েনি বরং তাকে নিকৃষ্ট, অপমানিত এবং অপদস্থ করা হয়েছে। বরং যে নারী আমার বাড়িতে রানীর আসনে অধিষ্ঠিত হবে। স্বামী তার জন্য খাওয়া, পড়া, চলার জন্য অর্থ উপার্জন করে তার হাতে এনে দিবে। তার জন্য নিরাপত্তা বিধান করবে সেই পর্যায়ে থেকে তারা নারীকে সরিয়ে এখন পুতুলের মত রাস্তাঘাটে তাদেরকে নাচিয়ে বেড়াচ্ছে। এই নারী-পুরুষের সমমর্যাদা বিধান করতে যেয়ে তারা নারীকে নারীর নারীত্ব থেকে বঞ্চিত করে নারীকে পুরুষত্ব দান করেছে।
তিনি আরও বলেন, পবিত্র কোরআনের দৃষ্টিতে নারীকে এমন করে মর্যাদা দেওয়া হয়েছে যে নারী এমন মর্যাদা সম্পন্ন যে পুরুষ তার খেদমতকর হিসেবে থাকবে। পুরুষ হচ্ছে নারীর খাদেমের যোগ্যতাসম্পন্ন। পুরুষ অর্থ উপার্জন করবে, নারীর খাদ্য ভরণ পোষণ, তার অর্থনৈতিক সমস্যা, সহযোগিতা এবং সমস্ত জীবনের উপকরণ। পুরুষ উপার্জন করবে নারীকে সম্মানের সহিত তার হাতে তুলে দেবে। আল্লাহর এই সৃষ্টিতে নারীকে এমন মর্যাদা দেয়া হয়েছে যে নারী রানীর আসনে বসে থাকবে পুরুষ তার চতুরদিকে কাবা ঘরের মতো তাওয়াফ করবে।
পশুদের ভিতরেও এই রীতি এমন উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, আমরা যদি মৌমাছিকে দেখি রানী মৌমাছি কখনোই কিন্তু বাইরে বের হয় না। রানী মৌমাছি মৌচাকে বসে থাকে আর অন্য পুরুষ মৌমাছিগুলো খাদেম হিসেবে মধু সঞ্চয় করে নিয়ে আসে জমা করে রানীর কাছে। নারীদের চরিত্র এমন হওয়া উচিত কিন্তু সেটা না হয়ে নারীকে রাস্তায় নিয়ে আসে বরং এই নারীকে তৈরি করেছে পুরুষের খেদমত করার জন্য যেটা কুরআনের পরিপন্থী। পুরুষ এবং নারীর মর্যাদার ক্ষেত্রে এমনটা নয় যে, পুরুষ যে কাজগুলো করবে নারীও সেই একই কাজগুলো করবে এমনটা কুরআনের নির্দেশ নয়।
তিনি আরও বলেন, পরিপূর্ণতা অর্জন করার ক্ষেত্রে আধ্যাত্মিকতা, নুরানী, নারী-পুরুষের শিক্ষা অর্জন করার ক্ষেত্রে এগুলো কোন সমস্যা তৈরি করে না বরং নারী-পুরুষ উভয়ই এই আধ্যাত্মিকতা, ইবাদী ক্ষেত্রে সমমর্যাদা সম্পন্ন সমদায়িত্ব প্রাপ্ত। কিন্তু সামাজিক ক্ষেত্রে এবং কর্ম সম্পাদন করার ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের কর্মস্থল এবং কর্মক্ষেত্র ভিন্ন এবং তাদের আনজাম দেয়ার বিষয়টিও ভিন্ন। নারীর জন্য কিছু নির্দিষ্ট কাজ নির্দিষ্ট করা আছে। পুরুষের জন্য পুরুষের নির্দিষ্ট বিভাগ নির্দিষ্ট করা আছে। তারা একে অপরের জন্য নির্দিষ্ট বিভাগে কর্মরত থাকবে। বর্তমান বিশ্বে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে যে মানবাধিকার প্রণীত হয়েছে এবং মানুষের জন্য যে অধিকার তারা বন্টন করে থাকে তার সাথে ইসলামের মানবাধিকার বন্টনের কিছু ভিন্নতা রয়েছে আমি দার্শনিক দিক থেকে সেই বিষয়গুলো সম্পর্কে কয়েকটি পার্থক্য তুলে ধরছি।
প্রথম পার্থক্যটা হচ্ছে জাতিসংঘের যে মানবাধিকার আইন প্রণয়ন করেছে সেটা মানুষ কর্তৃক প্রণীত এবং মানুষের চিন্তা গত দিক নির্দেশনা থেকে সেগুলো সৃষ্টি করা হয়েছে। ইসলামের যে মানবাধিকার রচিত হয়েছে সেটা আল্লাহর নির্দেশিত এবং কোরআনের মাধ্যমে সেটা আমাদের সামনে উপবিষ্ট হয়েছে। এবং আমাদের যে ইসলামী মানবাধিকার সেটা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের প্রণোদিত হয়েছে।
