প্রতিবছর আয়কর রিটার্ন দাখিল করে ৩৬ হাজার কোম্পানি

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২০-১১-১৪ ২১:১৭:৫৭

যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মগুলোর পরিদপ্তরে (আরজেএসসি) নিবন্ধিত কোম্পানির সংখ্যা ১ লাখ ৭৬ হাজার, যার মধ্যে কর শনাক্তকরণ নম্বর বা টিআইএন–ধারী কোম্পানির সংখ্যা ৭০ থেকে ৭৫ হাজার। এর মধ্যে মাত্র ৩৬ হাজার কোম্পানি প্রতিবছর আয়কর রিটার্ন দাখিল করে।

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) আয়োজনে আজ শনিবার ‘অর্থ আইন ২০২০ এবং মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন ২০১২’ শীর্ষক অনলাইনভিত্তিক কর্মশালায় অংশ নিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআরের) সদস্য আলমগীর হোসেন এমন তথ্য দিলেন। নিবন্ধিত সব প্রতিষ্ঠানকে রিটার্ন দাখিলের আহ্বান জানান তিনি।

কর্মশালায় অংশ নেওয়া ব্যবসায়ী নেতারা করোনাকালে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) টিকিয়ে রাখতে মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাটের প্রক্রিয়া সহজ করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ছোট ব্যবসায়ীদের বাজারে প্রবেশে সুযোগ করে দেওয়ার জন্য কাঁচামাল আমদানিতে অগ্রিম কর হ্রাসের প্রস্তাব করেন তাঁরা। ঢাকা চেম্বারের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।

ব্যবসায়ী নেতারা করোনাকালে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) টিকিয়ে রাখতে মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাটের প্রক্রিয়া সহজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ছোট ব্যবসায়ীদের বাজারে প্রবেশে সুযোগ করে দেওয়ার জন্য কাঁচামাল আমদানিতে অগ্রিম কর হ্রাসের প্রস্তাব করেন তাঁরা।

স্বাগত বক্তব্যে ডিসিসিআই সভাপতি শামস মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশকে উন্নত অর্থনীতির দেশে পরিণত করতে কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। এ জন্য করের আওতা বৃদ্ধি, সম্পূর্ণ অনলাইনে আয়কর ও ভ্যাট রিটার্ন জমা এবং রিফান্ড পদ্ধতি সহজীকরণ করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, করোনায় ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষতি সত্ত্বেও ব্যবসায়ীরা কর ও ভ্যাট দিয়ে যাচ্ছেন।

আগামী বছর অনলাইনে ভ্যাট ও ট্যাক্স রিটার্ন জমা দেওয়া চালু করা সম্ভব হবে বলে মন্তব্য করেন এনবিআরের সদস্য আলমগীর হোসেন। তিনি বলেন, বছরের বিভিন্ন সময় এসআরও জারির মাধ্যমে করহার হ্রাস-বৃদ্ধির ফলে ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় বিঘ্ন ঘটে। এ অবস্থার উত্তরণে দীর্ঘ মেয়াদে কর নীতিমালা প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়নে কাজ চলছে।

এনবিআরের আরেক সদস্য মাসুদ সাদিক বলেন, ব্যবসায়ী সমাজ ভ্যাট প্রদান ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড পরিচালনার প্রক্রিয়া সহজ করার দাবি জানিয়ে আসছে। এনবিআরের তরফ থেকে এ ব্যাপারে সর্বাত্মক সহযোগিতা নিশ্চিত করা হবে। তিনি জানান, ভ্যাট রিফান্ড প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে অনেক ক্ষেত্রেই বিলম্ব হচ্ছে। এ প্রক্রিয়া দ্রুততর করার চেষ্টা চলছে। মাসুদ সাদিক আরও বলেন, ভ্যাট অনলাইন প্রকল্পের মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা আরও ছয় মাস বাড়ানো হয়েছে। এ প্রক্রিয়া বাস্তবায়িত হলে ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি সবারই ভোগান্তি লাঘব হবে।

কর্মশালায় আরও বক্তব্য দেন ডিসিসিআই সহসভাপতি এন কে এ মবিন, ট্যাক্স কনসালট্যান্ট স্নেহাশীষ বড়ুয়া প্রমুখ।

 

আমরা সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।