১ কোটি ডলার চুরি দায়ে প্রকৌশলীর ৯ বছরের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২০-১১-১৪ ১০:২০:৪১, আপডেট: ২০২০-১১-১৪ ১০:২২:০১

সিয়াটলের জেলা আদালত বৈশ্বিক সফটওয়্যার জায়ান্ট মাইক্রোসফটের সাবেক এক প্রকৌশলীর ৯ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটি থেকে তিনি ১ কোটি ডলারের বেশি অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। গত সোমবার ১৮টি ফেডারেল অপরাধের জন্য তাকে নয় বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। মার্কিন আইনজীবী ব্রায়ান টি মোরান এ সাজার বিষয়টি জানিয়েছেন। খবর সিনেট।

ওয়াশিংটনের রেন্টনে বসবাসরত ইউক্রেনীয় নাগরিক ভলদিমির কেভাশুক প্রথমে মাইক্রোসফটের ঠিকাদার হিসেবে কাজ করেছিলেন। এরপর ২০১৬ সালের আগস্ট থেকে ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত চাকরি থেকে বরখাস্ত হওয়ার আগে পর্যন্ত তিনি প্রতিষ্ঠানটির কর্মী হিসেবে কাজ করেন।

দীর্ঘ তদন্ত ও বিচার শেষে গত ফেব্রুয়ারিতে কেভাশুক দোষী সাব্যস্ত হয়েছিরলন। পাঁচটি ওয়্যার জালিয়াত, ছয়টি মানি লন্ডারিং, দুটি পরিচয় জালিয়াতি, দুটি কর জালিয়াতি ও একটি মেইল জালিয়াতি, ডিভাইসে প্রবেশাধিকার ও সুরক্ষিত কম্পিউটারে প্রবেশসহ মোট ১৮টি অপরাধে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।

তার সাজার শুনানিতে মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট জজ জেমস এল রবার্ট বলেন, কেভাশুকের আইনের প্রতি কোনো শ্রদ্ধা ছিল না। মার্কিন আইনজীবী মোরান বলেন, এমনিতেই নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান থেকে চুরি করা যথেষ্ট খারাপ। তার ওপর চুরি করে সেটা আবার সহকর্মীদের ওপর দোষ চাপানো ক্ষতির পরিমাণ এতটা বাড়িয়ে তুলেছে যে তা ডলার-সেন্টের হিসাবে পরিমাপ করা সম্ভব নয়।

এ মামলার তদন্ত ও বিচারের জন্য অত্যাধুনিক প্রযুক্তিগত দক্ষতার প্রয়োজন ছিল। আমি সন্তুষ্ট যে আমাদের আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও মার্কিন অ্যাটর্নি অফিসের এ ধরনের অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা রয়েছে।

মামলার নথি ও বিচারের সাক্ষ্য অনুসারে, কেভাশুক মাইক্রোসফটের অনলাইন খুচরা বিক্রির প্লাটফর্মের পরীক্ষার সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং পরীক্ষার জন্য প্রবেশাধিকারের অপব্যবহার করেছিলেন। তিনি ডিজিটাল গিফট কার্ডের মতো মুদ্রার সঞ্চিত মান চুরি করেছিলেন। পরে এগুলো পুনরায় অনলাইনে বিক্রি করে তিনি ১৬ লাখ ডলারে লেকের পাশে বাড়ি ও ১ লাখ ৬০ হাজার ডলার দিয়ে টেসলা গাড়ি কিনেছিলেন।

প্রাথমিকভাবে কেভাশুক নিজের অ্যাকাউন্টের প্রবেশাধিকার ব্যবহার করে ছোট ছোট চুরির মাধ্যমে মোট ১২ হাজার ডলারের মতো বাগিয়ে নিয়েছিলেন। এরপর কোটি ডলার চুরির কাজে তিনি সহকর্মীদের পরীক্ষামূলক ই-মেইল আইডি ব্যবহার করেছিলেন।

কেভাশুক একজন প্রতিভাবান সফটওয়্যার ডেভেলপার ছিলেন। ডিজিটাল প্রমাণকে আড়াল করতে তিনি তার নানামুখী জ্ঞানকে কাজে লাগিয়েছিলেন। ব্যাংক হিসাবের অর্থের উৎস লুকানোর জন্য তিনি একটি বিটকয়েন মিক্সিং পরিষেবা ব্যবহার করেছিলেন। সব মিলিয়ে কেভাশুক সাত মাস ধরে অবৈধ কার্যকলাপে বিটকয়েনের প্রায় ২৮ লাখ ডলার তার ব্যাংক হিসাব ও বিনিয়োগের অ্যাকাউন্টগুলোতে স্থানান্তরিত করেছিলেন। এরপর জাল আয়কর বিবরণী ফরম জমা দিয়ে তিনি দাবি করেন ওই বিটকয়েন তার কোনো এক আত্মীয়ের উপহার ছিল।

অর্থসংবাদ/এসএ

 

আমরা সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।