পবিত্র কুরআনে যে আয়াতগুলো আমাদের সামনে এসেছে সেখান থেকে বোঝা যায় যে মানুষকে জাতিগতভাবেই, সত্যাগতভাবেই মানুষকে সম্মানিত করা হয়েছে। আল্লাহ ইনসানকে সম্মানিত করেছেন। আল্লাহ বলেননি যে আমি পাহাড়কে সম্মানিত করেছি, পরিবেশকে সম্মানিত করেছি কিংবা আরো এগুলো কোন বিষয়েই আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সম্মানিত করেছি এ কথা বলেনি। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেছেন যে আমি বনি আদমকে সম্মানিত করেছি।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেছেন আগে সম্মানের ভিত্তিতে মানুষকে সম্মান দিয়ে সৃষ্টি করেছি। পরের বার বলেছেন আমি এবাদতের ভিত্তিতে, ন্যায়পরায়ণতার ভিত্তিতে পুরুষ এবং নারীকে পরিচালনা করে থাকি। দ্বিতীয় সূত্রটি হচ্ছে ন্যায়পরায়ণতা।
তৃতীয় বৈশিষ্ট্য হচ্ছে নিরাপত্তা এবং জীবন পরিচালনা করার অধিকার সেটা সবারই রয়েছে। আল্লাহ যাদেরকে জীবন দিয়েছেন তাদেরকেই নির্বিঘ্নভাবে জীবন পরিচালনা করার এখতিয়ার রয়েছে এবং নিরাপত্তা সহকারে জীবন পরিচালনা করার অধিকার আমাদের সবার রয়েছে।
ইসলাম এখানে স্বাধীন চেতনা নিয়ে, মন মানুষ নিয়ে আকিদাগত ভাবে স্বাধীনতার সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে। ইসলামে কখনো প্রেসার ক্রিয়েট করে অথবা জোর জবরদস্তি করে কখনো ভয় ভীতি দেখিয়ে কোন আকিদা, বিশ্বাস তৈরি করা যায় না। এটা যার যার নিজস্ব ব্যাপার যার যার স্বাধীনতার ব্যাপার রয়েছে।
চতুর্থ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে যে পুরুষ এবং নারীর একে অপরের অধিকার সম্পন্ন করা। পুরুষের ও নারী উভয়ের জন্য পারস্পরিক কিছু অধিকার রয়েছে। আয়াতে পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে যে এমনটা নয় যে শুধু নারী খাটবে আর পুরুষ সেগুলো ব্যবহার করবে। বা শুধু পুরুষ খাটবে নারী ব্যবহার করবে এমনটি নয় বরং নারীর কিছু দায়িত্ব রয়েছে পুরুষের ব্যাপারে আনজাম দেওয়া পুরুষেরও তদ্রুপ কিছু দায়িত্ব রয়েছে নারীর ব্যাপারে আনজাম দেয়ার। পঞ্চম বৈশিষ্ট্যটি হচ্ছে হাক্কে মালিক বা মালিকের হক যিনি আমাদের মালিক থাকবে সে পরিচালকের একটি হক আমাদের আদায় করতে হবে সে দায়িত্বও আমাদের উপরে রয়েছে।
দ্বিতীয় পার্থক্য মুসলিম মানবাধিকারের সাথে সেটা হচ্ছে এই যে নিরাপত্তা বিধান নিশ্চিত করা, মানুষের অধিকার বাস্তবায়নের যে কমিটমেন্ট থাকা দরকার সে কমিটমেন্ট তাদের নাই। যে আইন বা মানুষের অধিকার তারা তৈরি করেছে এমন যে, শুধুমাত্র শাস্তি দেয়ার বিধানটা এখানে প্রণয়ন করছে। এবং সেই শাস্তি দিচ্ছে কারা? একদল মানুষ আরেকদল মানুষকে শাস্তি দিচ্ছে। যদিও আমাদের সমাজে অনেক মানবাধিকারের কাজ সম্পাদিত হয়ে থাকে সেই মানবাধিকারের কাজ আমরা দেখে সন্তুষ্ট হলেও তাদের নিয়ত টা কি আসলে এই মানবাধিকার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে,পর্দার আড়ালে কি উদ্দেশ্যে মানবাধিকার বাস্তবায়ন করা হচ্ছে? তাদের কি চিন্তা চেতনা এটা আমরা ভেবে দেখি না এবং ভেবে দেখার ইচ্ছাও পোষণ করি না।
কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে যে মানবাধিকার বর্ণিত হয়েছে সেখানে দুইটা জিনিসই নিশ্চিত শাস্তির বিধান ও পুরস্কারের বিধান। সমাজে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে আল্লাহর পক্ষ থেকে যে বিধান রয়েছে যদি পালন করি তাহলে পুরস্কৃত হব অন্যথায় শাস্তি পাব। এটাই হচ্ছে আল্লাহ প্রদত্ত বিধান। এক্ষেত্রে সয়ংক্রিয়ভাবে একটা দায়িত্ব চলে আসে মুসলিম হিসেবে আল্লাহ বলেছেন তাই এই কাজটাকে আনজাম দিচ্ছি।
আরেকটা বিধান রয়েছে। হক এবং দায়িত্বের ভেতরে কিছু বিষয় রয়েছে যদি কোন বিষয়ের ব্যাপারে আমার হক থাকে তাহলে অন্যদের উচিত হবে তাদের অর্পিত দায়িত্ব যেন তারা আদায় করে। যদি অন্যদের ব্যাপারে আমার কোন দায়িত্ব থাকে তাহলে আমার উচিত হবে তাদের সেই হকটা যেন আমি আদায় করি।
