সব সেক্টরকে ছাড়িয়ে যাবে ই-কমার্স

‍মো. সুলাইমান প্রকাশ: ২০২০-১১-২১ ১৮:১২:৫০, আপডেট: ২০২০-১১-২১ ১৮:১৫:১৮

তরুণ উদ্যোক্তাদের হাত ধরে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে অনেকটাই এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।পাশাপাশি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের ফলে বিগত কয়েক বছরে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন খাতে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে দেশের অর্থনীতির সমৃদ্ধি, বিকাশ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এটা ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

এক্ষেত্রে ই-কমার্স বাংলাদেশে নতুন হলেও এর সম্ভাবনা অনেক বেশি। কারণ ক্রেতারা দিন দিন ই-কমার্সে আগ্রহী হয়ে উঠছে। ফলে খুব দ্রুত এর বিস্তার ঘটছে শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত।

এ বিষয়ে ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) সাধারন সম্পাদক মোহাম্মাদ আব্দুল ওয়াহেদ তমাল অর্থসংবাদকে বলেন,ই-কমার্সের মাধ্যমে আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে আরও পাঁচ লাখ মানুষের নতুন কর্মসংস্থান তৈরী হবে।সব সেক্টরকে ছাড়িয়ে এগিয়ে যাবে ই-কমার্স । এ খাতের পলিসি হয়ে গেলে দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখবে। তবে ই-কমার্সের নামে কিছু প্রতারনার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে, নীতিমালা হয়ে গেলে এ সমস্যার সমাধান হবে। সরকার পলিসি গঠনে কাজ করছে।

ই-কমার্স একটি বাণিজ্য ক্ষেত্র যেখানে কোন ইলেকট্রনিক সিস্টেম এর মাধ্যমে পণ্য বা সেবা ক্রয়-বিক্রয় হয়ে থাকে। এটি ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব এর মাধ্যমে বাণিজ্য কাজ পরিচালনা করে থাকে।

ঘরে বসে প্রযুক্তি ব্যাবহার করে পণ্য কেনার মজাই আলাদা। বর্তমানে সরাসরি বাজারে না গিয়েই মানুষ অনলাইন মার্কেট থেকে পণ্য কিনছে। বর্তমানে মানুষের চাহিদার পরিবর্তনরে পাশাপাশি পরিবর্তন ঘটেছে বাজার চাহিদারও। বাংলাদেশে যদিও এই অনলাইন থেকে পণ্য ক্রয় করার বিষয়টি এখনও সচল হয়নি। তবে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই পুরোপুরি সচল হবে। বাংলাদেশে বেশ কিছু ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান আছে, যারা এই সেবা চালু করেছে।

বাংলাদেশে থেকে শীর্ষ ১০ অনলাইন শপ রয়েছে। যেখান থেকে ঘরে বসে খুব সহযেই কেনাকাটা করা সম্ভব।

দেশের সেরা ই-কমার্সগুলোর মধ্য রয়েছে- Evaly.com.bd ( ই-ভ্যালি ডটকম ) , Daraz.com.bd (দারাজ ডটকম.বিডি), Rokomari.com ( রকমারি ডটকম ), Ajkerdeal.com ( আজকেরডিল ), Bagdoom.com ( বাগডুম ডটকম ), Pickaboo.com ( পিকাবু ডটকম ), KhaasFood ( খাসফুড ডটকম ), Othoba.com  ( অথবা ডটকম ), PriyoShop.com (প্রিয়শপ ডটকম) এবং Chaldal.com ( চালডাল ডটকম)।

তবে ই-কমার্সের সংগঠন ই-ক্যাবের তথ্যমতে, বাংলাদেশে ই-কমার্স বাড়ছে খুবই দ্রুত গতিতে। তিন বছর ধরে এ খাতের প্রবৃদ্ধি প্রায় ১০০ শতাংশ। অর্থাৎ প্রতি বছর প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে এ খাত। বাংলাদেশে ই-কমার্সের এক নম্বর জায়গাটি চীনের আলিবাবার দখলে। বাংলাদেশ নিয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান আমাজনও।

বাংলাদেশে ই-কমার্সের ক্রেতারা মূলত শহরকেন্দ্রিক। তার মধ্যে ৮০ শতাংশ ক্রেতা ঢাকা, গাজীপুর ও চট্টগ্রামের এবং তাদের মধ্যে ৩৫ শতাংশ ঢাকার, ৩৯ শতাংশ চট্টগ্রামের এবং ১৫ শতাংশ গাজীপুরের অধিবাসী। অন্য দুটি শহর হলো ঢাকার অদূরে নারায়ণগঞ্জ এবং আরেকটি মেট্রোপলিটান শহর সিলেট। ৭৫ শতাংশ ই-কমার্স ব্যবহারকারীর বয়স ১৮ থেকে ৩৪-এর মধ্যে।

বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৫০ হাজার উদ্যোক্তা ফেসবুক পেজে ব্যবসা করছেন। তাদের মধ্যে ২০ হাজারের বেশি উদ্যোক্তা সক্রিয়। সর্বশেষ তথ্যমতে, ২০১৯ সালে বাংলাদেশের ই-কমার্সের বাজার দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৬৪৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা চলতি বছর বেড়ে দুই হাজার ৭৭ মিলিয়ন ডলার হবে এবং আগামী ২০২৩ সালে বাজারের আকার হবে তিন হাজার ৭৭ মিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশে এই মুহূর্তে প্রায় সাত হাজার ৫০০ প্রতিষ্ঠান প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ই-কমার্সের সঙ্গে যুক্ত।

 

আমরা সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।