স্বস্তি মিলছে না নিত্যপণ্যের বাজারে

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২০-১১-১৫ ১৯:০৪:৩৬

দিন দিন নিত্যপণ্যের দাম চলে যাচ্ছে ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। একবার বাড়লে তা আগের দামে নেমে আসার লক্ষণ দেখা যায় না। দাম কমাতে সরকারের কোনও উদ্যোগও কাজে আসছে না। সরকারের যাবতীয় অনুরোধ ও নির্দেশনা গায়েই মাখছেন না ব্যবসায়ীরা।

কোনও কারণ ছাড়াই মাস দুয়েক আগে বেড়েছিল চালের দাম।এখনও আগের দামেই আটকে আছে। অথচ দেশে চালের দাম বাড়ার কারণ নেই, এমনটাই মনে করেন সরকার সংশ্লিষ্টরা। সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের পরও কমেনি চালের দাম। কাজে আসেনি খাদ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি। সরকার দাম নির্ধারণ করে দিলেও সেটা কেউ পাত্তা দিচ্ছে না।

পর্যাপ্ত সরবরাহ ও মজুত থাকার পরও ৫০ টাকা থেকে কমেনি আলুর দাম। দাম কেন কমছে না জানতে চাইলে বিক্রেতারা বলছেন এখন যে আলু বিক্রি হচ্ছে সেগুলো রাজশাহীর। মুন্সীগঞ্জের পচা, ফাটা, নষ্ট আলুর কেজি ৪৫ টাকা। রাজশাহী আর মুন্সীগঞ্জের আলুর পার্থক্য কী—এমন প্রশ্নের উত্তর নেই বিক্রেতার কাছে। বাজার সহনীয় করতে আলুর দামও বেঁধে দিয়েছিল সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ। তার সামান্য প্রতিফলনও নেই বাজারে। সরকার নির্ধারিত দর বাস্তবায়নে মোবাইলকোর্ট পরিচালনা করেও ফল পাওয়া যায়নি।

কোল্ড স্টোরেজের মজুত করা আলু বাজারে ছাড়ার উদ্যোগ নিলেও বলা হচ্ছে এগুলো বীজ আলু। অথচ বাজারে নতুন আলু উঠতে শুরু করেছে। কোল্ড স্টোরেজের অভিযান ঠেকাতে বীজ আলুর সঙ্কট হবে এমন গুজব ছড়ানো হচ্ছে।

নানা ধরনের নাটকের পরও স্বাভাবিক হয়নি পেঁয়াজের বাজার। নতুন পেঁয়াজ উঠতে এখনও কিছু সময় বাকি। তবে পাতার সঙ্গে গোড়ার পেঁয়াজ বাজারে উঠতে শুরু করলেও দাম নাগালের বাইরে। দেশি বিদেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে বিক্রেতাদের মনগড়া দামে। এখানেও সরকার নিয়ে মাথাব্যথা নেই বিক্রেতাদের।

লিটারপ্রতি ভোজ্যতেলের দাম ৫ টাকা বাড়লেও কারণ জানে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। মাস তিনেক আগে শুরু হওয়া ভোজ্যতেলের বাজারের এই অস্থিরতা এখনও চলছে। ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর বিষয়টি বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের অনুমোদনের প্রয়োজন থাকলেও ট্যারিফ কমিশন বিষয়টি জানে না বলে জানিয়েছেন সেখানকার কর্মকর্তারা।

নভেম্বরের মাঝামাঝি বাজারে ওঠে সব ধরনের শীতকালীন শাকসবজি। কিন্তু এসবের দামও আকাশছোঁয়া। তিন থেকে চার পাতাওয়ালা ১০-১২টি পালং শাকের গাছ নিয়ে বাঁধা আঁটির দাম ৩০ টাকা। তিন আঁটি শাক দিয়ে চার জনের পরিবারের দু’বেলা খাওয়াই কষ্টসাধ্য। যার দাম ৯০ টাকা। একই অবস্থা অন্য সবজিতেও। করলার কেজি ৯০ টাকা। মুলা ৬০ টাকা। নতুন আলু কোথাও কোথাও ১৬০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। চার ফুলওয়ালা ফুলকপির পিস ৫০ টাকা।

এই সময়ে বাজারে উঠতে শুরু করেছে নানা প্রজাতির মাছ। চাষের মাছের পাশাপাশি দেশি প্রজাতির এসব মাছে বাজার সয়লাব। তারপরও দাম সাধ্যের বাইরে। বিক্রেতাদের বক্তব্য হচ্ছে বাজার চড়া। কেন চড়া? জবাব নেই।

একইভাবে আটা, রসুন, আদা, মাংস, ডিমেরও দাম বেড়েছে। এসব পণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণ জানতে চাইলে সরকার সংশ্লিষ্টরা বিব্রত হন এবং বিরক্তিও প্রকাশ করেন।

রাষ্ট্রায়ত্ত একটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মধ্যম সারির কর্মকর্তা মোখলেসুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আয় বাড়েনি চার পয়সাও। দাম বেড়েছে সব পণ্যের। এসব দেখার কেউ নাই। এগুলো এখন আমাদের গা সয়ে গেছে। সামর্থ্য থাকলে কিনি, না থাকলে কিনি না। আর কী করার আছে?

জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, বাজারে এখন আর তেমন অস্থিরতা নাই। সব ধরনের পণ্যেরই পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। ক্রমশ নিত্যপণ্যের বাজার স্বাভাবিক হচ্ছে। বাজার সরকারের নজরদারিতে রয়েছে। নিয়মিত মনিটরিংও চলছে। বাজার নিয়ে কেউ অস্থিরতা সৃষ্টি করলে সরকার কঠোর অবস্থানে যাবেন বলে জানান তিনি।

চাল ব্যবসায়ী নিজাম উদ্দিন জানিয়েছেন, আমরা ব্যবসায়ী হলেও সব পণ্যই তো কিনতে হয়। বাজার দরেই কিনি। বাজার অস্থির হলে কী করবো? আমাদেরকে বাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হয়। আমাদের তালে তো বাজার চলে না।

অর্থসংবাদ/এসএ

 

আমরা সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।