উদাহরণস্বরূপ, যেমন আমার অধিকার রয়েছে স্বাধীনভাবে জীবন যাপন করার তাই আপনার উচিত হবে আমাকে স্বাধীনভাবে জীবন যাপন করার সুযোগ দেওয়া। এটা আপনাদের দায়িত্ব। একই সাথে আমার অধিকার এবং আপনাদের দায়িত্ব বলে একটি বিষয় রয়েছে। কিন্তু ইসলাম এরকমটা বলা হয়নি। ইসলাম বলছে যে অধিকারটা আমার আছে এবং অন্যদের উপর আমি দায়িত্বপ্রাপ্ত, আমার উপরে যে অধিকার বর্তাচ্ছে ঠিক এভাবে আমার দায়িত্বও বাড়ছে যে অধিকারটা আমি পেলাম সে অধিকারের প্রেক্ষাপটে বিপরীতমুখী যদি চিন্তা করি, অন্যদের প্রতি আমার দায়িত্বও বেড়ে গেল।
আমার অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে এরকমটা কখনোই করা যাবে না যে, আমি অধিকার প্রাপ্ত আর আপনারা দায়িত্বপ্রাপ্ত।
কালকে আমাদের ময়দানে আমাকে জিজ্ঞাসা করা হবে তুমি এমনটা কেন করেছো যে তুমি শুধু অধিকার প্রাপ্ত আর অন্যেরা দায়িত্বপ্রাপ্ত, তোমার কি কিছু করার ছিল না অন্যের নিমিত্তে? তখন আমাকে অবশ্যই দায়িত্বের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হবে। সর্বশেষ যে বিষয়টি বলবো সেটা হচ্ছে ইসলামের দৃষ্টিতে যে মানবাধিকার কথা বলা হয়েছে সেটা মানুষ প্রদত্ত নয়, সেটা আল্লাহ প্রদত্ত। সেটা হচ্ছে আল্লাহর হুকুম আর আল্লাহর হুকুম বাস্তবায়ন করা মানে আল্লাহর অধিকার প্রদান করা।
তাই যদি ইসলামের দৃষ্টিতে মানবাধিকার আদায় না করি ,আল্লাহর অধিকার বাস্তবায়ন না করি তাহলে আল্লার নিমিতে আল্লাহর অধিকারে আমরা আনজাম দিলাম না। আমরা তেমন একটি সময় অতিবাহিত করছি যে এই মানবাধিকার আমরা লঙ্ঘিত হতে দেখছি গাজায়, সুদানে এবং বিশ্বের আরো অনেক জায়গায়। মানবাধিকার যে লঙ্ঘিত হচ্ছে এটা বুঝানোর জন্য আপনাদের সামনে দার্শনিক আলোচনা করার দরকার নাই। একটু তাকিয়ে দেখলে আমরা দেখতে পাবো বিশ্বে মানবাধিকার কিভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে। আজকের বিশ্বে আমেরিকা সবথেকে বেশি মানবাধিকার লংঘন করছে। আমেরিকা বলেছে ইসরাইলের অধিকার আছে যে মানুষের উপরে বম্বিং করে ৭০ হাজার মানুষকে সেখানেই কতল করে ফেলা।
পরিশেষে তিনি কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে আল-মুস্তাফা আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা সম্পর্ক উন্নয়ন ঘটানোর বিষয়-সহ ভবিষ্যতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রছাত্রীদের ইরানের ভূমিতে দেখবেন বলে প্রত্যাশা করেন।
সেমিনার অনুষ্ঠানে ইরানের আল-মুস্তাফা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রতিনিধি হুজ্জাতুল ইসলাম শাহাবুদ্দিন মাশায়েখি রাদ প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। সেমিনারে আইআইইআরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে প্রোউপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এয়াকুব আলী ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম উপস্থিত ছিলেন।
অর্থসংবাদ/কাফি/সাকিব
ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার
৪৬তম বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষার তারিখ ও সময়সূচি প্রকাশ
৪৬ তম বিসিএস এর লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মধ্যে সাধারণ ক্যাডারের ৯৭৫ জন প্রার্থীর মৌখিক পরীক্ষার তারিখ ও সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশন সচিবালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগামী ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়ে ১ জানুয়ারি, ২০২৬ পর্যন্ত এই পরীক্ষা চলবে।
