কেজরিওয়ালের দিল্লিতে বিজেপির ভরাডুবি, কংগ্রেস শূন্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশ: ২০২০-০২-১১ ১৬:৫২:৫৭

দিল্লিতে টানা দ্বিতীয়বার নির্বাচনে একটি আসনও অর্জন করতে পারল না কংগ্রেস। অথচ এক সময় ভারতের রাজধানী শহরটিই কংগ্রেসের অন্যতম ভিত ছিল।

১৯৯৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত শিলা দীক্ষিতের নেতৃত্বে তিন মেয়াদে দিল্লি রাজত্ব করে দেশটির সবচেয়ে পুরোনো রাজনৈতিক দলটি।

ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে মহাত্মা গান্ধী-জওহরলাল নেহরুর হাত দিয়ে গড়ে ওঠা কংগ্রেস এবারের বিধানসভা নির্বাচনে উড়ে গেল খড়কুটোর মতো। গতবারের মতো এবারও একটি আসনও পেল না দলটি।

বুথ ফেরত জরিপকে সত্যি করে দিয়ে আবারও দিল্লি জয় করল অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টি। ৭০ আসনের মধ্যে ৫৭ আসন জিতে নিয়েছে তারা।

আম আদমির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির ভরাডুবি হয়েছে এবারও। যদিও গতবারের চেয়ে এবার ১০টি আসন বেশি পেয়েছে কেন্দ্রীয় শাসিত দলটি।

এনডিটিভি জানায়, এবার দিল্লি নির্বাচনে কোনো বিশেষ ভূমিকা পালন করতে পারেনি কংগ্রেস। একমাত্র বিজেপি ও আম আদমির মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সামান্য কিছু উত্তেজনা তৈরি করা ছাড়া কোনো দিক থেকেই মানুষের নজর কাড়তে পারেনি তারা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও কংগ্রেসকে নিয়ে নানা মশকরা-রসিকতার ছড়াছড়ি।

শীর্ষ পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে দেরি করা, কৌশলের ঘাটতি, অনৈক্য সেই সঙ্গে মাঠকর্মীদের মধ্যে নিষ্ঠার অভাবকেই নির্বাচনে ভরাডুবির জন্য দায়ী করেছেন কংগ্রেস নেত্রী শর্মিষ্ঠা মুখোপাধ্যায়।

দিল্লিতে কংগ্রেসের জনপ্রিয়তা যেভাবে মুখ থুবড়ে পড়েছে তাতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দলটির নেতারা। তাদের মতে, রাজধানীর রাজনীতিতে শীলা দীক্ষিতের মতো ডাকসাইটের নেত্রীর অভাব দেখা দেয়া দিয়েছে। গত বছর প্রয়াত হন সাবেক কংগ্রেস মুখ্যমন্ত্রী শীলা দীক্ষিত।

কংগ্রেস নেতা অভিষেক মনু সিংভি বলেন, ‘এখানে আমরা শীলা দীক্ষিতের অভাব খুব বেশি করে বোধ করছি, আমরা একজন অভিজ্ঞ নেত্রীকে হারিয়েছি এবং তারপরে আর আমরা অন্য কাউকে তেমনভাবে নেতা হিসেবে এখানে পাইনি।’

তবে তিনি আরও বলেন, ‘বিজেপি যে জিততে পারছে না এখানে তাতে আমি খুশি। আম আদমির জয় আমার কাছে তুলনামূলকভাবে কম হতাশার। তারা অন্তত দিল্লির শিক্ষাক্ষেত্রে কিছু ভালো কাজ করেছে।’

আরেক নেতা সঞ্জয় ঝাঁ জাতীয় পর্যায়ে নেতৃত্বের সংকট এবং দলীয় প্রধানের পদ থেকে রাহুল গান্ধীর সরে যাওয়াকেও কংগ্রেসের খারাপ ফলের কারণ হিসেবে দেখছেন।

তিনি বলেন, ‘এটা সত্যি যে আমরা এখনো আমাদের নেতৃত্বের বিষয়টির সমাধান করতে পারিনি, এই ঘটনা দলের সদস্যদের হতাশায় ফেলেছে। আমরা কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে দলকে হতাশ করছি। কংগ্রেসের পক্ষে ফিরে আসার এর চেয়ে ভালো সময় আর হতে পারে না।’

আমরা সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।