কুষ্টিয়া শহর থেকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগামী শিক্ষার্থী বহনকারী ভাড়াকৃত সুহাইল নামের একটি বাস বাস মাঝপথে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিত্তিপাড়ায় উল্টে যায়। এসময় আনুমানিক ১৩ থেকে ১৫ জন শিক্ষার্থী আহত হলেও হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের শিক্ষার্থী সাগর ও সমাজ কল্যাণ বিভাগের শিক্ষার্থী সালেকীন ইমাম গুরুতর আহত হন। এর মধ্য সাগরকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মোট ১১জন শিক্ষার্থী হাসপাতালে ভর্তি ছিলো। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত দুইজন গুরুতর আহত শিক্ষার্থী হসপিটালাইজ আর বাকীদের রিলিজ দেয়া হয়েছে। আর ঢাকায় পাঠানো শিক্ষার্থীর জ্ঞান ফিরেছে ও ঢাকা মেডিকেলে সাগরকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সাগরের অবস্থা পূর্বের থেকে কিছুটা ভালো। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যও তাকে দেখতে যাবেন বলে জানা গেছে।
এসময় সমাজকল্যাণ বিভাগের ২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সালেকীন ইমাম বলেন, ১০ টার বাসে ক্যাম্পাসে যাচ্ছিলাম হঠাৎ ড্রাইভার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে এবং বাম পাশ থেকে ডানপাশে খালের মধ্যে গাড়ি পড়ে যায়। আমি সবার সামনে ছিলাম, মনে হলো মৃত্যুকে কাছ থেকে দেখলাম। গাড়ি পড়ে যাওয়ার পরে প্রথমে কিছু বুঝতে পারিনি। পরে আমার ডান হাত দেখি রক্তে ভিজে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন আমাদের প্রাথমিক চিকিৎসার খরচ এবং উন্নত চিকিৎসার আশ্বাস দিয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দাবি করে তিনি বলেন, আমরা যে ২২ কিলোমিটার পথ কুষ্টিয়া বা ঝিনাইদহ থেকে যাতায়াত করি, এখানে যেন কোন ফিটনেসবিহীন গাড়ি ব্যবহার না করা হয় এবং গাড়ির ড্রাইভার যেন সঠিকভাবে গাড়ি চালায়। পরবর্তীতে যেন এরকম পরিস্থিতিতে আর কাউকে পড়তে না হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর শাহিনুজ্জামান স্যার বলেন, আহত শিক্ষার্থীদের মধ্যে একজন রিলিজ নিয়ে চলে গেছে আরেকজনকে আমরা চিকিৎসার জন্য ঢাকাতে পাঠিয়েছি। ডাক্তাররা তাকে সাজেস্ট করেছে নিউরোসায়েন্স অথবা ডিএমসিতে যাওয়ার জন্য। যতটা ক্রিটিকাল মনে করেছিলাম আল্লাহর রহমতে ঢাকায় পৌঁছানোর এক ঘন্টা আগেই তার জ্ঞান ফিরেছে। সে সবাইকে চিনতে পারছে এবং কথা বলছে। এখানে বর্তমানে যে পেসেন্ট গুলো আছে তারা মোটামুটি স্বাভাবিক আছে। এরমধ্যে পাঁচজনকে সিটিস্ক্যান করা হয়েছে এবং তাদের তিনজনের রিপোর্ট ভালো আর বাকি দুই জনের রিপোর্ট এখনো আসেনি। আর কয়েকজন আছে বিভিন্ন ধরনের ইনজুর যাদের কেটে গেছে, কারো কাচ ঢুকে গেছে, এদেরকে ওটিতে নিয়ে ড্রেসিং করে সেলাই দেয়া হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে বলা হয়েছে আমাদের শিক্ষার্থীদের সুচিকিৎসার জন্য যা যা করা দরকার তা যেন তারা করে।
অর্থসংবাদ/সাকিব/এসএম