প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিটি কমিশনের ওয়েবসাইটে [www.bpsc.gov.bd] অথবা টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের ওয়েবসেইটে [http://bpsc.teletalk.com.bd] পাওয়া যাবে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, যুক্তিসংগত কারণে কোনো সংশোধনের প্রয়োজন হলে কমিশন তা সংশোধনের অধিকার সংরক্ষণ করে।
এমকে
ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার
‘র্যাবের গুলিতে পা হারানো’ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক লিমন এখন যৌন হয়রানিতে অভিযুক্ত
ঢাকার অদূরে সাভার অবস্থিত গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক মো. লিমন হোসেনের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন নিজ বিভাগের একাধিক নারী শিক্ষার্থী। তাদের অভিযোগ, ক্লাসে বিভিন্ন অশালীন কথা বলা ও ফেসবুকে আপত্তিকর বার্তা পাঠাতেন বিভাগের প্রভাষক লিমন। এ অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের কাছে পৃথক লিখিত অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগী নারী শিক্ষার্থীরা।
এদিকে, ৮ মাস আগের ঘটনায় গত ২ ডিসেম্বর করা মামলায় পিকনিকের কথা বলে আশুলিয়ায় নিয়ে গিয়ে একই বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থীকে সংঘবদ্ধ ‘ধর্ষণ’ ও ভিডিও ধারণের মামলার পর আন্দোলনে রয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এরই মধ্যে বিভাগের প্রভাষক লিমনের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ আসার পর দুটি ঘটনায় সম্পৃক্ত থাকায় তিনিসহ বিভাগের আরেকজন শিক্ষককে ছুটিতে পাঠিয়ে একটি তদন্ত কমিটি করেছে প্রশাসন।
প্রসঙ্গত, লিমনকে ১৬ বছর বয়সে ২০১১ সালের ২৩ মার্চ ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার সাতুরিয়া গ্রামে কুখ্যাত অপরাধী বিবেচনা করে বাম পায়ে গুলি করে র্যাব—৮ এর কয়েকজন সদস্য। পরে লিমনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং সেদিনই তার বিরুদ্ধে আলাদা দুটি মামলা করে র্যাব। এর ৪ দিন পর লিমনের বাম পা কেটে ফেলতে হয়। বর্তমানে তিনি কৃত্রিম পা দিয়ে চলাফেরা করছেন।
সেই সময় রাষ্ট্রযন্ত্রের নিষ্ঠুরতার শিকার তরুণ লিমন পিজিএস কাউখালী কারিগরি বহুমুখী স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ২০১০ সালে এসএসসি এবং ২০১৩ সালে এইচএসসি পাস করেন। ২০১৭ সালে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে অনার্স এবং ২০১৯ সালে কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। ২০২০ সালে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে যোগদানে লিমনের একাডেমিক যোগ্যতা কম ছিল। তবে তিনি ‘মানবিক’ বিবেচনায় সেই সময় শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেছিলেন। শিক্ষক হিসেবে যোগদান করার পর থেকে বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের পরোক্ষ শক্তিতে নানা অনিয়ম করতে থাকেন গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে। সর্বশেষ গত ৪ ডিসেম্বর নিজ বিভাগে ধর্ষণে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের পক্ষে থানায় গিয়ে তোপের মুখে পড়েন তিনি।
ভুক্তভোগী নারী শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে করা লিখিত অভিযোগে বলা হয়, প্রভাষক লিমন হোসেন বিভিন্নভাবে তাদের যৌন হয়রানি করছেন। তিনি তার কেবিনে নারী শিক্ষার্থীদের ডেকে নিয়ে বিভিন্ন অশালীন মন্তব্য করতেন। অনেক সময় তাদের বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন অশালীন বার্তা পাঠাতেন। যেমন, তার স্ত্রী তাকে সুখী করতে পারে না, সে যৌনতার ক্ষেত্রে অনেক একাকীত্বতায় ভোগেন, এছাড়াও অনেক আপত্তিকর কথা, যা প্রকাশ করার মতো নয়।
