ক্যাটাগরি: প্রবাস

ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী এক্সচেঞ্জের প্রতারণা, রোমে প্রবাসীদের বাংলাদেশ দূতাবাস ঘেরাও

ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসির আওতাধীন ইতালিভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী এক্সচেঞ্জের (এসআরএল) বিরুদ্ধে প্রতারণা মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। প্রায় দুই হাজার বাংলাদেশি প্রবাসীর পাঠানো প্রায় ৮ লাখ ইউরো আটকে রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি। এ ঘটনায় সম্প্রতি রোমস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস ঘেরাও ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে ইতালির বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা এজেন্ট ও ভুক্তভোগী বাংলাদেশিরা।

জানা গেছে, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসির শতভাগ মালিকানাধীন ইতালিভিত্তিক ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী এক্সচেঞ্জ (এস.আর.এল) প্রায় দুই হাজার প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো প্রায় ৮ লাখ ইউরো (প্রায় ১২ কোটি টাকার সমান) আটকে রেখেছে। চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি থেকে প্রতিষ্ঠানটি প্রবাসীদের এসব পাঠানো বৈধ রেমিট্যান্সের টাকা হস্তান্তর করছে না। এরই মধ্যে গত মার্চ মাসে প্রবাসীদের টাকার কোন সমাধান না করে বন্ধ করে দেয়া হয় রোমে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয়। হঠাৎ করেই এমন কর্মকাণ্ডে বিপাকে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটির এজেন্টগুলো।

এছাড়া, ভুক্তভোগী বাংলাদেশিরা সমস্যা সমাধানে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেন। দফায় দফায় রোম দূতাবাস ও মিলান কনস্যুলেট অফিসে লিখিত অভিযোগ জানিয়েও কোন লাভ হয়নি। এক পর্যায় লাগাতার দূতাবাস ঘেরাও কর্মসূচির ঘোষণা করেন ভুক্তভোগীরা।

ভুক্তভোগী প্রবাসীরা জানান, ইতোমধ্যে রোম ও মিলানোর বাংলাদেশ দূতাবাস, বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস, নন রেসিডেন্স গ্লোবাল রেমিটেন্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ইকরাম ফরাজি, অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর এবং ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নানের কাছে লিখিত অভিযোগ পাঠিয়েও কোন সুরাহা পাননি।

তাদের দাবি, এই অর্থ প্রবাসীদের কঠোর পরিশ্রমের ফসল এবং তা দ্রুত গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেওয়া হোক। তারা দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, বৈধ পথে টাকা পাঠিয়েও যদি প্রবাসীরা নিরাপত্তাহীনতায় থাকে তাহলে বৈধ পথে টাকা পাঠিয়ে নিরাপত্তা কোথায়? অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর ব্যাংকের বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান এবং নতুন কর্মকর্তাদের অধীনে এই আত্মসাতের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী প্রবাসীরা।

প্রবাসী বাংলাদেশিরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সমাধান না পেলে তারা অনির্দিষ্টকালের জন্য দূতাবাস ঘেরাও, বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানো বন্ধসহ আরও কঠোর কর্মসূচি পালন করবেন। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে দেশের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং প্রবাসীরা বৈধ চ্যানেলে টাকা পাঠিয়ে এমন হয়রানির স্বীকার হলে বৈধ পথে টাকা পাঠানোর উৎসাহ হারিয়ে ফেলবে, ফলে হুন্ডির মতো অবৈধ চ্যানেল সক্রিয় হবে।

কাফি

শেয়ার করুন:-
শেয়ার