১৫৯ কোটি টাকা অর্থ পাচারের মামলায় রাশেদ চিশতীর জামিন স্থগিত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২০-১১-১৩ ১০:৫৯:৪০, আপডেট: ২০২০-১১-১৩ ১১:০২:০৮

ফারমার্স ব্যাংকের (বর্তমান পদ্মা ব্যাংক) নিরীক্ষা কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক চিশতীর (বাবুল চিশতী) ছেলে রাশেদুল হক চিশতীর বিরুদ্ধে ১৫৯ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা অর্থ পাচারের এক মামলায় বিচারিক আদালতের জামিন স্থগিত করে আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বৃহস্পতিবার (১২ নভেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল বেঞ্চে এ আদেশ দেন। আদালতে আজ দুদকের পক্ষে ছিলেন মো. খুরশীদ আলম খান, রাশেদুল হক চিশতীর পক্ষে ছিলেন শাহরিয়ার বিপ্লব। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক।

আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, আদালত তার জামিন প্রশ্নে নতুন করে রুল জারি করেছেন এবং রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জামিন স্থগিত করেছেন। এর ফলে তার কারামুক্তি মিলছে না বলেও তিনি জানান।

এর আগে এ মামলায় বিচারিক আদালতের দেয়া জামিন স্থগিত করেছিলেন চেম্বার আদালত, যা পরে আপিল বিভাগও বহাল রাখেন। এরপর দুদক নিয়মিত আপিল করলে হাইকোর্ট তার শুনানি নিয়ে নতুন করে রুল জারি করেন এবং রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জামিন স্থগিত করেন।

গত ১৯ মে রাশেদুল হক চিশতীকে ঢাকার ভার্চুয়াল নিম্ন আদালত জামিন দিয়েছিল। পরে জামিন স্থগিত চেয়ে আবেদন করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

২০১৯ সালের ১৭ অক্টোবর ফারমার্স ব্যাংকের ১৫৯ কোটি ৯৫ লাখ ৪৯ হাজার ৬৪২ টাকা আত্মসাতের ঘটনায় করা মামলায় ব্যাংকটির নিরীক্ষা কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক চিশতীসহ (বাবুল চিশতী) তার স্ত্রী রুজী চিশতী, ছেলে রাশেদুল হক চিশতী, ফারমার্স ব্যাংকের চাকরিচ্যুত এসভিপি জিয়া উদ্দিন আহমেদ ও চাকরিচ্যুত ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ মাসুদুর রহমান খান বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র অনুমোদন দেয় দুদক। ২০১৮ সালের ১০ এপ্রিল এ মামলা করা হয়।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ব্যাংকিং নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে মাহবুবুল হক চিশতী ব্যাংক কর্মকর্তাদের সহায়তায় স্ত্রী, সন্তান ও নিজের নামে এবং নিজেদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় ২৫টি হিসাব খোলেন। পরে ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপকদের সহায়তায় গ্রাহকদের হিসাব থেকে পাঠানো ১৫৯ কোটি ৯৫ লাখ ৪৯ হাজার ৬৪২ টাকা ওই ২৫টি হিসাবে স্থানান্তর করেছেন। এসব টাকা নিজেদের হিসাবে স্থানান্তর, হস্তান্তর ও লেয়ারিংয়ের পাশাপাশি নিজেদের নামে কেনা শেয়ারের দাম পরিশোধ করেছেন।

এতে আরও বলা হয়, লেনদেনের একটি বড় অংশই হয়েছে গুলশান শাখা থেকে। ২০১৩ সালের নভেম্বর মাস থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত বখশীগঞ্জ জুট স্পিনার্সের চলতি হিসাবে গুলশান প্রায় ১৩৯ কোটি টাকা জমা হয়। এর পুরোটাই নগদে তুলে নেয়া হয়। বাকি ২১ কোটি টাকা বিভিন্ন হিসাব থেকে লেনদেন হয়।

মামলার পরপরই চিশতীসহ চারজনকে রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকা থেকে গ্রেফতার করে দুদক। অন্য তিনজন হলেন- চিশতীর ছেলে রাশেদুল হক চিশতী, ব্যাংকের এসভিপি জিয়াউদ্দিন আহমেদ এবং ফার্স্ট প্রেসিডেন্ট মাসুদুর রহমান খান।

অর্থসংবাদ/ এমএস

 

আমরা সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।