এছাড়াও অপর একটি লিখিত অভিযোগ করা হয় আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে। পাঁচটি দফা উল্লেখ করা ওই অভিযোগে বলা হয়, শিক্ষক লিমন হোসেন ধর্ষণে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের সশরীরে থানায় গিয়ে ছাড়ানোর চেষ্টা করেছেন। অপরাধীকে বাঁচানোর চেষ্টাও অপরাধের শামিল।
এছাড়া ক্লাসে পড়ানোর ছলে তিনি শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত জীবনে জোরপূর্বক প্রবেশ করে শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত বিষয় সকলের সামনে উপস্থাপন করে শিক্ষার্থীদের হেয় করেন।
একজন শিক্ষক হিসেবে তার পড়ানোর পদ্ধতি কোনো ভাবেই গবেষণা কেন্দ্রিক নয় উল্টা তিনি গলাদ্ধকরণ পদ্ধতিতে বিশ্বাস করেন। যা শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল মেধাকে বিনষ্ট করেন।
তিনি স্বজনপ্রীতি নীতি ব্যবহার করে, ব্রিটিশ পদ্ধতি Divide and Rule policy প্রয়োগ এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি করেন যা পরবর্তীতে বড় অপরাধের জন্ম দেয়।
ক্যাম্পাসে বিগত দিনে ঘটে যাওয়া প্রায় সকল অপরাধের সাথে জড়িত চক্রের সাথে এমনকি সম্প্রতি বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীদের সাথেও প্রভাষক লিমন হোসেনের একান্ত সম্পর্কে বিদ্যমান এবং তাদের প্রকাশ্য মদদদাতা তিনিই যা শিক্ষার্থী মনে ক্রমশ ভীতি সঞ্চারণ করে যাচ্ছে।
এর আগে রবিবার (৭ ডিসেম্বর) ক্যাম্পাসের একটি মিলনায়তনে শিক্ষার্থীরা প্রভাষক লিমন হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিস্তারিত তুলে ধরে বক্তব্য দেন। সেখানে তারা দ্রুত লিমন হোসেনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের প্রতি দাবি জানান।
একাধিক শিক্ষার্থী জানান, উনি মানুষের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আগ্রহী। যা আমাদের বিব্রত করে। এমনকি নিজের ব্যক্তিগত জীবনের প্রেম-বিচ্ছেদের গল্পও বারবার বলে বিব্রত করতে থাকেন। কে কার সাথে মিশবে না মিশবে সে ব্যাপারেও তিনি বারবার হস্তক্ষেপ করেন।
এসব অভিযোগের বিষয়ে শিক্ষক লিমন হোসেন বলেন, এ ধরনের অভিযোগের বিষয়ে আমি অবগত নই। আমি এ ধরনের কোনো কথা বলি নাই। এ ধরনের অভিযোগ ভিত্তিহীন।
তিনি আরও বলেন, আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্যে আমার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ তোলা হয়েছে।
যৌন নিপীড়ন বিরোধী সেলের প্রধান ড. ওয়াহিদা জামান লস্কর বলেন, যৌন নিপীড়ন বিরোধী সেলের সভাপতির দায়িত্বের বিষয়ে প্রশাসন থেকে চিঠি প্রদান করা হয়েছে। তবে উপাচার্যের কাছে প্রদানকৃত অভিযোগ পত্রের বিষয়ে তিনি এখনো অবগত নন।
এদিকে ধর্ষণের ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে গণ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে সাত দিন সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। তদন্ত চলাকালে আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. রফিকুল আলম ও প্রভাষক লিমন হোসেনকে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। এই সময়ে তারা একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকবেন।
