কর্মরত জনগোষ্ঠীর ৫০ শতাংশকে পুনঃদক্ষ করতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২০-১১-২২ ১০:০৫:৫১, আপডেট: ২০২০-১১-২২ ১৫:০৭:০৭

কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা না গেলে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে টেকসই করতে সম্ভব নয়। এজন্য ২০২৫ সালের মধ্যে কর্মরত মোট জনগোষ্ঠীর ৫০ শতাংশকে পুনরায় দক্ষ করে তুলতে হবে।
শনিবার (২১ নভেম্বর) ঢাকা চেম্বার আয়োজিত ‘নতুন কর্মসংস্থান এবং দক্ষতা, প্রেক্ষিত ভবিষ্যৎ ব্যবসা-বাণিজ্য’ শীর্ষক অনলাইন কর্মশালায় তিনি এ কথা বলেন।

পাশাপাশি প্রবাসী শ্রমিকের দক্ষতা বাড়ানোসহ বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো, তথ্যপ্রযুক্তিখাতের অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রয়োজনীয় নীতিমালার সংষ্কার, দেশের কারিগরি শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়ন, দক্ষতা উন্নয়নে সরকারি প্রণোদনা দেওয়া এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এতে ঢাকা চেম্বারের ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি এন কে এ মবিনের সভাপতিত্বে ওয়েবিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ-এর সিনিয়র সচিব মো. আসাদুল ইসলাম।
এছাড়া এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান (সচিব) দুলাল কৃষ্ণ সাহা, বাংলাদেশে ইউএনডিপি-এর আবাসিক প্রতিনিধি সুদীপ্ত মুখার্জী, ইউনিডো-এর আবাসিক প্রতিনিধি জাকি উজ জামান এবং বাংলাদেশস্থ আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)-এর আবাসিক প্রতিনিধি তুমো পুটিয়ানেন প্রমুখ।

ডিসিসিআই সভাপতি শামস মাহমুদ বলেন, ‘জনসংখ্যার আধিক্য থাকলেও বাংলাদেশের শিল্প খাতে দক্ষ লোকবলের প্রচুর অভাব রয়েছে এবং আমাদের তরুণ জনগোষ্ঠীর প্রায় ১২ দশমিক ৩ শতাংশ বেকার।বিশ্বব্যাংকের হিসাব মতে প্রয়োজনীয় দক্ষতার অভাবে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষা কার্যক্রম শেষ করার পর প্রায় ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থী বেকারত্ব সমস্যায় ভুগছেন। ২০২৫ সালের মধ্যে আমাদের কর্মরত মোট জনগোষ্ঠীর ৫০ শতাংশকে পুনঃদক্ষ করে তুলতে হবে।’

তিনি আর ও জানান, ‘বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা ও প্রযুক্তির উদ্ভাবনের ফলে দক্ষতা ও বৈশ্বিক শ্রমবাজারের গতি-প্রকৃতি প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। এ অবস্থার আলোকে প্রথাগত দক্ষতার পাশাপাশি নতুন পরিস্থিতি ও বাজার ব্যবস্থাপনা চাহিদার ভিত্তিতে দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে বাংলাদেশকে এখনই কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়নে জোর দিতে হবে। শিল্প খাতের প্রয়োজন অনুযায়ী দেশের শিক্ষা কারিকুলাম যুগোপযোগী করতে হবে এবং এ লক্ষ্যে শিল্প ও শিক্ষা খাতের সমন্বয় আরও বাড়াতে হবে।’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আসাদুল ইসলাম বলেন, করোনা পরিস্থিতি মোকবিলায় প্রথম থেকেই যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি সরকার স্থানীয় উদ্যোক্তাদের জন্য প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এর ফলে আমাদের অর্থনৈতিক কার্যক্রম স্থিতিশীলতার সঙ্গে অগ্রসরমান হচ্ছে। করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের নীতি সহায়তা দেওয়া নিয়ে নতুন আঙ্গিকে ভাবতে হবে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন। বৈশ্বিক প্রযুক্তি বিপ্লবকে মেনে নিয়ে, এটির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিতকরণে সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণে সরকার ও বেসরকারিখাতকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)-এর আবাসিক প্রতিনিধি তুমো পুটিয়ানেন বলেন, নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি, শ্রমবাজারের নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং ভবিষ্যতের প্রয়োজনের নিরিখে শ্রমখাতের আধুনিকায়ন অত্যন্ত জরুরি। তিনি সরকার ও বেসরকারিখাতের সমন্বয় বাড়ানোর এবং বিশেষ করে বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষাব্যবস্থার যুগোপযোগীকরণের ওপর জোর দেন। এছাড়া তিনি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দেশের বেসরকারিখাতে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়নের আহ্বান জানান।

ওয়েবিনারে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন পলিসি এক্সচেঞ্জ-এর চেয়ারম্যান ড. এম মাশরুর রিয়াজ।

মাশরুর রিয়াজ জানান, করোনা মহামারির কারণে আঙ্কটাড-এর হিসেব মতে, ২০২০ বৈশ্বিক বৈদেশিক বিনিয়োগ প্রায় ৪০ শতাংশ কমে যাবে এবং বৈশ্বিক এসএমই উদ্যোক্তাদের প্রায় ৫০ শতাংশদের অস্তিত্ব রক্ষা হুমকির মুখে পড়বে, যা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়।বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠীর জন্য প্রতিবছর ২ দশমিক ২ মিলিয়ন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে হয়, যা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং একটি বিষয়।

ওয়েবিনারের নির্ধারিত আলোচনায় গ্রামীণফোন লিমিটেড-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াসির আজমান, এ্যাঙ্করলেস বাংলাদেশ-এর প্রতিষ্ঠাতা সহযোগী ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাহাত আহামদ এবং জেনারেশন আনলিমিটেড, ইউনিসেফ বাংলাদেশ-এর প্রোগ্রাম ম্যানেজার ম্যারিয়্যান ওহলার্স উপস্থিত ছিলেন ।

অর্থসংবাদ/এ এইচ আর ১০:০৫/ ১১:২২: ২০২০

 

আমরা সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।