তদন্ত কমিটিতে ভেটেরিনারি এন্ড এনিমেল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. জহিরুল ইসলাম খানকে সভাপতি ও বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. আবু রায়হানকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।
জানা যায়, ২০১১ সালের ২৩ মার্চ বিকেলে বাড়ির কাছের মাঠে গরু আনতে গিয়ে র্যাবের গুলিতে পা হারায় লিমন। ওই সময় সে উচ্চ মাধ্যমিক প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিল। রাজাপুর উপজেলার শীর্ষ সন্ত্রাসী দুই সহোদর মিজান ও মোর্শেদকে ধরতে গিয়ে সোর্সের ভুল তথ্যের কারণে ১৬ বছরের কিশোর লিমনের পায়ে গুলি করে র্যাব। পরে চিকিৎসকরা তার একটি পা কেটে ফেলতে বাধ্য হন।
২০১১ সালের ২৩ মার্চ রাতেই লিমনসহ ৯ জনের নামে রাজাপুর থানায় দুটি মামলা দায়ের করেন র্যাবের ডিএডি লুৎফর রহমান। একটি অস্ত্র আইনে এবং অপরটি সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে। দুটি মামলার এক নম্বর আসামি ছিলেন লিমন। ২৪ মার্চ লিমনকে রাজাপুর হাসপাতাল থেকে নেওয়া হয় বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে। ২৫ মার্চ লিমনকে গ্রেপ্তার করে পাঠানো হয় ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে। সেখানে ২৭ মার্চ চিকিৎসকরা লিমনের বাম পা হাঁটু থেকে কেটে ফেলেন।
এমকে
ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার
ইবিতে অর্ডিন্যান্স লঙ্ঘন অভিযোগ: ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীরা
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় খামখেয়ালি সিদ্ধান্ত, ভুল ক্রেডিট বণ্টন এবং অর্ডিন্যান্স লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। এতে একাডেমিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন ২০১৯–২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (১০ ডিসেম্বর) বেলা ১২ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেস কর্ণারে এক সংবাদ সম্মেলনে মানোন্নয়ন পরীক্ষার জন্য আবেদনকারী ইংরেজি বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ১২ জন শিক্ষার্থীদের পক্ষে ৫ জন শিক্ষার্থী এ–সংক্রান্ত বিস্তারিত অভিযোগ তুলে ধরে দ্রুত সমস্যা সমাধানের দাবি জানান। এসময় উপস্থিত ছিলেন আব্দুর রহমান, বায়েজিদ বোস্তামী, নাহিদ আক্তার নোভা, মাহথির মোহাম্মদ চমন ও রবিউল ইসলাম।
তারা জানান, করোভাইরাস পরিস্থিতি এবং ‘জুলাই বিপ্লব’–পরবর্তী দীর্ঘ সেশনজটের সময়ে তারা বারবার জট নিরসনের দাবি জানালে তৎকালীন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মিয়া মো. রাশিদুজ্জামান জানান, প্রতিটি সেমিস্টারের মান উন্নয়ন পরীক্ষা নিতে সময় বেশি লাগায় সেশনজট কমানো সম্ভব হচ্ছে না।
এ কারণ দেখিয়ে তিনি ৩য় বর্ষ ১ম সেমিস্টার থেকে সব মান উন্নয়ন পরীক্ষা স্থগিত করে ঘোষণা দেন যে ৪র্থ বর্ষ শেষে একসঙ্গে সব সেমিস্টারের মান উন্নয়ন নেওয়া হবে। শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করা হয়— যে সব কোর্সে ৩.০০–এর নিচে নম্বর পাবে, সেসব কোর্সে পরবর্তীতে মান উন্নয়ন পরীক্ষার সুযোগ থাকবে; সেমিস্টারের গড় সিজিপিএ বিবেচ্য হবে না।
শিক্ষার্থীরা বলেন, ২০১৯–২০ শিক্ষাবর্ষের অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী— ধারা ১০.৬: প্রতি একাডেমিক ইয়ারে যেকোনো কোর্সে ৩.০০–এর নিচে গ্রেড পেলে সেমিস্টার শেষে ১৫ দিনের মধ্যে রিটেক দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ধারা ১৩.২: ৪র্থ বর্ষের চূড়ান্ত ফলাফলের পর যাদের যেকোনো কোর্সে গ্রেড ‘বি’–এর নিচে থাকবে, তারা অনিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে রিটেক দিতে পারবে।
অর্ডিন্যান্সে গড় সিজিপিএ ৩.০০-এর বেশি হলে মান উন্নয়ন দেওয়া যাবে না—এমন কোনো বিধান নেই। এসব নিয়ম অমান্য করে চেয়ারম্যান একক সিদ্ধান্তে শুধুমাত্র ‘ফেইল করা’ শিক্ষার্থীদের জন্য মান উন্নয়ন পরীক্ষা সীমিত করেন, যা বিভাগীয় প্রতিশ্রুতিভঙ্গ।
শিক্ষার্থীরা জানান, ২০১৯–২০ শিক্ষাবর্ষে বিভাগীয় অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী মোট ক্রেডিট হওয়ার কথা ছিল ১৩৬। কিন্তু তৎকালীন সভাপতি অধ্যাপক ড. সালমা সুলতানার ভুল ক্রেডিট বিতরণের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ১২৮ ক্রেডিট অনুযায়ী একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ৪র্থ বর্ষের চূড়ান্ত ফল প্রকাশের সময় ভুল ধরা পড়ে। তখন বিভাগ হঠাৎ করে ২০১৮–১৯ শিক্ষাবর্ষের পুরনো অর্ডিন্যান্স চাপিয়ে ফল প্রকাশ করে। অথচ শিক্ষার্থীরা সেই অর্ডিন্যান্সের অন্তর্ভুক্ত নন। এতে স্পষ্টতই অর্ডিন্যান্স লঙ্ঘন হয়েছে। ২০১৮–১৯ অর্ডিন্যান্স চাপিয়ে দিয়ে শুধু ‘ফেইল করা’ শিক্ষার্থীদের রিটেক ও মান উন্নয়ন অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, আর বাকি শিক্ষার্থীদের অধিকার ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষার্থীরা আরো বলেন, আমরা কোনো বেআইনি সুবিধা চাইনি। আমরা আমাদের ন্যায্য অধিকার—মান উন্নয়ন পরীক্ষার সুযোগ চেয়েছি। কিন্তু বিভাগের ধারাবাহিক ভুলের কারণে আমরা ভুক্তভুগী হয়েছি। প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে দৌড়ঝাঁপ করেও সমাধান পাইনি। অর্ডিন্যান্স লঙ্ঘন করে ফল প্রকাশ করে এবং প্রতিশ্রুতি ভেঙে আমাদের ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। শিক্ষকদের ভুলের দায় শিক্ষার্থীদের ওপর চাপানো অন্যায়। এই সপ্তাহের মধ্যেই মান উন্নয়ন পরীক্ষার অনুমতি দিতে হবে। অন্যথায় প্রমাণ হবে—ইংরেজি বিভাগ শিক্ষার্থী-বান্ধব নয়। যে বিভাগ শিক্ষার্থী-বান্ধব নয়, সে বিভাগ তার কার্যক্রম চালানোর নৈতিক যোগ্যতা রাখে না। এসময় দাবি না মানলে তারা পরবর্তী আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করবেন বলে জানান।
এবিষয়ে বিভাগের তৎকালীন সভাপতি অধ্যাপক ড. মিয়া মো. রাসিদুজ্জামান বলেন, এবিষয়ে আমি উপাচার্যের সাথে কথা বলেছি। আমি বিভাগের সকল কার্যক্রম থেকে বিরত আছি। আপাতত আমার কোন মন্তব্য নেই।
বিভাগের বর্তমান সভাপতি অধ্যাপক ড. শাহাদৎ হোসেন আজাদ বলেন, ২০ জন শিক্ষার্থী মান উন্নয়ন পরীক্ষার জন্য আবেদন করেছিল, আমরা একাডেমিক কমিটি থেকে তাদের নাম পাঠিয়েছিলাম। যাদের মধ্যে ৮ জন শিক্ষার্থী যাদের রিটেক ছিল তাদেরকে অনুমোদন দিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। বাকি ১২ জন পরবর্তীতে আবারো আবেদন করে। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে আবারো একাডেমিক কাউন্সিলের একটা মিটিং হয় এবং আমরা সেই ১২ জনের নাম কন্ট্রোলার অফিস পাঠাই। পরবর্তীতে উপাচার্য স্যার এটাকে আইনি প্রক্রিয়ায় সমাধানের আশ্বাস দেন। এখন বিষয়টি কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে।
অর্থসংবাদ/সাকিব/এসএম
ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার
বেগম রোকেয়াকে ‘মুরতাদ-কাফের’ আখ্যা দিলেন রাবি শিক্ষক
নারী আন্দোলনের অগ্রদূত বেগম রোকেয়াকে ‘মুরতাদ’ ও ‘কাফের’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক খন্দকার মুহাম্মদ মাহমুদুল হাসান।
মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) সকালে ফেসবুকে নিজের ব্যক্তিগত আইডিতে একটি পোস্ট শেয়ার করে ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন– ‘আজ মুরতাদ কাফির বেগম রোকেয়ার জন্মদিন।’ তার এ মন্তব্য ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সহযোগী অধ্যাপক খন্দকার মুহাম্মদ মাহমুদুল হাসান জানান, তিনি সাজিদ হাসান নামের একজনের পোস্ট শেয়ার করে ক্যাপশনে ওই কথাগুলো লিখেছেন। তার মতে, ‘ওই পোস্ট পড়ে মনে হয়েছে, বেগম রোকেয়া ইসলামবিদ্বেষী ছিলেন। সাজিদ হাসানের পোস্টের পুরো লেখাটা পড়লে বেগম রোকেয়ার সেই পরিচয় এসে যায়।’
কথাগুলো কেন লিখেছেন জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, এই পোস্টের লেখাগুলো ভেরিফিকেশনের জন্য বড় আলেমের কাছে যেতে হবে। আপনি বুঝবেন না। আলেমের কাছে গেলেই আপনি বুঝবেন, তিনি কাফের বা মুরতাদ ছিলেন কিনা।
বেগম রোকেয়ার আর কোনো লেখা পড়েছেন কিনা জিজ্ঞেস করলে তিনি দাবি করেন, তার লেখা উপন্যাস তিনি পড়েছেন।
সাজিদ হাসানের পোস্টে দেখা যায়, বেগম রোকেয়ার রচনাবলী থেকে খণ্ড খণ্ডভাবে ইসলাম সম্পর্কিত কথাগুলো তুলে ধরা হয়েছে।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে রাবি উপাচার্য প্রফেসর ড. সালেহ হাসান নকীব বলেন, এটা তার ব্যক্তিগত অভিমত। এটা অনেকের ভালো লাগবে না। এটা আমি ব্যক্তিগতভাবে এন্ডোর্স (সমর্থন) করি না।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই বিষয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
তারা বলছেন, বেগম রোকেয়া ছিলেন উপমহাদেশের নারীশিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধের অন্যতম পথিকৃৎ। তিনি কখনোই ধর্মবিদ্বেষী ছিলেন না বরং কুসংস্কার, বৈষম্য ও অজ্ঞতার বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন।
এমকে
ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার
ঢাবির চারুকলা ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ৮৯ শতাংশই ফেল
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের আন্ডারগ্র্যাজুয়েট ভর্তি প্রোগ্রামের চারুকলা ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। এই পরীক্ষায় পাসের হার ১১ দশমিক ২৫ শতাংশ। ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ৮৮ দশমিক ৭৫ শতাংশই অকৃতকার্য হয়েছেন।
মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যার পর ভর্তি ওয়েবসাইটে এ ফলাফল পাওয়া যাবে বলে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে।
সূত্রমতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির ওয়েবসাইটে (https://admission.eis.du.ac.bd/) এই ফল প্রকাশিত হবে। ফলপ্রত্যাশী শিক্ষার্থীরা ওয়েবসাইটে লগইন করে অথবা প্রবেশপত্রের নির্দেশনা অনুযায়ী মুঠোফোনে ক্ষুদেবার্তার মাধ্যমে নিজ নিজ ফলাফল দেখতে পারবেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চারুকলা অনুষদের ৮টি বিভাগে ১৩০টি আসনের বিপরীতে ৬ হাজার ৫২১ জন শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষার জন্য আবেদন করেছেন। এরমধ্যে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন ৫ হাজার ৩৫২ জন শিক্ষার্থী।
প্রকাশিত ফলে দেখা গেছে, মাত্র ৬০২ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন। আর অকৃতকার্য হয়েছেন ৪ হাজার ৭৫০ জন শিক্ষার্থী। উত্তীর্ণ হওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্র ১৫৪ জন এবং ছাত্রী ৪৫৭ জন।
এমকে




